kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

ইয়েমেনে ১ হাজার যুদ্ধবন্দী বিনিময়

অনলাইন ডেস্ক   

১৬ অক্টোবর, ২০২০ ১২:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইয়েমেনে ১ হাজার যুদ্ধবন্দী বিনিময়

বন্দী বিনিময় শুরু করেছে ইয়েমেনের যুদ্ধরত দুই পক্ষ। এরই প্রেক্ষিতে প্রায় এক হাজার বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়। 

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইয়েমেনের এক হাজার যুদ্ধবন্দী মুক্তি পেয়ে তিনটি বিমানবন্দর দিয়ে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছে। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেড ক্রস (আইসিআরসি) এ খবর নিশ্চিত করে।

গত মাসে সুইজারল্যান্ডে এক হাজার ৮১জন বন্দী বিনিময়ে সম্মতি জ্ঞাপন করে ইরান মদদপুষ্ট ইয়েমেনের হুথিগোষ্ঠী ও সৌদি ভিত্তিক আরব কোয়ালিশন প্রতিনিধি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত শান্তি চুক্তির পর এবারই প্রথম সর্বোচ্চ সংখ্যক যুদ্ধবন্দী বিনিময় হয়।

আইসিআরসি এক টুইট বার্তায় জানায়, ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দর থেকে পাঁচটি বিমানকরে বন্দীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অপর দুটি বিমান হাদরামওতের সায়ুন বিমানবন্দর গমন করে।

আইসিআরসি-এর মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরিচালক ফেবরিজিও কারবোনি বলেন, ‘অনেক পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়া পরিকল্পনাটি ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। এটি অবশ্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ সংঘাত চলমান থাকাবস্থায়ও বন্দী বিনিময় সম্পন্ন হয়।’

একটি বিমানে ১৫জন সৌদি নাগরিক ও চারজন সুদানী বন্দীকে বহন করে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে।

আইসিআরসি সেবা সংস্থার মুখপাত্র রুথ হেথেরিংটন বলেন, বৃহস্পতিবার সাতটি ফ্লাইটে করে সায়ুন, সানা ও আভা অঞ্চল থেকে সাত শয়ের বেশি বন্দী বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। সামনের দুই দিনের জন্য আরো কিছু ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়।

বন্দী বিনিময় চুক্তি অনুসারে প্রায় চার শ বন্দীকে মুক্তি দেয় ইরানপুষ্ট হুথি দল। অপর দিকে কোয়ালিশন ছয় শ ৮১জনকে মুক্তি দেয়।

হুথি মুখপাত্র মুহাম্মাদ আবদুল সালাম বলেন, ‘বন্দীদের মুক্তি শান্তি প্রতিষ্ঠায় আশা জাগিয়ে তুলবে।’

আরব কোয়ালিশন সৌদির ১৫জন ও চারজন সুদানীর রিয়াদের পৌঁছার কথা নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘বন্দীদের মুক্তিতে রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’

২০১৮ সালে ইয়েমেনের যুদ্ধরত দুই পক্ষ সংঘাত বন্ধ করে রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে ১৫ হাজার বন্দী বিনিময়ে সম্মত হয়। কিন্তু তা বাস্তবায়নে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি।

ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘ প্রতিনিধি মার্টিন গ্রিফিথস বন্দী বিনিময়কে ‘আশা জাগানিয়া’ উল্লেখ করে বলেন, ‘যুদ্ধরতর উভয় পক্ষ স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির আলোচনায় চালিয়ে যাচ্ছে।’

২০১৪ সাল থেকে হুথি গোষ্ঠী ইয়েমেনের সানা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। ২০১৫ সালে মিত্ররা হস্তক্ষেপ করে। যুদ্ধের ফলে ইয়েমেনের ২৪ মিলিয়ন মানুষ কলেরাসহ নানা রকম রোগে আক্রান্ত হয়। ২০ মিলিয়ন মানুষ খাবার ও বিশুদ্ধ পানি অভাবে দিনাতিপাত করে।

সূত্র : রয়টার্স

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা