kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

যেভাবে ইমামের প্রচেষ্টায় মাদকাসক্ত ডাকাত থেকে মুসল্লি

অনলাইন ডেস্ক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৩১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যেভাবে ইমামের প্রচেষ্টায় মাদকাসক্ত ডাকাত থেকে মুসল্লি

ইস্তাম্বুলের কাব বিন মালিক মসজিদের আমিন কাইর

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মাদকাসক্তদের নিরাময়ে ও অভাবীদের নিয়ে কাজ করছেন তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী ইস্তাম্বুল নগরীর একটি মসজিদের একজন ইমাম। মাদকাসক্তদের নিরাময়সহ অসহায়-দুস্থদের পানাহারের ব্যবস্থা করেছেন কাব বিন মালিক মসজিদের আমিন কাইর। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী-নির্বিশেষে সবার জন্য মসজিদকেন্দ্রিক খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রির ব্যবস্থা করেন তিনি। 

২০০৬ সালে ছয় হাজার স্কয়ারমিটার প্রশস্ত মসজিদের ইমাম হিসেবে নিয়োগ পান আমিন কাইর। লোকালয় থেকে দূরে অবস্থিত মসজিদে যাতায়াতকালে নানা রকম ভোগান্তিতে পড়তেন তিনি। 

একদিন বাড়ি থেকে ফেরার সময় ইমামের পথরোধ করে মাদকাসক্তরা অর্থ দাবি করে। প্রত্যাশিত অর্থ তাদেরকে প্রদান করলে পরদিনও একই ঘটনা ঘটে। তখন তিনি তাঁর কাছে অর্থ নেই বলে জানান। তবে তিনি নিজের পক্ষ থেকে তাদেরকে সামান্য খাবার দেন। এর পর থেকে নতুন পথ দিয়ে তিনি যাতায়াত শুরু করেন। 

পথরোধকারী ডাকাতদের আসলে কোনো ঘর নেই বলে জানতে পারেন মসজিদের ইমাম আমিন কাইর। একদিন তিনি ডাকাত দলকে খাবারের আমন্ত্রণ জানান। তবে তারা মসজিদে এসে কোনো মাদকদ্রব্য গ্রহণ করতে পারবে না বলে শর্তারোপ করেন। এভাবে তাদেরকে মসজিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ করে তুলেন। 

এরপর থেকে মাদকাসক্ত ও অসহায়-দুস্থদের মধ্যে মসজিদটি পরিচিতি পায়। আশপাশের মাদকাসক্তরা ইমামের কাছে যাতায়াত শুরু করে। এমনকি ক্ষুধার্ত ও ভুক্ত যে কেউ ইমামে ঘরে এসে খাবার গ্রহণের সুযোগ পেত। 

বিগত ১৫ বছর যাবত মসজিদের ইমাম মাদকাসক্ত তরুণদের নিরাময়ে কাজ করেন। ঘরছাড়া অভাবীদের সঙ্গে তাদের পরিবার-পরিজনের সম্পর্কন্নোয়নে কাজ করেন তিনি। এ দীর্ঘ সময়ে অনেক বিত্তবান লোক তাঁকে মাদকাসক্তি নিরাময়ে সহায়তা করেছেন। 

আইউব সুলতান এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মিলে সামাজিক উন্নয়নে কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। পরিকল্পনা মতে তাঁরা মসজিদে আগত সবার জন্য স্যুপ খাবারের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া দুস্থ ও অভাবীদের জন্য খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করা হয়। 

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা