kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

স্বাধীন ফিলিস্তিন গঠনে বাংলাদেশের সংহতি

অনলাইন ডেস্ক   

৩০ নভেম্বর, ২০২০ ১৫:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাধীন ফিলিস্তিন গঠনে বাংলাদেশের সংহতি

২০১৭ সালে বাংলাদেশ সফরকালে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দ্বি-রাষ্ট্রীয় আলোচনার ভিত্তিতে ১৯৬৭ সালের সীমারেখায় একটি স্বাধীন, সুসংহত ও টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সংহতির জানিয়েছে বাংলাদেশ। 

গতকাল রবিবার (২৯ নভেম্বর) ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি বিষয়ক জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত একটি বার্তা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান ইসরাইল-ফিলিস্তিনের সংকট নিরসনের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকেই ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও দ্বি-রাষ্ট্র তত্ত্বের প্রতি সংহতি জানিয়ে আসছে।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। এমনকি সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর এক গোপন সৌদি আরব সফর এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকও অনেক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কেউ কেউ মনে করেন, ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের একটি প্রক্রিয়া চলছে, যার মধ্যস্ততা করছে আমেরিকা।

ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি বিষয়ক আন্তর্জাতিক দিবসে শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ আলাদা বার্তা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাতে বলেছেন, ‘পূর্ব জেরুজালেম-আল কুদস আল শারিফকে রাজধানী রেখে দ্বি-রাষ্ট্র তত্ত্বের আঙ্গিকে ১৯৬৭ সালের সীমানাভিত্তিক একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে আমরা আমাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি।’

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ নিজে যেহেতু স্বাধীনতার জন্য অনেক সংগ্রাম করেছে তাই স্বাধিকারের প্রশ্নে বিশ্বের যেকোনো জাতির সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।’

আবদুল হামিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিকনির্দেশনা ও আমাদের সংবিধানের সাথে সংগতি রেখে, বাংলাদেশ সবসময় সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগ্রামরত মানুষকে সমর্থন দিয়ে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার প্রথম ভাষণে, ১৯৭৪ সালে ওআইসির দ্বিতীয় সম্মেলনে এবং ১৯৭৩ সালে চতুর্থ নাম সম্মেলনে ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রাম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ এই অবস্থানে অটল রয়েছে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণহত্যার যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতিই আমাদের ফিলিস্তিনিদের ওপর হওয়া অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা যুগিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর বহু বছর ধরে অন্যায় করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এই সংকটের দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। এই নীতির আলোকে বাংলাদেশ মিয়ানমারের ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্র্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে এবং এই সংকটের একটি টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বার্তায় বলেন, ‘আমরা ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেম-আল কুদস আল-শরীফকে রাজধানী করে দ্বি-রাষ্ট্র নীতির ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে আমাদের নীতিগত অবস্থানের বিষয়টি পুনরুল্লেখ করছি।’ 

সূত্র : বাসস

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা