kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

ঈদের আনন্দ যেভাবে উপভোগ করবেন

মাওলানা মুহাম্মাদ নোমান বিন শামস   

১৩ মে, ২০২১ ১৯:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈদের আনন্দ যেভাবে উপভোগ করবেন

রমজানের প্রাণবন্ত সময় শেষ। অবারিত রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অপার সুযোগ সমাপ্ত। এখন মুমিন হৃদয় দুলছে ঈদের খুশিতে। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে মুসলমানদের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে  বিশেষ উপহার ঈদ উৎসব। 

মুসলিমদের আনন্দের দুই দিন : পৃথিবীর অধিকাংশ জাতির উৎসব শুধুই আনন্দ-বিনোদন কেন্দ্রিক। কিন্তু ইসলাম মুসলমানদের উৎসবের জন্য যে দুটি দিন দিয়েছে, তাতে রয়েছে আনন্দ বিনোদনের পাশাপাশি এক মহান বার্তা। প্রতিটি মুসলমানের জন্যই ঈদ অনাবিল আনন্দ ও সুখের সময়। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় আগমনের পর দেখলেন, মদীনাবাসী দুটি ঈদ পালন করছে। তা দেখে তিনি বললেন, (জাহেলিয়াতে) তোমাদের দুটি দিন ছিল যাতে তোমরা আনন্দ ও খেলাধুলা করতে। ওই দিনের বদলে আল্লাহ তোমাদেরকে দুটি উত্তম দিন দিয়েছেন; ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার দিন।’ (আবু দাউদ, হাদিস নং : ১১৩৬, নাসাঈ, হাদিস নং : ১৫৫৬)

অন্য হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই প্রত্যেক জাতির খুশির দিন রয়েছে। আর ঈদ হলো আমাদের খুশির দিন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৯৫২)।

মুনিনের জন্য বিশেষ উপহার : দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা, ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে একজন মুসলমান প্রকৃত মানুষ হওয়ার, আল্লাহর রহমত প্রাপ্তির, মাগফিরাত লাভ এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি অর্জনের যে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই প্রচেষ্টারই একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হচ্ছে ঈদ। নিজের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীসহ সবাইকে এ আনন্দঘন মুহূর্তে সবাইকে অংশীদার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।  

রোজাদারের আনন্দ : মূলত যারা রোজা পালন করেছেন তাদের জন্য ঈদুল ফিতর আনন্দ ও উৎসবের দিন।ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ (রা.) ঈদের দিন কাঁদছিলেন। কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আজ খুশির দিন ওই ব্যক্তির জন্য, যার রোজা কবুল হয়েছে।

আউস বিন সাবিত আনসারি থেকে বর্ণিত, ঈদুল ফিতরের দিন হলো পুরস্কার লাভের দিন। এদিন একদল ফেরেশতা দাঁড়িয়ে থাকেন এবং বলতে থাকেন, হে প্রশান্ত বান্দা তোমরা দয়াময় প্রভুর দিকে ছুটে চলো। তিনি তোমাদের কল্যাণ দান করবেন। তিনি তোমাদের পুরস্কার দেবেন। (তাবরানি, হাদিস নং : ১/২২৬)

ঈদের রাতের দোয়া : আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত এবং দুই ঈদের রাত এই পাঁচ রাতে কোনো দোয়া করে; তাঁর কোনো দোআ ফিরিয়ে দেয়া হয় না অর্থাৎ কবুল হয়।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭৯২৭)

আবু উমামা বাহেলি (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে আল্লাহর কাছে সওয়াব প্রাপ্তির নিয়তে ইবাদত করবে তার হৃদয় সেদিনও জীবিত থাকবে যেদিন সকল হৃদয়ের মৃত্যু ঘটবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৮২)

ঈদের দিনের সুন্নত ও মুস্তাহাব আমল : ঈদের দিনের সুন্নত ও মুস্তাহাব নিম্নে উল্লেখ করা হলো। এক. ঈদের নামাজের আগে গোসল করা। দুই. পরিষ্কার পোশাক পরা। তিন. সুগন্ধি ব্যবহার করা। চার. বড় জামাতে নামাজ পড়া। পাঁচ. সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হলে ঈদের নামাজের আগে তা আদায় কর। ছয়. হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া। সাত. এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরা। আট. ঈদের জামাতের আগে মিষ্টি যাতীয় খাওয়। নয়. ঈদগাহের ধীরস্থিরভাবে যাওয়া। দশ. একই সঙ্গে ঈদের জামাতে যাতায়াতকালে তাকবির ধ্বনি দেওয়া। (ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৬, ৫৫৭, ৫৫৮; হেদায়া : ২/৭১; বোখারি : ১/১৩০, ইবনে মাজাহ : ৯২) 

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় সুন্নত : জুবাইর ইবনু নুফাইর (রা.) বর্ণিত, তিনি বলেন- নবীজী (সা.)-এর সাহাবোয়ে কেরাম ঈদের দিন পরস্পর সাক্ষাৎ হলে বলতেন ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিন কুম’ অর্থাৎ আল্লাহ আমার ও আপনার যাবতীয় ভাল কাজ কবুল করুক। (ফাতহুল ক্বাদির, ২খন্ড, ৫১৭)

আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, পাড়া-পড়শী, ও গরীব-দুঃখীদের খুঁজ-খবর নেওয়া ও তাদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা ঈদের দিনের অন্যতম আমল। আনন্দ-বিনোদনের নামে কেউ যেন ইসলামী শরিয়ত পরিপন্থী কাজে লিপ্ত না হয়, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। পরিশেষে, রাব্বুল আলামিনের দরবারে প্রার্থনা করি, সকল মুসলিমের ঈদ হোক আনন্দের। ঈদ হোক পুণ্যের।



সাতদিনের সেরা