kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

২০২০ সালে ইসলামী অঙ্গনে যত শোক

অনলাইন ডেস্ক   

৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৯:৫২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



২০২০ সালে ইসলামী অঙ্গনে যত শোক

২০২০ বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গনে একটি শোকের বছর। এ বছর দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন আলেম ইন্তেকাল করেছেন। গত বছরের শেষ দিন (৩১ ডিসেম্বর ২০১৯) শুরু হয় তাঁদের বিদায়যাত্রা। এ দিন বিদায় নেন আল্লামা আশরাফ আলী (রহ.)। এরপর শুধু দীর্ঘ হয় শোকের তালিকা। তাঁদের নিয়ে লিখেছেন বেলায়েত হুসাইন

আল্লামা আশরাফ আলী (রহ.) : ২০২০ সালের প্রথম দিনে আল্লামা আশরাফ আলী (রহ.)-এর দাফন-কাফনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শোকের বছর। তিনি আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার কো-চেয়ারম্যান, জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগের প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস ছিলেন। আল্লামা আশরাফ আলী (রহ.) ১ মার্চ ১৯৪০ সালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকার বড় কাটারায় দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। পাকিস্তানের জামিয়া আশরাফিয়া লাহোরেও দুই বছর অধ্যয়ন করেছেন। পীরজি হুজুর, রাসুল খান ও হাকিম মুহাম্মদ আখতার, কারি তৈয়ব ও আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী (রহ.) : ৫ জানুয়ারি ২০২০ ইন্তেকাল করেন আল্লামা তাফাজ্জুল হক (রহ.)। তিনি মুহাদ্দিসে হবিগঞ্জী নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি জামিয়া আরাবিয়া উমেদনগর টাইটেল মাদরাসা হবিগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস ছিলেন। এ ছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি। আল্লামা হবিগঞ্জী ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে হবিগঞ্জ শহরের অদূরে ‘কাটাখালি’ গ্রামে জন্মলাভ করেন। আল্লামা ইউসুফ কান্ধলভি, শায়খুল হাদিস জাকারিয়া, মাওলানা ইবরাহিম বলিয়াভি ও আল্লামা ইউসুফ বিনুরি (রহ.)-এর ছাত্র ছিলেন।

আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ (রহ.) : এ বছরের ২৯ জানুয়ারি দেশের আরেক শীর্ষ আলেম আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ (রহ.) ইন্তেকাল করেন। স্পষ্টভাষী, সুমিষ্ট তিলাওয়াত ও দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য দেশজুড়ে তাঁর খ্যাতি ছিল। তিনি কিশোরগঞ্জের জামিয়া ইমদাদিয়ার মহাপরিচালক এবং শহীদি মসজিদের খতিব ছিলেন। ক্ষণজন্মা এই মনীষীর জন্ম হয় ১৯৪৭ সালের ২ জানুয়ারি শহীদি মসজিদসংলগ্ন বাসায়। বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও আলেম আল্লামা আতহার আলী (রহ.)-এর সন্তান ছিলেন তিনি।

মাওলানা জুবায়ের আহমাদ আনসারী (রহ.) : ১৭ এপ্রিল ২০২০ ইন্তেকাল করেন বিশিষ্ট বক্তা ও মুফাসসির মাওলানা জুবায়ের আহমাদ আনসারী (রহ.)। ১৯৬২ সালের ৫ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার আলীয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র সহসভাপতি ও জামিয়া রাহমানিয়া বেড়তলা, সরাইলের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ছিলেন। প্রখ্যাত আল্লামা নুরুদ্দিন গহরপুরী (রহ.)-এর বিশিষ্ট শিষ্য ছিলেন এ আলেম।

আল্লামা আব্দুল মোমিন শায়খে ইমামবাড়ী (রহ.) : ৮ এপ্রিল ২০২০ ইন্তেকাল করেন প্রবীণ আলেম মাওলানা শায়খ আব্দুল মোমিন (রহ.)। তিনি জামিয়া দারুল কুরআন সিলেটের শায়খুল হাদিস এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি ছিলেন। শায়খ আব্দুল মুমিন উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা সাইয়েদ হোসাইন আহমদ মাদানি (রহ.)-এর খলিফা এবং আল্লামা ইবরাহিম বলিয়াভি (রহ.)-এর বিশিষ্ট সাগরেদ ছিলেন। ১৯৩০ সালে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ার ভাঙ্গা ইউনিয়নের পুরানগাঁও গ্রামে তাঁর জন্ম হয়।

মুফতি ড. আবদুল্লাহ বিক্রমপুরী (রহ.) : ৮ এপ্রিল ২০২০ ইন্তেকাল করেন ইসলামী অর্থনীতিবিদ ও শায়খুল হাদিস মুফতি ড. আবদুল্লাহ বিক্রমপুরী (রহ.)। তিনি ঢাকার ইসলামপুর তাঁতীবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব, মোস্তফাগঞ্জ মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস ছিলেন। এ ছাড়া তিনি সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান ও ট্রাস্ট ব্যাংক শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন।

আল্লামা শাহ মুহাম্মদ তৈয়ব (রহ.) : ২৪ মে রাতে ইন্তেকাল করেন আল জামিয়াতুল আরবিয়াতুল ইসলামিয়া জিরির মুহতামিম ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহসভাপতি আল্লামা শাহ মুহাম্মদ তৈয়ব (রহ.)। তিনি ১৯৪৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানার অন্তর্গত জিরি ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি জামিয়া জিরির মুহতামিম নিযুক্ত হন। জামিয়া জিরির পাশে ‘শারজাহ চ্যারিটি হাসপাতাল’ নামে একটি দাতব্য হাসপাতাল নির্মাণ করেন।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) : সমকালে বাংলাদেশের শীর্ষ ইসলামী ব্যক্তিত্ব আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) ইন্তেকাল করেন ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। তিনি একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা আমির, দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার চেয়ারম্যান ছিলেন। কওমি মাদারাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদ মাস্টার্সের স্বীকৃতি আন্দোলনে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। ১৯১৬ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পাখিয়ারটিলা গ্রামে তাঁর জন্ম হয়। লেখাপড়া করেন হাটহাজারী মাদরাসা ও দারুল উলুম দেওবন্দে। তিনিও আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানি (রহ.)-এর খলিফা ও শিষ্য ছিলেন।

আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী (রহ.) : আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী (রহ.) গত ১৩ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব এবং জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা ঢাকার মুহতামিম ছিলেন। ১৯৪৫ সালের ১০ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থানার চড্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।

আরো যাঁরা বিদায় নিয়েছেন : ২০২০ সালে বিদায় নেওয়া আলেমদের মধ্যে আরো আছেন মাওলানা মোহাম্মদ আবু তাহের, আল্লামা আব্দুল হাই, মাওলানা মুজিবুর রহমান পেশোয়ারী, মাওলানা আবদুর রহীম বোখারী, মাওলানা আবদুল মুমিত ঢেউপাশী, আল্লামা আবদুল আলীম আল-হুসাইনী, মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, মুফতি ওবায়দুল মাতিন, আল্লামা শাহ মুহাম্মদ ইদ্রিস, মাওলানা আনওয়ারুল হক চৌধুরী, মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ বাশার, মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ নূর, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা আবুল হাসান, মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা রশীদ আহমাদ, মাওলানা মনিরুজ্জামান সিরাজী (রহ.) প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা