kalerkantho

শনিবার । ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১২ জুন ২০২১। ৩০ শাওয়াল ১৪৪২

অন্যকে গালি দেওয়া কঠিন পাপ

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

২২ মে, ২০২১ ১১:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অন্যকে গালি দেওয়া কঠিন পাপ

ক্যানেল ভিউ মসজিদ, গুজরানওয়ালা, পাঞ্জাব পাকিস্তান।

গালিগালাজ বা শব্দ বোমা, যে নামেই ব্যাখ্যা করি, তা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। কিন্তু কিছু কিছু পরিবেশে এটিকে মন্দ ভাবা হয় না। যেমন—কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে নাকি গালি দিতেই হয়। এমন অনেক বিভাগ আছে, যেখানে গালি দেওয়া ছাড়া কথাই যেন পূর্ণ হয় না।

সবচেয়ে দূঃখের বিষয় হলো, তারা যে অশ্লীল গালিগুলো দেয়, তার বেশির ভাগই হয় মা-বাবা তুলে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কিন্তু তাদের পরিভাষায় এটা নাকি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। কাছের বন্ধুকে, বিশ্বস্ত কর্মচারীকে তারা এ ধরনের গালি দেওয়া ছাড়া কথাই বলতে পারেন না। অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, মুমিন কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপদাতা, অশ্লীলভাষী ও গালাগালকারী হয় না। (তিরমিজি, হাদিস : ২০৪৩)

অন্যকে গালি দেওয়ার পরিণাম : অথচ রাসুল (সা.) ‘কবিরা গুনাহগুলোর একটি হলো নিজের মা-বাবাকে অভিশাপ করা।’ জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আল্লাহর রাসুল, মানুষ নিজের মা-বাবাকে কিভাবে অভিশাপ করে?’ তিনি বলেন, ‘যখন সে অন্যের বাবাকে গালাগাল করে, তখন সে নিজের বাবাকেও গালাগাল করে থাকে। আর যে অন্যের মাকে গালি দেয়, বিনিময়ে সে তার মাকেও গালি দেয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯৭৩)

মুসলিমকে গালি দেওয়া পাপ : তাই দুষ্টুমির ছলেও কাউকে গালি দিয়ে কথা বলা উচিত নয়। কাউকে কন্ট্রোল করার জন্য বাজে ব্যবহার করতে হবে, এটা আমাদের বানানো নীতি। এটি আমাদের ব্যক্তিত্বকে খাটো করে দেয়। কোনো মুমিন এ ধরনের পথ অবলম্বন করতে পারে না। কারণ রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকি। আর তার সঙ্গে লড়াই ঝগড়া করা কুফরি। (বুখারি, হাদিস : ৬০৪৫)

দুষ্টুমির ছলে গালাগালির প্রসার : ইদানীং অনেকে বিকৃত মস্তিষ্কের এক গায়কের গালিসংবলিত গান নিয়ে ভীষণ ট্রলে মজে আছেন। অনেক সময়, দুষ্টুমির ছলে বিভিন্ন জায়গায় নিজেরাই এই অশ্লীল গানগুলো গাইতে শুরু করেন। আবার সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেন। এটা জঘন্য অপরাধ। কারণ এর মাধ্যমে সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ছে। আর তাতে উসকানি দিচ্ছে, ভাইরাল হওয়ার উম্মাদনা নামক একটি ভাইরাস।

যারা এ ধরনের উম্মাদনায় সমাজে অশ্লীলতা ছড়াচ্ছে, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা পছন্দ করে যে মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও পরকালে রয়েছ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি; আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না। (সুরা : নূর, আয়াত : ১৯)

অশ্লীলতা প্রসারে কঠিন পাপ : তা ছাড়া এভাবে অশ্লীলতা ছড়ানোর কারণে যত মানুষ এর দ্বারা প্রভাবিত হবে, এ ধরনের অশ্লীল গালি শিখবে, গানে গানে তার চর্চা করবে, সবার গুনাহের সমপরিমাণ অংশ যিনি ছড়িয়েছেন, তার কাঁধে আসবে।

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে নেক কাজের দাওয়াত দেবে সে ওই লোকদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; যারা তার দাওয়াত পেয়ে নেক কাজ করবে অথচ তাদের সওয়াবের সামান্যও হ্রাস পাবে না। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি মানুষকে গুনাহের কাজের দাওয়াত দেবে সে ওই লোকদের সমপরিমাণ গুনাহ পাবে, যারা তার দাওয়াত পেয়ে গুনাহের কাজ করবে। অথচ তাদের গুনাহ হ্রাস পাবে না।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৯৮০)

তাই আমাদের উচিত, অশ্লীল গালাগালসহ সব অশ্লীল জিনিস ত্যাগ করা। মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করা এবং অশ্লীলতা ছড়ানো থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রকৃত মুমিন হওয়ার তাওফিক দান করুক। আমিন।



সাতদিনের সেরা