kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

ব্যক্তিত্ব

১২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যক্তিত্ব

সুকান্ত ভট্টাচার্য

মার্ক্সবাদী ও প্রগতিশীল চেতনার কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম কলকাতায় ১৫ আগস্ট ১৯২৬। তাঁর বাবার নাম নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালীপাড়ায়। কলকাতার কমলা বিদ্যামন্দিরে তাঁর বাল্যশিক্ষা শুরু হয়, পরে তিনি বেলেঘাটা দেশবন্ধু হাই স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৯৪৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হন। এ সময় ছাত্র আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ায় তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন। ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পদ লাভ করেন। এ বছর ‘আকাল’ নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। ১৯৪৫ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতার ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন। মার্ক্সবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে তিনি কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে ‘ছাড়পত্র’, ‘পূর্বাভাস’, ‘মিঠেকড়া’, ‘অভিযান’, ‘ঘুম নেই’, ‘হরতাল’, ‘গীতিগুচ্ছ’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। তাঁর সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু। তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে। রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কবিতার বৈপ্লবিক ভাবধারাটি যাঁদের রচনায় সমৃদ্ধ হয়েছে, তিনি তাঁদের অন্যতম। তাঁর কবিতার ছন্দ, ভাষা, রচনাশৈলী এত স্বচ্ছন্দ, বলিষ্ঠ ও নিখুঁত যে বয়সের বিবেচনায় তাঁর রচনা বিস্ময়কর প্রতিভাত হয়। ১৯৮৭ সালের ১২ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

 

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা