kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

বিদেশিদের পরিবর্তে কি আমাদের লোকদের নিয়োগ দেওয়া যায় না

এ কে এম আতিকুর রহমান

১৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



বিদেশিদের পরিবর্তে কি আমাদের লোকদের নিয়োগ দেওয়া যায় না

সপ্তাহখানেক আগে একটি ইংরেজি দৈনিকে আমাদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষণ কাজকর্মে বিদেশিদের নিয়োগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রকৃতপক্ষে আইসিএমএবির সভাপতি এম আবুল কালাম মজুমদার বিআইডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টিং ও ফিন্যানশিয়াল চাকরিতে বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগ বন্ধের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এসব ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগ দেশে বেকারত্ব বেড়ে যেতে সাহায্য করে। তিনি আরো জানান, একই মানের দক্ষতাসম্পন্ন স্থানীয় পেশাদার লোক থাকা সত্ত্বেও অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অ্যাকাউন্টিং এবং ফিন্যানশিয়াল কাজকর্মে বিদেশিদের নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছে।

বিআইডিএ চেয়ারম্যান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পেশাদার অ্যাকাউন্ট্যান্টদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশে হিসাব ও ব্যবস্থাপনা পেশার উন্নয়নে তাঁর সমর্থনের আশ্বাস দেন। তবে আইসিএমএবি সভাপতি বলেন যে তাঁর ইনস্টিটিউট অত্যন্ত দক্ষ পেশাদার অ্যাকাউন্ট্যান্ট তৈরি করছে, যারা দেশের সমগ্র চাহিদা পূরণ করতে পারে। বিষয়টি যদি এ রকমই হয়, তাহলে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশিদের পরিবর্তে আমাদের পেশাদারদের নিয়োগ দিতে কেন আগ্রহী নয়, তা বোঝা গেল না। এর পেছনে কি অন্য কোনো কারণ আছে?

হিসাবরক্ষক ছাড়াও একইভাবে অন্যান্য অনেক পদেই হয়তো বিদেশিদের নিয়োগ দেওয়া হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, বেশির ভাগ বিদেশি আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের উচ্চতর ব্যবস্থাপনা স্তরে বা কারিগরি পদে নিয়োজিত হয়ে থাকে। নিয়োগকারীদের এ ধরনের নিয়োগের পেছনে যুক্তিসংগত কারণ থাকতে পারে। এটা সত্য যে আমাদের পোশাকশিল্প একটি পরিপক্ব অবস্থানে উঠে এসেছে; এটি এরই মধ্যে কয়েক দশক পার করেছে। আমরা এই শিল্পের খুঁটিনাটি সবই জানি; বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রয়োজন সম্পর্কেও আমাদের ধারণা আছে। এত বছরেও এ ক্ষেত্রে এই স্তরের বিদেশি পেশাদারদের প্রতিস্থাপন করার জন্য স্থানীয় লোকদের তৈরি করা কেন সম্ভব হলো না? ওই বিদেশিদের সঙ্গে স্থানীয় যারা সহকর্মী হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছে তারা কি একটুও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেনি? সম্ভবত এ ক্ষেত্রে আমাদের দূরদর্শিতা এবং আন্তরিকতা তেমন একটা গুরুত্ব পায়নি। এমনকি আজও যদি আমরা মনে করি যে আমাদের পেশাদাররা বিদেশিদের সমান দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেনি, আমরা কি তা পূরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারি না? আমি বিশ্বাস করি, স্থানীয় পেশাদার ব্যক্তিরা যদি আমাদের নিয়োগকর্তাদের চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়, তবে অবশ্যই তাদের প্রাধান্য দেওয়া উচিত। আসলে এটি একটি দ্বিমুখী মিথস্ক্রিয়া; সরবরাহ এবং চাহিদাকে সব দিক থেকে একে অপরের সঙ্গে মিলে যেতে হবে।

জানা মতে, ২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকার আমাদের মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। সেই প্রকল্পের অধীনে সাত-আটটি পরিকল্প বা স্কিম রয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ওগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহ করে থাকে। যতটুকু জানা গেছে, ওই পরিকল্পগুলোর ফলাফল সব ক্ষেত্রে সন্তোষজনক ছিল না, যদিও নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্দেশ্যেই ওগুলো হাতে নেওয়া হয়েছিল। যেহেতু মানবসম্পদ উন্নয়নের ওই পরিকল্পগুলোর মান, ধরন এবং লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে আমার কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই, তাই ওগুলো আমি আজকের আলোচনায় আনছি না। যাই হোক, আমি আশা করব যে আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদেশিদের প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে চাহিদা অনুসারে স্থানীয় পেশাদারদের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এটি শুধু আমাদের জনগণের কর্মসংস্থানের পথকেই সহজতর করবে না, বরং আমাদের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাবে।

গত বছর আমাদের বাজেট নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনাসভায় সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত বলেছিলেন যে বিদেশি নাগরিকরা, বিশেষ করে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা প্রায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাংলাদেশ থেকে তাদের দেশে পাঠিয়েছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে বিদেশি কর্মীদের বেশির ভাগ ভারতীয়, শ্রীলঙ্কা এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের নাগরিক। কিন্তু আমরা জানি যে আমাদের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কাছে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের যথাযথ পরিসংখ্যান নেই। আর সে কারণে বলা যাবে না বৈধ বা অবৈধভাবে কতজন বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে কাজ করছে। তবে বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ হতে পারে এবং তারা প্রতিবছর তাদের দেশে পাঁচ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সহযোগিতায় সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে বাংলাদেশে পাঁচ লাখ বিদেশি কাজ করছে, যাদের মধ্যে মাত্র এক-পঞ্চমাংশ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোতে নিবন্ধিত।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতে, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৩ হাজার জন তাদের আয়কর বিবরণী জমা দেয়। যদিও তাদের বেশির ভাগই ভারতের নাগরিক, তবে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং ইউরোপের কিছু দেশের নাগরিকও রয়েছে। গত বছরের একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিবছর চার বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স শুধু ভারতেই যায়। অন্য একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৮৫ হাজার ৪৮৬ জন বিদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছে, যাদের মধ্যে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানেই কাজ করে ৬৭ হাজার ৮৫৩ জন। বিদেশিরা সাধারণত এনজিও, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্প, বায়িং হাউস, টেলিযোগাযোগ, তথ্য-প্রযুক্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে। কিছু বিদেশি খেলোয়াড় ও ক্রীড়া প্রশিক্ষকও এ দেশে রয়েছে।

যদি এটিই সামগ্রিক চিত্র হয়, তবে এটা স্পষ্ট যে আমাদের প্রায় ৯০ লাখ প্রবাসী নাগরিকের কাছ থেকে প্রাপ্ত মোট রেমিট্যান্সের এক-তৃতীয়াংশ প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে এ দেশে কর্মরত পাঁচ লাখ বিদেশির রেমিট্যান্স হিসেবে। গাণিতিকভাবে বাংলাদেশে কর্মরত একজন বিদেশি প্রতিবছর গড়ে অন্তত ১০ হাজার ডলার তার দেশে পাঠাচ্ছে; অন্যদিকে একজন বাংলাদেশি অভিবাসী প্রতিবছর গড়ে মাত্র এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ ডলার দেশে পাঠাতে পারছে। অবশ্য আমাদের কর্মীদের সঙ্গে এই বিদেশি কর্মীদের তুলনা করা যুক্তিসংগত নয়, কারণ আমাদের বেশির ভাগ অভিবাসীই অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে থাকে। তাই দক্ষতার মান হিসেবে এ তুলনা ঠিক নয়। কিন্তু আমাদের উদ্বেগ অন্য বিষয়ে। আমাদের অর্থনীতি থেকে বের হয়ে যাওয়া ওই রেমিট্যান্সের পরিমাণ নিতান্ত কম নয়। তবে আমরা যদি আন্তরিক হই, তবে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা খুব কঠিন হবে বলে মনে হয় না। আসলে এর জন্য প্রয়োজন দৃঢ় অঙ্গীকার এবং দেশপ্রেম।

যেহেতু আমাদের জানা নেই যে বাংলাদেশে মোট কতজন বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে (তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে কর্মরতসহ) কাজ করছে; তাই বৈধ-অবৈধ-নির্বিশেষে কর্মরত সব বিদেশির কর্মক্ষেত্রভিত্তিক তালিকা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তৈরি করতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে একটি পরিপূর্ণ তালিকা তৈরি করা কঠিন কাজ হবে না। আর ওই তালিকাটি আমাদের পরিকল্পনা গ্রহণেই শুধু সাহায্য করবে না, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়তা করবে। তালিকা তৈরি করার সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে—১. এখানে তারা কোন ধরনের কর্মে নিয়োজিত রয়েছে; ২. মাসিক বেতন ও অন্যান্য সুবিধাসহ কত টাকা তারা তাদের নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে পাচ্ছে এবং বছরে প্রত্যেকের রেমিট্যান্সের পরিমাণ কত; ৩. বাংলাদেশে তাদের কত দিন অবস্থান করার চুক্তি রয়েছে এবং বর্ধিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; ৪. এখানে তারা আইনগতভাবে অবস্থান করছে কি না; ৫. আইন অনুযায়ী তারা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত হারে তাদের আয়কর জমা দেয় কি না; ৬. বাংলাদেশে পরিবারের অন্যান্য সদস্য নিয়ে বাস করে কি না; ৭. বাংলাদেশের যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে তার নাম ও ঠিকানা (তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান হলেও নাম ও ঠিকানা); ৮. প্রত্যেক বিদেশি কর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য ইত্যাদি।

আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরো বিষয়টির অগ্রকর (ফোকাল পয়েন্ট) হিসেবে কাজ করতে পারে। তালিকাটি প্রস্তুতকরণের মূল দায়িত্ব ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টকে দেওয়া যেতে পারে। তবে তারা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার সহযোগিতা নিতে পারবে। নিম্নের বিষয়গুলো ওই তালিকা প্রস্তুত করায় সাহায্য করতে পারে—১. বাংলাদেশের সব ‘পোর্ট অব এন্ট্রি’তে অবস্থিত ইমিগ্রেশন অফিস বিদেশিদের আগমন ও নির্গমন নিবন্ধন করবে; ২. আগে না করে থাকলে একজন বিদেশি নিজে বা তার নিয়োগকর্তা অবহিত করলে তাকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা; ৩. মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান বা তদন্তের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা; ৪. বিদেশিদের কর্ম অনুমোদনকারী সংস্থাগুলো যেমন—বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং এনজিও-বিষয়ক ব্যুরো থেকে তথ্য সংগ্রহ করা; ৫. বিদেশে ভিসা প্রদানকারী আমাদের দূতাবাসগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং ৬. বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিরা ভিসা নবায়নের জন্য পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। উপরন্তু আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখানে কর্মরত বিদেশি এবং তাদের নিয়োগকর্তাদের উদ্দেশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সরবরাহের জন্য গণমাধ্যমে (এবং সরাসরি প্রতিষ্ঠানের কাছে) বিজ্ঞপ্তি দিতে পারে।

আমাদের কিছু নির্দিষ্ট কাজের জন্য বিদেশি পেশাদারদের প্রয়োজন হতে পারে এবং এটি স্থানীয় দক্ষ পেশাদারদের একটি বিকল্প পুল তৈরি না হওয়া পর্যন্ত চলতে পারে। কারণ আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকাকে চলমান রাখার জন্য ওই বিদেশি পেশাদারদের প্রয়োজন রয়েছে। যাই হোক, আমাদের এ বিষয়টি অনন্তকাল পর্যন্ত চলতে দেওয়া উচিত হবে না। একপর্যায়ে এসে এতসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। যেভাবেই হোক, আমরা আমাদের পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং আমাদের অর্থনীতির জন্য বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলার সঞ্চয়কে উপেক্ষা করতে পারি না। বিষয়টি এরই মধ্যে অনেকটা ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব

[email protected]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা