kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

জেরুজালেমবাসীর উদ্বেগ প্রকাশ

ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনে আমিরাতের অর্থায়ন

অনলাইন ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ১৭:২৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনে আমিরাতের অর্থায়ন

ইসরায়েল কর্তৃক জেরুজালেম নগরে অবৈধ বসতি স্থাপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থিক অনুদানের আশ্বাস প্রদানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেরুজালেমের মানবাধিকার কর্মীরা।

সম্প্রতি আরব আমিরাত সফর শেষে দখলকৃত জেরুজালেমের পশ্চিমে ‘সিলিকোন ভ্যালে’ প্রজেক্টে আমিরাতের আর্থিক অনুদান প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেরুজালেম নগরের ডেপুটি মেয়র ফ্লার হাসান নাহুম।

গত সপ্তাহের আমিরাত সফরের পর এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েল সংবাদমাধ্যম ম্যাকোর রিশন-কে জানান, তিনি আমিরাত দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করলে তাঁরা এতে আশাব্যঞ্জক সাড়া প্রদান করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমিরাত ছয় শ বা সাত শ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে বলে জানা যায়।

নাহুম বলেন, এই পদক্ষপ আমিরাতের সঙ্গে ইসরায়েলের যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। তা ছাড়া পশ্চিম জেরুজালেমের অধিবাসীদের জেরুজালেম পৌরসভা ও আমিরাতের সঙ্গে সংযুক্ত করতে সহায়তা করবে।

তিনি আরো বলেন, এই প্রজেক্টে আরব আমিরাতের অর্থায়নের মাধ্যমে সবাই দেখতে পাবে যে আমিরাত জেরুজালেমবাসী ও আরব-ইহুদিদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরিতে কাজ করছে। যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনভিত্তিক গণমাধ্যমগুলোর মিথ্যাচার প্রমাণিত হবে।

ইসরায়েল ঘোষিত পরিকল্পনায় হোটেল, আধুনিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কেন্দ্র থাকবে বলে জানান উপ-মেয়র নাহুম। দখলকৃত পশ্চিম জেরুজালেমে দুই লাখ স্কয়ারমিটার স্থানজুড়ে উন্নত পযুক্তিসমৃদ্ধ আবাসন গড়ে তোলা হবে। এতে করে জেরুজালেমের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষী শিক্ষার্থীদের ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হবে। 

তবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বলেন, পরিকল্পনাটি ১২০টিরও বেশি পুরনো গাড়ির দোকানের ধ্বংসাবশেষের ওপর বাস্তবায়ন করা হবে। মূলত জেরুজালেম নগরের আরবি সংস্কৃতি ধাঁচকে বদলে দেওয়াই ইসরায়েলের মূল উদ্দেশ্য।

জেরুজালেম নগরের আইন ও সমাজ অধিকার কেন্দ্রের পরিচালক জিয়াদ আল হামুদি বলেন, ইসরায়েলের পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে জেরুজালেম নগরের জন্য এটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বিষয়।

এদিকে জেরুজালেমের মেয়র মাওসি লিওন বসতি স্থাপনের নতুন পরিকল্পনাটি ফিলিস্তিনের পশ্চিম জেরুজালেমবাসীর জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক বলে এটিকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে ব্যাপক প্রচারণা চালান। ফিলিস্তিনবাসী এই পরিকল্পনার প্রতিবাদ করেছে।

ফাতাহর জেরুজালেম শাখার পক্ষ থেকে বলা হয়, দখলদার ইসরায়েলের দরজা দিয়ে ফিলিস্তিনবাসীর রক্তে সিক্ত আমিরাতের অর্থগুলো এমন সময় আসে, যখন ফিলিস্তিন নেতৃবৃন্দের জন্য সব কিছু বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জেরুজালেমে তাঁদের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা