kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কমোরোসে মুসলিমদের জীবনযাত্রা

আবরার আবদুল্লাহ   

১৭ নভেম্বর, ২০২০ ১১:০৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কমোরোসে মুসলিমদের জীবনযাত্রা

কারথোলা আগ্নেয়গিরি, গ্র্যান্ড কমোরি

দ্বীপরাষ্ট্র কমোরোস : কমোরোস ভারত মহাসাগরের একটি ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র। দাপ্তরিক নাম ‘দি ইউনিয়ন অব কমোরোস’। মাদাগাস্কার, মায়োতি, তানজানিয়া, মোজাম্বিক, সেশেলের সঙ্গে সমুদ্রসীমা রয়েছে দেশটির। মোরোনি কমোরোসের রাজধানী ও সর্ববৃহৎ শহর। ২০১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী এক হাজার ৮৬১ বর্গকিলোমিটারের ছোট দেশটির জনসংখ্যা আট লাখ ৫০ হাজার ৬৮৮ জন। তাদের ৯৮ শতাংশই মুসলিম। কমোরিয়ান, ফ্রেঞ্চ ও আরবি কমোরোসের রাষ্ট্রীয় ভাষা। 

উৎপাদিক পণ্য : পাহাড়, নদী ও পাথুরে ভূমিসমৃদ্ধ কমোরোসের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। দেশটির ৫৬ শতাংশ শ্রমিক কৃষি খাতে, ২৯ শতাংশ শিল্প খাতে এবং ১৪ শতাংশ চাকরিতে নিয়োজিত। পারফিউমে ব্যবহৃত ‘ইলাং তেলে’র সর্ববৃহৎ উৎপাদক দেশ কমোরোস এবং বিশ্বের ৮০ শতাংশ ইলাং তেল তারাই রপ্তানি করে।

কমোরোসে ইসলাম : ‘আল ইসলাম ফি আফ্রিকা’ (২০০৬ সালে প্রকাশিত) বইয়ের লেখক ইম্বায়ি তাহির দাবি করেছেন, মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের অল্প কিছুদিন পরই ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে কমোরোসে ইসলামের আগমন হয়। কথিত আছে, কমোরোসের দুই মহান ব্যক্তি বেদজা মাওয়াম্বা ও মাস্তাওয়া মাওয়ান্ডজে মহানবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় মদিনার উদ্দেশে রওনা করেন। কিন্তু তাঁরা সেখানে পৌঁছার আগেই তাঁর ইন্তেকাল হয়। মহান এ দুই ব্যক্তি কমোরোসসহ অত্র অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তবে আরব কূটনৈতিক জাফর আবদুল্লাহ দাবি করেছেন, উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর যুগে কমোরোসে ইসলামের আগমন হয়। উসমান (রা.)-এর ছেলে মুহাম্মদ অত্র অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে আসেন এবং অত্র অঞ্চলেই তাঁর কবর রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ঔপনিবেশিক শাসন ও স্বাধীনতা : কমোরোসে ইসলামের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার হয় আরব ও পার্সিয়ান মুসলিম ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। তৎকালীন পারস্যের সিরাজ নগরের সঙ্গে কমোরোসের প্রাচীন ব্যাবসায়িক সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। তবে রাজনৈতিকভাবে কমোরোস বিভিন্ন সময় আফ্রিকান মুসলিম শাসকদের অধীন ছিল। ষোলো শতকের শেষ ভাগে উসমানীয় শাসক সাইফ বিন সুলতান ডাচ ও পর্তুগিজদের পরাজিত করে কমোরোসকে নিজের শাসনাধীন করেন। ১৮৪১ সালে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির অধীনে কমোরোসে কলোনি স্থাপন করে ফ্রান্স। ১৯০৮ সালে ফ্রান্স কমোরোসের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ১৯১২ সালে তাকে মাদাগাস্কারের একটি প্রদেশ ঘোষণা করা হয়। ১৯৭৩ সালে ফ্রান্সের সঙ্গে স্থানীয় নেতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী কমোরোস ১৯৭৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। তবে গণভোটে মায়োতি দ্বীপটি ফ্রান্সের সঙ্গে থাকার পক্ষে মত দেয়। ১৯৭৫ সালে কমোরিয়ান পার্লমেন্টে আহমদ আবদুল্লাহ স্বাধীন কমোরিয়ান রাষ্ট্রের ঘোষণা দেন এবং দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর দেশটি নানা রাজনৈতিক উত্থান-পতনের ভেতর দিয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কমোরোস : আহমদ আবদুল্লাহর প্রথম সরকারকে ফ্রান্স স্বীকৃতি দিলেও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে কমোরোসকে স্বীকৃতি দেয়নি। বরং ফ্রান্সের বিরোধিতার কারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভে ব্যর্থ হয় কমোরোস। তবে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করেছে দেশটি। এগুলোর মধ্যে আছে আরব লিগ, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি, ইন্ডিয়ান ওশান কমিশন ইত্যাদি।

ইসলামী শিক্ষার বিস্তার : ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভের পর কমোরোসে ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষার চর্চা বেড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে কয়েক হাজার মসজিদ ও মাদরাসা রয়েছে। সাধারণত পাঁচ বছর বয়সে কমোরিয়ান শিশুরা তাদের শিক্ষাজীবন শুরু করে এবং স্কুলে যাওয়ার আগে তারা দুই বছর কোরআনিক স্কুলে লেখাপড়া করে। সেখানে তাদের ইসলামের মৌলিক বিধি-বিধান ও আরবি ভাষা শেখানো হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজার আমিরের সহযোগিতায় ১৯৯৮ সালে দেশটির নতুন গ্র্যান্ড মসজিদ নির্মিত হয়। ব্যক্তিগত জীবনে কমোরিয়ান মুসলিমরা ধার্মিক এবং মুসলিম নারীরা পর্দানশীন।

তথ্যসূত্র : ইসলাম ওয়েব, মাসরাভি ডটকম ও উইকিপিডিয়া

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা