kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

করোনাকালে দেড় শতাধিক বই পড়ে তুর্কি শিশুর চমক

অনলাইন ডেস্ক   

১৬ জুন, ২০২১ ১৮:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাকালে দেড় শতাধিক বই পড়ে তুর্কি শিশুর চমক

করোনাকালে বন্দী সময়ের চাপ কমাতে তুরস্কের এক শিশু দেড় শতাধিক বই পাঠ করে চমকে দেন সবাইকে। কভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার পর গত এক বছরে ১০ বছর বয়সী এই শিশু এতগুলো বই পাঠ করে। 

নাসা দাওনাহ তুরস্কের উসমানিয় প্রদেশের শুকুরুভা এলাকায় অধিবাসী। গত বছর তাঁর বাবা করোনায় আক্রান্ত হন। তখন পরিবারের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়। এই সময়ে সে ১৭৫টি বই পড়ে শেষ করে। 

ইস্তাম্বুলের আইউব সুলতান এলাকায় নাসা প্রাথমিক স্কুলে পড়ে। শৈশব থেকে তাঁর পড়াশোনার আগ্রহ তৈরি হয়। কারণ ছোটবেলা থেকে সে বাবা-মাকে বই পড়তে দেখে আসছে। বাবা-মার কাছে সব সময় সে খেলাধূলার সামগ্রির বদলে বই চাইত। 

নাসার বাবা করোনায় আক্রান্ত হলে সবার মতো তাকেও কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়। গত বছরের এপ্রিলে সে বই পড়া শুরু করে। বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্কুল শিক্ষক তার খালা তাকে অনেক সহায়তা করেন। এরপর পুরো এক বছর সে বই পড়ায় সময় কাটায়। 

নাসা প্রতিদিন মধ্যম ধরনের বইয়ের প্রায় ৯০ পৃষ্ঠা পড়ত। এ সময়ে বিভিন্ন বিষয়ের অনেক বই পড়ে। এমনকি আন্তর্জাতিম মানের ক্লাসিক্যাল বইও সে পড়ে শেষ করে। মূলত পড়তে শেখার পর থেকে নিয়মিত সে বই পাঠ শুরু করে। যা পরবর্তীতে তার অভ্যাসে পরিণত হয়। 

নাসা বলেন, ‘প্রতিদিন আমার খালা ফোন দিয়ে প্রতিদিন বই পড়ার পরামর্শ দেন। এরপর থেকে আমি পঠিত বইয়ের সারাংশ তৈরি করতাম। এবং রাতেরবেলা উভয়ে তা নিয়ে আলোচনা করতাম।’ 

নাসা আরো বলেন, ‘অধিকাংশ সময় তিনি প্রশ্ন করতেন, আর আমি জবাব দিতাম। তখন থেকে বই পড়ার প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়। এমনকি বই পড়ে নিজের মধ্যে স্বস্তিবোধ করি। একটি বই শেষ হলে আরেকটি পড়ার আগ্রহ তৈরি হতো।’

‘তাছাড়া যেকোনো বিষয়ক বিস্তারিত জানার ইচ্ছা হতে থাকে। এক পর্যায়ে বিশ্বের বিভিন্ন সেরা লেখক ও তাদের চিন্তা-চেতনা সম্পর্কে আমার ব্যাপক জানাশোনা তৈরি হয়। ফরাসি ও রুশ ভাষার ক্লাসিক্যাল সাহিত্যের অনেক বই আমি পড়তে থাকি।’ 

নাসার মা মারয়াম তাশতাবাহ জানান, ‘নাসা খুবই মেধাবী ও পরিশ্রমী মেয়ে। বই পড়ার পাশাপাশি সে গৃহস্থালী অনেক কাজে সহায়তায় এগিয়ে আসে। সে ছোট থাকাকালে আমি ও তার বাবা পালাক্রমে তাকে বই পড়ে শোনাতাম। এখন বই পড়া তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এখন সে আমাদের কাছে খেলাধুলার বদলে শুধুমাত্র বই আর বই চায়। প্রতি রমজানে ইস্তাম্বুলের বইমেলায় সে খুব আগ্রহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করে।’

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি 



সাতদিনের সেরা