kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রাত জেগে ইবাদতে কফির ভূমিকা

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

২০ নভেম্বর, ২০২০ ০৯:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাত জেগে ইবাদতে কফির ভূমিকা

ইবাদতে কফির ভূমিকা : আধুনিক ডায়েটের একটি প্রধান অংশ কফি। তা ছাড়া অনেকের যেমন দিন শুরু হয় না, তেমনি অনেকের রাত জাগাও সম্পূর্ণ হয় না। একসময় আরবের বাইরের লোকজন একে বলত ‘আরবের ওয়াইন’। যখন পবিত্র নগরী মক্কায় হজের উদ্দেশ্যে প্রতিবছর লাখো মুসলিমের সমাবেশ হতো, তখন ইথিওপিয়া থেকে বণিকরা কফির বীজ নিয়ে আসত, যা হজে আগত বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা বেশ আগ্রহসহকারে পান করত। কেননা কফি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের রাত জেগে ইবাদত করার পেছনে দারুণ ভূমিকা রাখত।

কফি নিয়ে নানা মত : বর্তমান যুগে কফি গোটা বিশ্বে বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু একসময় কফি নিয়ে বিভিন্ন ধর্মের লোকদের সন্দেহের শেষ ছিল না। কফির ইতিহাসের প্রথম দিকে ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা কফির তীব্র বিরোধিতা করে একে বলত ‘ড্রিংক অব দ্য ডেভিল’, অর্থাৎ শয়তানের পানীয়। একসময় নারীবাদীরাও কফিকে ‘গন্ধযুক্ত নোংরা কাদাপানি’ বলে আখ্যা দিয়েছিল। সে যুগে অনেক মুসলমান রাষ্ট্রেও কফিকে বাঁকাচোখে দেখা হতো। অনেক দিন পর্যন্ত কফি নিষিদ্ধ ছিল মক্কার মতো জায়গায়। অবশেষে ১৫২৪ সালে ওসমানীয় সুলতান প্রথম সেলিম ফতোয়া জারি করে কফি খাওয়া আবার চালু করেন।

আস্তে আস্তে মধ্যপ্রাচ্য থেকে খুব দ্রুতই এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে বলকান, ইতালি থেকে শুরু করে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে। ১৭২০ সালে লাতিন আমেরিকায় কফির আবাদ শুরু হয়। ইন্দোনেশিয়া ছাড়িয়ে প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও দ্রুতই সবার নজর কাড়ে কফি। (হিস্টরি এক্সট্রা ডটকম)

এখন যুগের পরিবর্তনে বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে কফির চাষ। পার্বত্য চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও নীলফামারীতে কফি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে তাঁদের এ ব্যাপারে যথেষ্ট সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে। আশা করা যায়, একসময় বাংলাদেশ থেকেও বিভিন্ন দেশে কফি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।

যেভাবে কফির আবিষ্কার : আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ ইথিওপিয়ার কাফা অঞ্চলের খালিদ নামের এক আরব বাসিন্দা ছাগল চরানোর সময় খেয়াল করেন যে জামের মতো এক ধরনের ফল খাওয়ার পর প্রাণীগুলোকে অনেক সতেজ দেখাচ্ছে। খালিদ ওই ফলগুলোকে সিদ্ধ করে সর্বপ্রথম কফি তৈরি করেন। এর পরই পানীয়টি ইথিওপিয়া থেকে ইয়েমেনে রপ্তানি করা হয়। সেখানে সুফি-সাধকরা বিশেষ উপলক্ষে রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য এটি পান করেন। (১০০১ মুসলিম ইনোভিশনস, উইকিপিডিয়া)

কারো কারো মতে, খালিদ হঠাৎ লক্ষ করেন যে তাঁর ছাগলগুলো অন্যান্য দিনের চেয়ে একটু বেশি দুরন্ত হয়ে উঠেছে। এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি খেয়াল করেন, লাল জামের মতো একটি ফল খাচ্ছে তার ছাগলরা। ধর্মপ্রাণ খালিদ সঙ্গে সঙ্গে সেই ফলটি নিয়ে হাজির হন স্থানীয় মসজিদের ইমামের কাছে। কাঁচা খাওয়া অসম্ভব দেখে ইমাম আগুনে ছুড়ে দিলেন ফলগুলোকে। তাঁর কাছে প্রথমে এগুলোকে শয়তানের প্রলোভন বলে মনে হয়েছিল। কিছুক্ষণ পরেই আসতে লাগল দারুণ সুঘ্রাণ, যা আজ জগদ্বিখ্যাত। ইমামের ছাত্ররা চিন্তা করে দেখলেন, সিদ্ধ করে খেলে কেমন হয়। যে-ই ভাবা সে-ই কাজ, রোস্ট করা বীজগুলোকে নিয়ে এক কড়াই গরম পানিতে সিদ্ধ করা হলো। এভাবেই তৈরি হয় পৃথিবীর প্রথম কাপ কফি।

ইমাম ও তাঁর শিষ্যরা চমত্কৃত হয়ে আবিষ্কার করলেন, এই পানীয়টি খেয়ে তাঁরা রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেগে থাকতে পারছেন। প্রার্থনার জন্য ব্যাপারটি বেশ কার্যকরী মনে হলো তাঁদের কাছে। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ল গরম পানীয়টির সুনাম। (হিস্টরি এক্সট্রা ডটকম)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা