kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ইন্দোনেশিয়ার দৃষ্টিনন্দন কেদিরি গ্র্যান্ড মসজিদ

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৯:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইন্দোনেশিয়ার দৃষ্টিনন্দন কেদিরি গ্র্যান্ড মসজিদ

কেদিরি গ্র্যান্ড মসজিদ, পূর্ব জাভা, ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার কেদিরি শহরের সর্ববৃহৎ মসজিদ ‘কেদিরি গ্র্যান্ড মসজিদ’। দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি উদ্বোধন হয় ২০০৬ সালে। তিনতলাবিশিষ্ট মনোমুগ্ধকর এই মসজিদের সামনের মিনারটি প্রায় ৪৯ মিটার। মিনারের ওপর থেকে রূপবতী শহরকে আরো সুন্দরী মনে হয়।

আশপাশে তেমন কোনো বহুতল ভবন না থাকায় মিনারটি অনেক দূর থেকে পথিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম। দূর থেকে নীল পাথরের কারুকাজ করা মিনারটি দেখে মনে হয় যেন নীল টুপি পরা কোনো দাঈ আল্লাহভোলা মানুষদের মসজিদের দিকে ডাকছে। নীল পাথরের কারুকাজ সংবলিত গম্বুজটিও বেশ সুন্দর। প্রথম তলার বাড়তি ছাদে আছে কিছু ছোট গম্বুজ।

মসজিদের ডিজাইনে ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর প্রাধান্য থাকলেও সাজানো হয়েছে জাভানদের ঐতিহাসিক কাঠে খোদাই করা ক্যালিগ্রাফিক ডিজাইনে। দরজা ও জানালাগুলোতেও কাঠের কারুকাজ সংবলিত ইসলামিক প্যাটার্নগুলো যে কারো নজর কাড়বে। ইউরোপ ও জাভান স্থাপত্যশৈলীর চমৎকার মিশ্রণ মসজিদটিকে সাবলীল রূপ দিয়েছে। ফলে মসজিদের আঙিনায় এলেই পর্যটকদের চোখ শীতল হয়ে যায়। মহান আল্লাহর পবিত্র ঘর যেন যেকোনো মুমিনকে অন্য রকম প্রশান্তি দান করে। মসজিদের প্রবেশদ্বারে থাকা কৃত্রিম ঝরনা সেই প্রশান্তি আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

মসজিদকে সাজানো হয়েছে ইউরোপ থেকে আমদানি করা মার্বেল টাইলসে। মিহরাবের দেয়ালে কালো টাইলস, তার ওপর খোদাই করা কাঠের ডিজাইনটি যেন মসজিদকে আরো অভিজাত করে দিয়েছে। ডিজাইনটিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আয়াতুল কুরসি লেখা রয়েছে। মিহরাবের ভেতর ইমাম সাহেবের খুতবা দেওয়ার জন্য একটি কাঠের ঘর রাখা হয়েছে। এর ভেতর দাঁড়িয়ে ইমাম সাহেব খুতবা দেন। এই কাঠের ঘরটিকে দূর থেকে দেখে মনে হবে কোনো সিংহাসন। কিন্তু কাছে গেলে বোঝা যায়, এটি একটি ঘর। কোনো চেয়ার নয়। ইমাম সাহেব এর ভেতর দাঁড়িয়ে খুতবা দেন।

দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে মোট ১০৬টি পিলারের ওপর। আছে ১৫টি বড় বড় দরজা। মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রাখা হয়েছে ১২টি ছোট দরজাও। মসজিদের ওপরের দুটি তলা নিচতলার তুলনায় পর্যায়ক্রমে ছোট বানানো হয়েছে। নিচতলার আয়তন ১৩৮৮ দশমিক ৮ বর্গমিটার। দোতলার আয়তন ১৩৩৫ দশমিক ১ বর্গমিটার, আর ওপরতলার আয়তন মাত্র ৩৯৬ দশমিক ৮ বর্গমিটার। প্রতিটি তলার ছাদ এমনভাবে সাজানো যে সেগুলোকে আকাশ থেকে দেখলে ফুলের পাপড়ির মতো মনে হয়। মাঝখানের নীল গম্বুজটি সেই ফুলকে পূর্ণতা দেয়।

শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ ও পর্যটক এই মসজিদটি দেখতে আসে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা