kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

করোনা টিকা প্রয়োগের পথে ইসরায়েল, অপেক্ষায় ফিলিস্তিন

অনলাইন ডেস্ক   

১৯ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৩:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা টিকা প্রয়োগের পথে ইসরায়েল, অপেক্ষায় ফিলিস্তিন

ইসরায়েল যখন নাগরিকদের কভিড-১৯ টিকা প্রদানের প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চল গাজা, পশ্চিত তীরের অধিবাসীরা নিজেদের টিকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।

ফিলিস্তিনের নেতৃবৃন্দ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না ও অস্ট্রাজেনেকা এবং রাশিায় ও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে নগদ অর্থে এখনও বেসরকারি সরবরাহ চুক্তি নিশ্চিত করেননি ফিলিস্তিন সরকার।

এদিকে ইসরায়েল সরকার টিাকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের টিকা নিশ্চিত করে নিয়েছে। আগামী রবিবার থেকে ইসরায়েল টিকা প্রয়োগ শুরু করবে।

জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, শনিবার রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু টিকা গ্রহণ করবেন। এরপর রবিাবর সকালে প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিন টিকা গ্রহণ করবেন। 

ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (পিএ)-এর প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মাদ শাতিয়াহ বলেন, গত কয়েক মাস আগে টিকা বিষয়ে আমরা একটি প্রজ্ঞাপন পাই, যাতে সর্বসাধারণদের টিকাপ্রদানের কথা বলা হয়।

তবে দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের দেশের লোকদের জন্য বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বরাদ্দ টিকার আশা করছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ, যা প্রয়োজনের ২০ ভাগ পূরণ করবে। আর বাকিটুকু ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বা দাতব্য প্রতিষ্ঠান টিকা সরবরাহ করবে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাই আলকায়লা আশা ব্যক্ত করে বলেন, ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ মার্চ মাসের মধ্যে টিকার চালান আমদানি করবে। তবে কোত্থেকে সরবরাহ করা হবে তিনি তা বলেননি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যাকায় নতুনকরে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। হামাসের শাসনাধীন এ অঞ্চলগুলো ইসরায়েল অবরোধ করে রেখেছে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, গাজা অঞ্চলে টিকা ও চিকিৎসা সামগ্রি সরবরাহ করতে তারা জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। তবে অনেক মানবাধিকার সংস্থা জানায়, অধিকৃত অঞ্চলের বসবাস করা ফিলিস্তিনিদের জন্য টিকা সরবরাহ করা ইসরায়েলের দায়িত্ব।

ইসরায়েলের মানবাধিকারকর্মী গিসা বলেন, ‘ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলের বাস করা মানুষের জীবননিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাছাড়া ইসরায়েলের পাশাপাশি পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যাকায় টিকা নিশ্চিত করাও ইসরায়েলের অবশ্য কর্তব্য।’

ইসরায়েলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়োহ কিস জানান, ‘যদি ইসরায়েলের প্রয়োজন পূরণ হয় এবং আমাদের অতিরিক্ত সামর্থ্য থাকে, তাহলে ইসরায়েলের ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করবে।’

গাজা উপত্যাকায় করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ওখানকার ২০ লাখ লোক করোনা ঝুঁকিতে বসবাস করছে। এখন পর্যন্ত গাজায় ২৩৭ জন মারা যায় এবং ৩২ হাজারের বেশি মানুষের করোনা সনাক্ত হয়। এদিকে পশ্চিম তীরের ৩০ লাখ লোক বসবাস করে। এখানকার ৮৬ হাজার ৫৯৪ জন করোনা সনাক্ত হয় এবং ৮৪৬ জন মারা যায়।

সূত্র : রয়টার্স

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা