kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

মহানবী (সা.)-এর ব্যাঙ্গচিত্র নিয়ে আলোচনা করায়

প্যারিসে শিক্ষককে শিরশ্ছেদ করে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:৪০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্যারিসে শিক্ষককে শিরশ্ছেদ করে হত্যা

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মহানবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে আলোচনা করায় শিক্ষককে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর সন্দেহভাজন ঘাতককে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে।

গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসের উত্তর-পশ্চিমের কনফ্লানস সেইন্তে-হনোরাইন  উপশহরের মিডল স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইতিমধ্যে চারজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হামলার সঙ্গে জড়িত বলে মনে করা হয়।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ শুক্রবার সন্ধায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যাযজ্ঞকে ‘ইসলামি সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা শিক্ষা দেওয়ায় শিক্ষককে হত্যা করা হয়। তারা বিজয়ী হতে পারবে না। আমরা এর জবাব দেব।’

ফ্রান্সের সন্ত্রাসবিরোধী প্রসিকিউটররা হামলাটিকে ‘সন্ত্রাসী সংস্থার সঙ্গে জড়িত হত্যাকাণ্ড‘ বলে উল্লেখ করেন।

এসোসিয়েটেড প্রেসকে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছে ছুরি ও একটি এয়ার সফট গান পাওয়া যায়। হত্যার স্থান থেকে ছয় শ মিটার দূরে সন্দেভাজনকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।  

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রায় ১০ দিন আগে ইতিহাসের ওই শিক্ষক তাঁর ক্লাসে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সম্পর্কে শেখাতে গিয়ে মহানবী (স)-এর কিছু ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে বিতর্কমূলক আলোচনা শুরু করেছিলেন। এর পর থেকে নানা রকম হুমকির শিকার হন তিনি।

পুলিশের আরেকটি সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীর বাবা-মায়েরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। সন্দেহভাজন ঘাতকের কোনো শিশু স্কুলে নেই বলে জানায় সূত্রটি। তবে সন্দেহভাজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এক টুইট বার্তায় পুলিশ কর্তৃপক্ষ সবাইকে এরিয়াটি এড়িয়ে চলার জন্য পরামর্শ দেয়। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ শুক্রবার সন্ধায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ইরাগনি মেয়র থিবাল্ট হামবর্ট এক টুইট বার্তায় পুলিশের তরিৎ তৎপরতার প্রশংসা করেন।

আল জাজিরা অফিস পরিচালক আইয়াশ দারাজি জানান, চার্লি এবদো পত্রিকায় প্রকাশিত মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্রগুলো নিহত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরেন। মুসলিম শিক্ষার্থীদের এতে আগ্রহ না থাকলে চিত্রগুলো তুলে ধরার আগে ক্লাস ত্যাগের অনুমতি দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়। এরপর শিক্ষক ক্ষমাপ্রার্থন করে এবং এমন কাজ করা তাঁর উচিত হয়নি বলে স্বীকার করে।

সূত্র : বিবিসি ও আল জাজিরা 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা