kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়

মাইমুনা আক্তার   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৫:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়

মহান আল্লাহ আমাদের দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন, তাঁর ইবাদত করার জন্য। তাঁর আদেশ-নিষেধ রাসুল (সা.)-এর সুন্নত মোতাবেক মেনে আমাদের আখিরাত সাজানোর জন্য। কারণ মানুষের স্থায়ী আবাসস্থল পরকালই। দুনিয়াতে সবাই অস্থায়ী। আমাদের প্রকৃত গন্তব্য পরকাল। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর দুনিয়ার জীবন তো খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম; অতএব, তোমরা কি অনুধাবন করো না?’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৩২)

এ জন্য আমাদের উচিত, প্রতিটি ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া, দুনিয়ার স্বার্থের ওপর পরকালের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া। 

মূল্যহীন এই দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের জন্য কখনো আল্লাহর নির্দেশনার বিরুদ্ধে না যাওয়া। কখনো কখনো আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য মানুষকে অসন্তুষ্ট করতে হয়। মানুষের জীবন পরিস্থিতি চলে আসে, যে এই মুহূর্তে পরিবার বা আশপাশের মানুষকে খুশি করতে গেলে আল্লাহর নিষেধ করা কোনো কাজ করতে হবে। যারা এমন মুহূর্তগুলোতেও আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিতে পারে, আল্লাহ তাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি : ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি আকাঙ্ক্ষা করে তা মানুষের অসন্তুষ্টির কারণ হলেও, মানুষের দুঃখ-কষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ তাআলাই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৪)

আর যার জন্য মহান আল্লাহ যথেষ্ট হয়ে যান, গোটা পৃথিবী তার বিরুদ্ধে চলে গেলেও তার কিছুই যাবে-আসবে না।

তা ছাড়া দুনিয়ার মোহ মানুষকে সুখ দিতে পারে না; বরং তা মানুষের অস্থিরতার মূল কারণ। মানুষ যখন দুনিয়ার মোহে পড়ে অন্ধ হয়ে যায়, তখন তাকে যাবতীয় অকল্যাণ গ্রাস করে ফেলে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পার্থিব চিন্তা যাকে মোহগ্রস্ত করবে, আল্লাহ তার কাজকর্মে অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন, দরিদ্রতা তার নিত্যসঙ্গী হবে এবং পার্থিব স্বার্থ ততটুকুই লাভ করতে পারবে, যতটুকু তার তকদিরে লিপিবদ্ধ আছে। আর যার উদ্দেশ্য হবে পরকাল, আল্লাহ তার সব কিছু সুষ্ঠু করে দেবেন, তার অন্তরকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত করবেন এবং দুনিয়া স্বয়ং তার সামনে এসে হাজির হবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪১০৫)

সুবহানাল্লাহ, তাই প্রতিটি মানুষের উচিত, সব ক্ষেত্রে পরকালকে প্রাধান্য দেওয়া, আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া, সব ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর ওপরই ভরসা করা। এতে যেমন দুনিয়ার জীবন সুখময় ও বরকতময় হবে, তেমনি আখিরাতের জীবনও হবে ঐশ্বর্যমণ্ডিত। হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যদি প্রকৃতভাবেই আল্লাহ তাআলার ওপর নির্ভরশীল হতে, তাহলে পাখিদের যেভাবে রিজিক দেওয়া হয় সেভাবে তোমাদেরও রিজিক দেওয়া হতো। এরা সকালবেলা খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যা বেলায় ভরা পেটে ফিরে আসে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৪৪)

মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন।



সাতদিনের সেরা