kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

আয়েশা (রা.)-এর অনন্য মর্যাদা

কামরুন নাহার ইভা   

১৫ অক্টোবর, ২০২০ ১০:৫৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আয়েশা (রা.)-এর অনন্য মর্যাদা

আয়েশা (রা.) নবুয়তের চতুর্থ বা পঞ্চম বর্ষে জন্মগ্রহণ করেন। মূল নাম আয়েশা। উপনাম উম্মে আবদুল্লাহ। উপাধি সিদ্দিকা ও হুমায়রা। অত্যধিক সুন্দরী হওয়ায় তাঁকে হুমায়রা বলা হতো। পরবর্তী সময়ে নবী করিম (সা.)-এর স্ত্রী হওয়ায় উম্মুল মুমিনিন বা মুমিনদের মা উপাধি ধারণ করেন।

পিতা-মাতা : পিতার নাম আবু বকর সিদ্দিক আবদুল্লাহ বিন আবু কুহাফা তাইমি কুরাইশি (রা.)। রাসুল (সা.)-এর সার্বক্ষণিক সহচর ও বন্ধু। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকালে রাসুল (সা.)-এর দেহরক্ষী ছিলেন। তিনি  ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা। কুরাইশের তাইম গোত্রের সদস্য ছিলেন।

উপনাম : আয়েশা (রা.) নিঃসন্তান ছিলেন। একবার তিনি রাসুল (সা.)-কে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমার সঙ্গিনীদের বিভিন্ন উপনাম আছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আয়েশা, তোমার সন্তান আবদুল্লাহর নামে উপনাম (কুনিয়াত) গ্রহণ করো।’ অর্থাৎ আয়েশার বোন আসমা (রা.)-এর ছেলে আবদুল্লাহ বিন জুবাইর (রা.)-এর নামে। এর পর থেকে তিনি ‘উম্মে আবদুল্লাহ’ নামেই পরিচিতি লাভ করেন। (আবু দাউদ,  হাদিস : ৪৯৭০)

বিবাহ : হিজরতের প্রায় ১০ মাস আগে রাসুল (সা.) আয়েশা (রা.)-কে বিয়ে করেন। প্রথম হিজরিতে কিংবা বদর যুদ্ধের পর দ্বিতীয় হিজরির শাওয়াল মাসে উভয়ের বাসর হয়। আয়েশা (রা.) ছিলেন খাদিজা (রা.)-এর পর রাসুল (সা.)-এর প্রিয়তম স্ত্রী। রাসুলের স্ত্রীদের মধ্যে একমাত্র তিনি ছিলেন কুমারী।

প্রিয় নবীর মুখে আয়েশা : আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমাকে স্বপ্নে তোমাকে দেখানো হয়। একজন ফেরেশতা রেশমের টুকরোতে করে তোমাকে নিয়ে আসে। তিনি বলেন, ইনি আপনার স্ত্রী। অতঃপর আমি চেহারা খুলে তোমাকে দেখতে পাই। আমি বললাম, ইনি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকলে তা যেন অবধারিত হয়।’

একবার আমর বিন আস (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনার কাছে প্রিয়তম ব্যক্তি কে? তিনি বলেন, আয়েশা। আমি বললাম, পুরুষদের মধ্যে? তিনি বলেন, তাঁর বাবা।...’। (বুখারি, হাদিস : ৩৬৬২)

আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পুরুষদের মধ্যে অনেকে পূর্ণতা অর্জন করেছেন। তবে নারীদের মধ্যে পূর্ণতা অর্জন করেছেন কেবল মারইয়াম বিনতে ইমরান ও ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া। আর সব খাবারের মধ্যে সারিদ যেমন, তেমনি সব নারীদের মধ্যে আয়েশা শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৪১১)

জ্ঞানসাধনা : আয়েশা (রা.) নারী সাহাবিদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। এ ছাড়া বিচক্ষণতা ও সাহসিকতায়ও অনন্যা ছিলেন তিনি। মুসতাদরাকে হাকেম গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়, ‘আয়েশা (রা.) থেকে শরিয়তের এক-চতুর্থাংশ বিধি-বিধান বর্ণিত আছে। বড় বড় সাহাবিরা যেকোনো সমাধানের জন্য আয়েশা (রা.)-এর কাছে আসতেন।’

আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, ‘আমরা রাসুলের সাহাবিরা কোনো হাদিস নিয়ে সমস্যায় পড়লে আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করতাম। তাঁর কাছ থেকে তখন নতুন জ্ঞান লাভ করতাম।’

প্রখ্যাত তাবেয়ি আতা বিন রাবাহ (রহ.) বলেন, ‘আয়েশা (রা.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞান, বিচক্ষণতা এবং সুন্দর মতামতের অধিকারী।’ ফিকহ, চিকিৎসা, কবিতাসহ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাঁর বিচরণ ছিল।

অনন্য বৈশিষ্ট্য : আল্লামা জাহাবি আয়েশা (রা.) থেকে বলেন, ‘আমাকে ৯ বৈশিষ্ট্য দেওয়া হয়, মারইয়াম বিনতে ইমরান ছাড়া আর কোনো নারীকে তা দেওয়া হয়নি। আমার রূপ ধারণ করে জিবরাঈল (আ.) রাসুল (সা.)-এর কাছে আসেন এবং পরবর্তীতে রাসুল (সা.) আমাকে বিয়ে করেন। রাসুল (সা.) আমাকে ছাড়া কাউকে কুমারী অবস্থায় বিয়ে করেননি। মৃত্যুকালে রাসুলের মাথা আমার ঊরুর ওপর ছিল। আমার ঘরে তাঁকে দাফন করা হয়। ফেরেশতারা আমার ঘর বেষ্টন করে। রাসুলের সঙ্গে কম্বলের নিচে থাকা অবস্থায় ওহি অবতীর্ণ হয়। আমি রাসুলের বন্ধু ও খলিফার মেয়ে। আসমান থেকে আমার পবিত্রতার ঘোষণা আসে। উত্তম মানুষের কাছে আমি উত্তম হয়ে গড়ে উঠেছি। আমাকে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজিকের আশ্বাস দেওয়া হয়।’

মৃত্যু : আয়েশা (রা.) ৫৮ হিজরির ১৭ রমজান রাতে মৃত্যুবরণ করেন। আবু হুরায়রা (রা.) জানাজার নামাজ পড়ান। মদিনার জান্নাতুল বাকিতে রাতে দাফন করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা