kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

রোগ-ব্যাধি যেভাবে মানুষকে আল্লাহমুখী করে

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

৪ জুন, ২০২১ ১১:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোগ-ব্যাধি যেভাবে মানুষকে আল্লাহমুখী করে

কখনো কখনো রোগব্যাধির মাধ্যমেও মানুষ মুসিবতের সম্মুখীন হয়। কারণ একজন মানুষ অসুস্থ শরীর নিয়ে বিছানায় পড়ে থাকা অবস্থায় যখন চলাফেরা করতে থাকা সুস্থ লোকদের দেখতে থাকে, তখন তার মাঝে জেগে ওঠে তাওবার মনোভাব। আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে তার মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘(আখিরাতে) কঠিন শাস্তির আগে (দুনিয়ায়) আমরা তাদের অবশ্যই লঘু শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাব, যাতে তারা (আল্লাহর পথে) ফিরে আসে।’ (সুরা : সাজদাহ, আয়াত : ২১)

পৃথিবীতে এমন অনেক পাপী মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়, যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পাপ ছেড়ে আল্লাহর আনুগত্যে ফিরে এসেছে। অবাধ্যতার জীবন থেকে পবিত্র জীবনের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে। নিঃসন্দেহে তাদের জন্য এই রোগব্যাধি কল্যাণকর ছিল। তা ছাড়া রোগে-শোকে মানুষের মন সব সময় আল্লাহমুখী থাকে। বান্দা রোগাক্রান্ত হয়ে আল্লাহকে যে আবেগ ও মিনতি নিয়ে ডাকে, সুস্থ অবস্থায় সেই আবেগ ও বিনয়ী ভাব নিয়ে খুব কমই ডাকতে পারে। সুতরাং রোগ পাপী বান্দাকে তাওবার সুযোগ করে দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর (তাদের অবিশ্বাসের কারণে) আমি তাদের অভাব-অনটন ও রোগব্যাধি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম, যাতে তারা কাকুতি-মিনতিসহ আল্লাহর প্রতি বিনীত হয়।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৪২)

ইমাম তাবারি (রহ.) বলেন, এই আয়াতের অর্থ হলো, ‘আমরা তাদের কঠিন দারিদ্র্য ও রোগ্যব্যাধি দিয়ে পরীক্ষা করেছি, যাতে তারা আমার কাছে কাকুতি-মিনতি করে এবং ইবাদত-বন্দেগিতে একনিষ্ঠ হয়।’ (তাফসিরে তাবারি : ৭/১৯২)

তা ছাড়া রোগব্যাধি মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কারণ আমাদের জীবন একটি মৃত্যুপুরীর মতো। জীবনের বাঁকে বাঁকে আমরা মৃত্যুর মুখোমুখি হই। আমরা যখন ঘুমাই তখন মৃত্যুবরণ করি। যখন অসুস্থ হয়ে যাই, তখন সুস্থতার মৃত্যু ঘটে। জীবনের নতুন ধাপে পৌঁছলে আগের ধাপের মৃত্যু ঘটে। যেমন যৌবনে শৈশবের মৃত্যু ঘটে। আবার বার্ধক্য যৌবনের মৃত্যু ডেকে আনে। আমরা জীবনের সঙ্গে যতটুকু মিশি, তার চেয়ে অধিক মিশি মৃত্যুর সঙ্গে।

এ জন্য আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের উপদেশ দিয়ে বলেছেন, ‘পাঁচ বস্তুকে পাঁচ বস্তুর আগে গনিমত মনে করো। বার্ধক্যের আগে তোমার যৌবনকে, অসুস্থতার আগে তোমার সুস্থতাকে, দরিদ্রতার আগে তোমার সচ্ছলতাকে, ব্যস্ততার আগে তোমার অবসরকে এবং মরণের আগে তোমার জীবনকে।’ (নাসায়ি, সুনানুল কুবরা, হাদিস : ১১৮৩২; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস : ৭৮৪৬)



সাতদিনের সেরা