kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

ফিলিস্তিনি ‘কুফিয়াহ’ স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্য

অনলাইন ডেস্ক   

২৭ মে, ২০২১ ১৫:১৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ফিলিস্তিনি ‘কুফিয়াহ’ স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্য

মাথায় ফিলিস্তিনি কুফিয়াহ পরা নারীরা।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রতীক কুফিয়াহ বা কেফিয়াহ। গলায় বা মাথায় সাদা ও কালো বর্ণের এ রুমাল পরা গত ছয় দশক যাবত ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন ও সংহতি প্রকাশের অন্যতম ঐতিহ্য  হিসেবে চলে আসছে। 

কিন্তু সম্প্রতি জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলে ফিলিস্তিনি কুফিয়াকে সন্ত্রাসীদের পোশাক বলে জানাচ্ছে। গুগলে ইংরেজি ভাষায় ‘সন্ত্রাসীরা মাথায় কী পরেন?’ (হোয়াট ডো টেরোরিস্ট উয়ার অন দেয়ার হেডস?) লিখে সার্চ দিলে তাতে ফিলিস্তিনি কুফিয়ার ছবি দেখা যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় ‍শুরু হয়। 

ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিকৃত করায় আরব ও ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এটিকে তাঁরা সত্য গোপন করার অপপ্রয়াস বলে আখ্যায়িত করছেন। 

ফিলিস্তিনি কুফিয়াহ দেশটির স্বাধীনতা-সংগ্রাম ও জাতীয়তাবাদের ঐতিহ্য ও প্রতীক। ১৯৬০ সাল থেকে ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের মাধ্যমে তা বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিন আন্দোলনের প্রতীক। কুফিয়াহ পরিধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়। 

কুফিয়াহ পরা ফিলিস্তিনের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাত। 

ফিলিস্তিনিদের ওপর সর্বশেষ ইসরায়েলি হামলার পর গুগল কোম্পানির কর্মকর্তারা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। এমনকি তাঁরা কোম্পানির কাছে চলমান ঘটনার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। এরপর গুগলের এমন ‘সত্য বিকৃতি’তে সীমাহীন বিস্ময় প্রকাশ করে সবাই। 

দ্য আরব সেন্টার ফর সোস্যাল মিডিয়া নির্বাহী পরিচালক নাদিম নাশিফ বলেন, ‘বিশ্বের বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কীভাবে ফিলিস্তিনিদের সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ এটি তা প্রমাণ করে। গুগল অনুসন্ধানে কুফিয়ার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক কীভাবে হলো, তা অস্পষ্ট। গুগলের নীতিমালগুলো কীভাবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ, তাদের সম্পর্কে ভুল তথ্য সরবরাহ, বিশৃঙ্খলা প্রসার, বর্ণবাদি ও মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে এ বিষয়ে নথিপত্র তৈরি করতে আমাদের প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।’ 

এদিকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিন ও আরব বিশ্বের সব ব্যবহারকারীর কাছে ফিলিস্তিন ইস্যুর পক্ষে অবস্থান নিয়ে পোস্ট নিষিদ্ধ করায় দুঃখ প্রকাশ করেছে। তাছাড়া ইনস্টাগ্রামে  আল আকসা মসজিদের ছবি মুছে ফেলার ঘটনায় কোম্পানিটি দুঃখ প্রকাশ করে। এটিকে তাঁরা বিষয়বস্তু পর্যালোচনার অ্যালগরিদম সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে আখ্যায়িত করে। 

সূত্র : মিডল ইস্ট আই 



সাতদিনের সেরা