kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

জিংজিয়ানে খামার সম্প্রসারণ করে

উইঘুর মুসলিমদের শূকর খেতে বাধ্য করে চীন

অনলাইন ডেস্ক   

৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ১২:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উইঘুর মুসলিমদের শূকর খেতে বাধ্য করে চীন

চীনের জিংজিয়ান অঞ্চলের উইঘুর মুসলিমদের চীনের ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ মনোভাব সম্পন্ন করে গড়ে তুলতে বিশেষ শিবিরে নেওয়া হয়। সেখানে উইঘুরদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ নির্মূলের অংশ হিসেবে  শূকরের গোশত খেতে বাধ্য করা হয়। আর সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয় শূকরের খামার।  

চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিংজিয়ান অঞ্চলের ‘পুনঃশিক্ষা কেন্দ্র’ থেকে দু বছর আগে সায়রাগুল সাউতবে মুক্তি পান। কিন্তু বন্দীকালে সহ্য করা অপমান ও সহিংসতা তাকে এখনও আচ্ছন্ন করে ফেলে।

সায়রাগুল সাউতবে একজন পেশাদার চিকিৎসক ও শিক্ষক। বর্তমানে তিনি সুইডেনে বসবাস করেন। সম্প্রতি তাঁর একটি বই প্রকাশিত হয়। তাতে সাউতবায়ে বন্দীকালে নিজ চোখে দেখা প্রহার, নিপীড়ন, যৌন নির্যাতন ও সহিংসতার বর্ণনা দেন।

কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে সাউতবে উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম সংখ্যালঘুদের সঙ্গে কৃত অমানবিক আচরণ নিয়ে আলোকপাত করেন। এতে তিনি শূকরের মাংস খাওয়া সম্পর্কেও বর্ণনা করেন, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

সাউতবে বলেন, ‘প্রতি শুক্রবার শূকর খেতে আমাদের বাধ্য করা হত। তারা ইচ্ছাকৃত এমন একটি দিন নির্বাচন করে যেদিনটি মুসলিমদের জন্য পবিত্র দিন বলে স্বীকৃত। আর তা গ্রহণ না করলে আপনাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

তিনি আরো জানান, মূলত এমন নিয়ম মুসলিম বন্দীদের মধ্যে অপমান ও লজ্জা তৈরির জন্য করা হয়েছিল। তাই খাবার গ্রহণ কালের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সাউতবে বলেন, ‘আমার মনে হত আমি অন্য কেউ। আমার চারপাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সত্যিই তা মেনে নেওয়া আমার জন্য খুবই কষ্টকর ছিল।’

সাউতবে ও অন্যান্যদের সাক্ষ্য থেকে বোঝা যায়, মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসকে দমন করতে চীন কঠোরভাবে ব্যাপক নজরদারির ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেছে। ২০১৭ সাল থেকে চরমপন্থা প্রতিরোধ করতে একটি বিশেষ শিবির খোলা হয়।

জার্মান নৃতত্ত্ববিদ ও উইঘুর গবেষক অ্যাদরিয়ান জিনজ জানান, বিভিন্ন তথ্য থেকে বোঝা যায়, কৃষি উন্নয়নও ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির একটি অংশ। বিভিন্ন খবর থেকে আরো বোঝা যায়, উইঘুর অঞ্চলে শূকর চাষাবাদ প্রসার করতে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করা হয়।

২০১৯ সালের নভেম্বর জিংজিয়ানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শোহরাত জাকির জানান, স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিকে শূকর উত্থানের একটি শহরে পরিণত করা হবে। তবে উইঘুররা জানায়, এটি তাদের নিজেদের জীবনযাত্রাকে প্রতিহত করবে বলে জানায়।

গত মে মাসে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধের বরাত দিয়ে কাশগরের দক্ষিণাঞ্চলে একটি নতুন খামারের কথা বলেন জিনজ। এ খামার থেকে প্রতি বছর ৪০ হাজার শূরক উৎপাদনের আশা করা হয়। সিনা ওয়েবসাইটের সংবাদ মতে কাশগরের কনক্সাহার কাউন্টির একটি শিল্প পার্কে ২৫ হাজার স্কয়ার মিটারের স্থানে প্রজেক্টটি বাস্তবায়ন করা হবে আশা করা হচ্ছে।

গত ২৩ এপ্রিল রমাজানের প্রথম দিন শূকর খামার স্থাপনের চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। তাতে বলা হয়, শূকরের খামার স্থাপন রপ্তানির উদ্দেশ্যে নয়। বরং তা কাশগরে সরবরাহ নিশ্চিত করতে করা হচ্ছে।

জিংজিয়ান ও আশাপাশের এলাকার ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠী উইঘুর মুসলিম। জিংজিয়ানের জনসাধারণকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে পুরোপুরি নির্মুলের অংশ হিসেবে এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ধর্মনিরপেক্ষ নীতির অংশ হিসেবে কমিউনিস্ট পার্টির অনুগত হতে উইঘুর মুসলিমদের ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাব শিক্ষা দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত যেন তারা স্রষ্টায় অবিশ্বাসী হয়।

সূত্র : আল জাজিরা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা