kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ক্রাইস্টচার্চ হামলার স্মৃতি ফলক উম্মোচনে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা

অনলাইন ডেস্ক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:৩০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ক্রাইস্টচার্চ হামলার স্মৃতি ফলক উম্মোচনে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদ হামলায় শহিদদের স্মরণে নির্মিত ফলক উম্মোচন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ক্রাইস্টচার্চের ডিনস অ্যাভির আন নুর মসজিদ প্রাঙ্গণে হিজাব পরিধান করে মুসলিমদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ফলক উম্মোচনে আসেন জেসিন্ডা আরডার্ন। ফলকটি মসজিদের পাশেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রতি স্থায়ী সমবেদনা জানিয়ে তৈরি করা হয়।

উম্মোচনের সময় বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা বলেন, মসজিদ প্রাঙ্গণে তিনি ‘অনেক পুরোনো বন্ধুদের দেখে খুবই আপ্লুত। আমার মনে হয় মানুষ শিগগির সবকিছু কাটিয়ে উঠতে পারবে, তবে এর জন্য কিছু সময়ের প্রয়োজন।’

আরডার্ন আরো বলেন, ‘এখানে অনেককে দেখি, আহত হওয়ার পর তারা হাঁটতে পারতেন না, এখন তাঁরা হাঁটছেন। অনেকে আগে ব্যাথার কথা বর্ণনা করেছিলেন। এখন তাদের ব্যাথা উপশম হয়েছে। তার মানে সময় চলে যায়। তবে এখানে যা ঘটেছিল কোনো কিছুই তা নিরাময় করতে পারবে না।’

উদ্বোধনকালে আন নুর মসজিদের ইমাম বলেন, জামাল ফাওদা বলেন, ‘সন্ত্রাসী হামলাটি আমাদের অনেকের জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। কেউ একথা ভাবতেও পারেনি যে এটি এখানে ঘটতে পারে।’

জামাল আরো বলেন, ‘আমাদের সবার ভাবনা ছিল যে নিউজিল্যান্ড একটা নিরাপদ শহর। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ শহর হওয়ার পরও ১৫ মার্চ নিউজিল্যিান্ডের একটি কালো দিন। অবশ্য আমরা এমন শোকাবহ ঘটনায় সাড়া দিয়ে যথা সময়ে জেগে ওঠার পরিবেশ তৈরি করেছি।’  

ইমাম জামাল প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডার কাছে দুটি আবেদন করেন। শহিদদের স্মরণে একটি জাতীয় দিবসের ঘোষণা করা এবং ধর্মীয় বিষয়ে ঘৃণা বিরোধী আইন পাশের জন্য বলেন। জামাল বলেন, ‘কোরআন কিংবা বাইবেল কোনোটা পোড়ানো কি বাক স্বাধীনতা? আপনি যদি সত্যিই সমস্যা তৈরি করেন আর বলেন যে এটা বাক স্বাধীনতা, তাহলে দুঃখিত। বাক স্বাধীনতার মানে ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়া নয়।’

জামাল আরো বলেন, ‘আমি চাই নিউজিল্যান্ডে তাদের জন্য একটি নতুন আইন পাশ করা হবে। শহিদ হওয়া ব্যক্তিদের রক্তের কথা ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।’

২০১৯ সালের ১৫ মার্চ শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদি অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত ব্রেন্টন টারান্টের বন্দুকের গুলিতে আন নুর মসজিদে ৪২জন নিহত হন এবং লিনউড ইসলামিক সেন্টারে সাতজন নিহত হন। গত ২৭ আগস্ট ৫১জনকে হত্যা ও ৪১জনকে হত্যাচেষ্টায় অভিযুক্ত ট্যারেন্টকে প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সূত্র : স্টাফ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা