kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কোরআনের বর্ণনায় যেসব অভ্যাস নিন্দনীয়

মাইমুনা আক্তার   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১১:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোরআনের বর্ণনায় যেসব অভ্যাস নিন্দনীয়

কিছু অভ্যাস এমন আছে, যেগুলো মানুষকে মুনাফিকের কাতারে নামিয়ে দেয়। তাই প্রতিটি মানুষের উচিত, এ ধরনের অভ্যাস পরিত্যাগ করা। নিম্নে পবিত্র কোরআনের আলোকে এমন কিছু মন্দ অভ্যাস তুলে ধরা হলো—

ইবাদতে অলসতা : ইবাদত মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। ইবাদতে অবহেলা ও অলসতা আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই কোনো অবস্থাতেই ইবাদতে অলসতা করা যাবে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যখন তারা নামাজে দাঁড়ায় তখন শৈথিল্যের সঙ্গে দাঁড়ায়—শুধু লোকদেখানোর জন্য এবং আল্লাহকে তারা অল্পই স্মরণ করে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৪২)

ধোঁকা দেওয়া : মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে। আসলে তারা নিজেদেরই ধোঁকায় ফেলে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৪২)

আল্লাহর বিধান অপছন্দ করা : মহান আল্লাহর দেওয়া বিধান অপছন্দ করা মুনাফিকের লক্ষণ। তাই মহান আল্লাহর কোনো বিধান অপছন্দ করা যাবে না। ইরশাদ হয়েছে, ‘এটা এ জন্য যে আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তারা তা অপছন্দ করেছে। কাজেই তিনি তাদের আমল নিষ্ফল করে দিয়েছেন।’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ৯)

কৃপণতা : আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার ক্ষেত্রে কৃপণতা মুনাফিকের অভ্যাস। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মুনাফিক পুরুষরা ও মুনাফিক নারীরা একে অন্যের অনুরূপ। তারা অসৎ কর্মের নির্দেশ দেয়, সৎর্ম থেকে বিরত রাখে এবং নিজেদের হাত (আল্লাহর পথে ব্যয় করা থেকে) গুটিয়ে রাখে।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬৭)

ওয়াদা ভঙ্গ করা : ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর কাছে অঙ্গীকার করেছিল, আল্লাহ নিজ কৃপায় আমাদের দান করলে আমরা অবশ্যই সদকা করব এবং অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবো। অতঃপর যখন তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদের দান করেন, তখন তারা এ বিষয়ে কার্পণ্য করল এবং বিমুখ হয়ে গেল। পরিণামে তিনি তাদের অন্তরে মুনাফেকি রেখে দিলেন—আল্লাহর সঙ্গে তাদের সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত। তারা আল্লাহর কাছে যে অঙ্গীকার করেছিল, তা ভঙ্গ করার কারণে এবং তারা যে মিথ্যা বলেছিল সে কারণে।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭৫-৭৭)

মুমিনের বিপদে খুশি হওয়া : ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মঙ্গল হলে তা তাদের কষ্ট দেয়, আর তোমাদের অমঙ্গল হলে তারা তাতে আনন্দিত হয়। তোমরা যদি ধৈর্যশীল হও এবং মুত্তাকি হও, তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তারা যা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে আছেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১২০)

আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ : ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি কি তাদের দেখেননি, যারা দাবি করে যে আপনার প্রতি যা নাজিল হয়েছে এবং আপনার আগে যা নাজিল হয়েছে তাতে তারা ঈমান এনেছে, অথচ তারা তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়, যদিও সেটাকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর শয়তান তাদের ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট করতে চায়। তাদের যখন বলা হয়, আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তার দিকে এবং রাসুলের দিকে এসো, তখন মুনাফিকদের আপনি আপনার কাছ থেকে একেবারে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখবেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৬০-৬১)

সংশোধনের নামে ষড়যন্ত্র করা : কিছু মানুষ ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়। পবিত্র কোরআনে এই অভ্যাসকে মুনাফিকের অভ্যাস আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যখন তাদের বলা হয়, তোমরা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি কোরো না, তারা বলে, আমরা শুধু সংশোধনকারী।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১১)

ভ্রষ্টতা পছন্দ করা : ইরশাদ হয়েছে, ‘এরাই তারা, যারা হিদায়াতের বিনিময়ে ভ্রষ্টতা কিনেছে। কাজেই তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি। আর তারা হিদায়াতপ্রাপ্তও নয়।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬)

মিথ্যা বলা : ‘তারা তাদের শপথকে ঢালরূপে ব্যবহার করে, আর তারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিরত রাখে। তারা যা করছে, তা কত মন্দ!’ (সুরা : মুনাফিকুন, আয়াত : ২)

মহান আল্লাহ সবাইকে মুনাফিকি অভ্যাস ত্যাগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।



সাতদিনের সেরা