kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

উত্তম বন্ধু সাফল্যের প্রতীক

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উত্তম বন্ধু সাফল্যের প্রতীক

সঙ্গী-বন্ধুদের অনুসরণ : বন্ধু শব্দটি অনেক ছোট হলেও এর ব্যাপকতা অনেক। বন্ধু ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। নিঃশর্ত সম্পর্কের এক অনন্য নিদর্শন হলো বন্ধুত্ব। বন্ধুর জন্য মানুষ যেকোনো কিছু করতে পারে। তবে বন্ধুত্ব যদি গড়ে ওঠে ভুল মানুষের সঙ্গে, তাহলে এই বন্ধুর জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইথিওপিয়ায় একটি প্রবাদ আছে, একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুই কখনো হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় শত্রু। শুধু পৃথিবী কেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বন্ধুর কারণে মানুষ আখিরাতও হারাতে পারে। কারণ মানুষ তার বন্ধুর দ্বারা প্রভাবিত হয়। বন্ধু যদি জাহান্নামের পথে হাঁটতে অভ্যস্ত হয়, তবে সেও সে পথে পা বাড়ানোর আশঙ্কা থাকে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর রীতিনীতির অনুসারী হয়। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেই যেন লক্ষ করে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৩৩)

উত্তম বন্ধুর সান্নিধ্য :  অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে মুমিন কোরআন পড়ে তার উদাহরণ হলো কমলা-লেবুর মতো, যার ঘ্রাণ স্নিগ্ধ এবং স্বাদ উত্তম। আর যে মুমিন কোরআন পড়ে না তার উদাহরণ হলো খেজুরের মতো, যা সুস্বাদু কিন্তু ঘ্রাণহীন। আর যে গুনাহগার ব্যক্তি কোরআন পড়ে তার উদাহরণ লতাগুল্ম, যার ঘ্রাণ স্নিগ্ধ কিন্তু স্বাদ তিক্ত। পক্ষান্তরে, যে গুনাহগার ব্যক্তি কোরআন পড়ে না তার উদাহরণ হানজালা বৃক্ষের ফলের মতো, যার স্বাদ তিক্ত কিন্তু গন্ধ নেই। আর সেলাকের সংসর্গ হলো কস্তুরী বিক্রেতার সদৃশ, তুমি কস্তুরি না পেলেও তার সুবাস পাবে এবং অসৎ লোকের সংসর্গ হলো, কামারের সদৃশ। যদিও কালি ও ময়লা না লাগে, তবে ধোঁয়া থেকে রক্ষা পাবে না।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮২৯)

অর্থাৎ বন্ধু যদি সৎ না হয়, তবে তার কোনো না কোনো প্রভাব জীবনে পড়বেই। রাসুল (সা.)-এর এই বাণীগুলো বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত। ম্যাসাচুসেটসের একটি শহর ফ্রামিংহামে হৃদরোগ নিয়ে ১৯৪০ দশকের শেষ থেকে শুরু করে পরবর্তী তিন প্রজন্মের বাসিন্দাদের ওপরে গবেষণা করা হচ্ছে, যেখানে সামাজিক যোগাযোগের ক্ষমতার ওপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়। গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে একজন ব্যক্তির স্থূল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা অনেক বেশি হবে যদি তার ঘনিষ্ঠ সার্কেলে কেউ স্থূল হয়ে ওঠেন। (বিবিসি)

মুমিনরা পরষ্পরের বন্ধু : এ কারণে আমাদের উচিত বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া। যে বন্ধু ইহকাল ও পরকাল; সবসময় উপকারে আসবে। যে বন্ধু দুনিয়ার বিপদে যেমন এগিয়ে আসবে, তেমনি পথ হারিয়ে ফেললে সঠিক পথের দিশা দিয়ে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে সচেষ্ট হবে, তাকেই বন্ধু হিসেবে নির্বাচন করা। সৎ বন্ধুর গুণাবলি কী হবে, মহান আল্লাহ তা পবিত্র কোরআনে বলে দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর ঈমানদার পুরুষ এবং ঈমানদার একে অপরের বন্ধু। তারা ভালো কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠিত করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন-যাপন করে। তাদের ওপর আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী সুকৌশলী। (সুরা : আত তওবা, আয়াত : ৭১)

অন্যদিকে যারা তাকওয়া অবলম্বন করে না বা আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে না, তাদের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘বন্ধুরা সেদিন একে অপরের শত্রু হয়ে পড়বে, তবে মুত্তাকিরা ছাড়া।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৬৭)

এ কারণেই হয়তো রাসুল (সা.) বলেছেন, তুমি মুমিন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো (অন্তরঙ্গ) সঙ্গী হবে না এবং তোমার খাদ্য যেন পরহেজগার লোকে খায়। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৩২)

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে অন্তরঙ্গ বন্ধু নির্বাচনে সঠিক ব্যক্তিদের বেছে নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা