kalerkantho

শনিবার । ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১২ জুন ২০২১। ৩০ শাওয়াল ১৪৪২

অনাথ শিশুদের কোরআন শেখাতে অভিনব পন্থা

অনলাইন ডেস্ক   

৫ মে, ২০২১ ১৮:০৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অনাথ শিশুদের কোরআন শেখাতে অভিনব পন্থা

আনন্দমুখর পরিবেশে অনাথ শিশুদের কোরআন শেখান ইয়াহিয়া এডওয়ার্ড।

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা শহরে শিশুদের পবিত্র কোরআন শেখান ইয়াহিয়া এডওয়ার্ড হেন্ড্রয়ান। অনাথ শিশুদের আনন্দ-উদ্দীপনায় রাখতে ক্লাউন পোশাক পরেন তিনি। ফলে শিশুদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

শিশুদের আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষা দিতে ইয়াহইয়া নানা উপায় বের করেন। গত ১৩ বছর যাবত তিনি বেন্টন প্রদেশের টেঙ্গারেং শহরের দারুস সালাম আল নুর মসজিদে কোরআন শিক্ষা দেন। 

কোরআন পড়ানোর সময় ইয়াহইয়া মাথায় সাদা টুপি পরেন। তাঁর গায়ে থাকে হলুদ ও নীল বর্ণের বিশেষ কাপড়। গত ১১ বছর যাবত তিনি ক্লাউন পোশাকে শিশুদের উৎসবমুখর পরিবেশে পড়াচ্ছেন বলে জানান তিনি। এই পোশাক পরতে তাঁর মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগে। পাঁচ বছর বয়সী সন্তানও তাঁর মতো পোশাক পরায় তাঁর সঙ্গী হোন। 

অনাথ শিশুদের কোরআন শিখিয়ে ইয়াহইয়া কোনো অর্থ নেন না। বরং বিভিন্ন পার্টি ক্লাউনে কাজ করে নিজের উপার্জনের যোগান দিতেন। কিন্তু চাহিদা কমায় এসব পোশাক পরে এখন আর অর্থোপার্জন করা যায় না। তাই এখন তিনি একটি চায়ের স্টল দিয়ে ঘরে তৈরি খাবার বিক্রি করতে বাধ্য হোন। 

শিশুদের আনন্দ দিতে ক্লাউন পোশাক তাঁর কাছে খুবই মাননসই মনে হয়। তাই এই পোশাকে শিশুদের কোরআন শেখাতে শুরু করেন তিনি। প্রথম দিকে অনেকে তাঁর সমালোচনা করে। 

করোনা মহামারিকালেও সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অনেক শিশু তাঁর কাছে নিয়মিত কোরআন শিখতে আসে। তাঁর রসিকতাপূর্ণ কথায় সবাই আনন্দ অনুভব করে। 

ইয়াহইয়া বলেন, আমার বাবা আমাকে এই পোশাকে দেখে খুবই অবাক হোন। এদিকে আমার স্ত্রী আমাকে অন্য চাকরি খুঁজতে বলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁরা সবাই আমার ধরনকে গ্রহণ করেন। 

কোরআনের পাঠ শুরু করার আগে ইয়াহইয়া শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে কিছু কৌতুক বলেন। অনেক সময় ইসলাম বিষয়ক নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে শিশুদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করেন। 

ক্লাস শুরুর আগে ইয়াহইয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ধাঁধা উপস্থাপন করেন। এমনকি নিজের কেনা পেন্সিল ও নোটবুক উপহার হিসেবে বিতরণ করেন।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি 



সাতদিনের সেরা