kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

অর্থ দিয়ে সত্যিকার আলেমকে কেনা যায় না

ড. সাদিক হুসাইন    

২২ মে, ২০২১ ১৩:৪৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অর্থ দিয়ে সত্যিকার আলেমকে কেনা যায় না

ইরানি মসজিদ, জুমাইরাহ, দুবাই।

বাক্কার ইবনে কুতায়বা। হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর অন্যতম বুজুর্গ আলিম ও ফিকাহবিদ। তৎকালীন মিসরে তিনি বিচারক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ফিকহে হানাফির যুগশ্রেষ্ঠ মুফতি। দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ মনোভাব ও দোয়া কবুলের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন তিনি। হাজার হাজার ভক্ত-অনুরক্ত শরিক হতো তাঁর দরস ও মজলিসে। তন্ময় হয়ে শুনত তাঁর হৃদয়গ্রাহী ওয়াজ-নসিহত। জীবনঘনিষ্ঠ নানা বিষয়ে প্রদত্ত তাঁর প্রজ্ঞাময় রায় ও ফতোয়া দ্বারা পুরো মিসর উপকৃত হতো। 

সেসব মজলিশে নিয়মিত উপস্থিত হতেন তখনকার মিসরের শাসক আহমদ ইবনে তুলুনও। ভক্তির নজরানা হিসেবে প্রতিবছর তিনি শায়খের কাছে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা উপঢৌকন পাঠাতেন। এভাবে ১৮ বছর কেটে যায়।

একদিন আহমদ ইবনে তুলুন শায়খ বাক্কার ইবনে কুতায়বা (রহ.)-কে একটি ফতোয়ায় স্বাক্ষর করতে বলেন। ফতোয়া পড়ে শায়খ দেখলেন, ফতোয়াটি শরিয়তবিরোধী। তিনি স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। এতে চটে যান শাসক আহমদ ইবনে তুলুন। নিজ অভিমতের বিরুদ্ধে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই ভুলে গেলেন শায়খের প্রতি ১৮ বছরের ভক্তি-শ্রদ্ধা।

শুধু তা-ই নয়; শায়খকে চাপে ফেলতে এক ঘৃণ্য কৌশল হাতে নিলেন। আহমদ ইবনে তুলুন বলেন, ১৮ বছর ধরে উপঢৌকন হিসেবে রাজদরবার থেকে যে ১৮ হাজার স্বর্ণমুদ্রা আপনাকে দেওয়া হয়েছে তা ফেরত দিন। তার ধারণা ছিল, শায়খ বাক্কার স্বর্ণমুদ্রাগুলো এত দিনে হয়তো হজম করে ফেলেছেন। বেকায়দা পড়ে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হবেন ওই ফতোয়ায়।

তার কথা শুনে শায়খ ঘরে ঢোকেন। ভেতর থেকে একে একে ১৮ হাজার স্বর্ণমুদ্রাভর্তি ১৮টি থলে ঠিক যেভাবে তাঁকে দেওয়া হয়েছিল সেভাবেই বের করে ফিরিয়ে দিলেন। থলের মুখে লাগানো সরকারি সিল বা গিঁটও খুলেননি তিনি। স্বর্ণমুদ্রাগুলো (যার বর্তমান মূল্য প্রায় সোয়া দুই মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ) ফিরিয়ে দিয়ে যুগের শাসককে অনেকটা মুখের ওপর জানিয়ে দিলেন, ‘আঠারো হাজার কেন; এ রকম কোটি স্বর্ণমুদ্রা দিয়েও একজন আলেমের ঈমান বা বিবেক কেনা যায় না।’

(সূত্র : ইবনে খাল্লিকান লিখিত ওফাইয়াতুল আ’য়ান)



সাতদিনের সেরা