kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

পূর্ণোদ্যমে ফিরছেন ওবায়দুল কাদের

জাহাঙ্গীর আলম

১০ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পূর্ণোদ্যমে ফিরছেন ওবায়দুল কাদের

ঠিক আগের মতো, যেমনটি দাপিয়ে বেড়িয়েছেন পথঘাট, বিরতিহীন পালন করেছেন দলীয় কর্মকাণ্ড, সাক্ষাৎ দিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ীদের—সেই পূর্ণোদ্যমে দেশে ফিরছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গত কয়েক দিনে স্বচক্ষে দেখা অবাক করা শারীরিক উন্নতি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সঙ্গে খোলামেলা আলাপ করে তেমনটিই জেনেছি।

ধরতে গেলে এটি তাঁর পুনর্জন্মই। বেঁচে থাকার হাল ছেড়ে দেওয়া সেই চিকিৎসকরাই এখন বলছেন আগের মতো শক্তি পেতে শুরু করেছেন ওবায়দুল কাদের। আমি নিজেও গত ৪ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচবার সিঙ্গাপুরে গিয়ে নেতাকে (ওবায়দুল কাদের) দেখে এসেছি। চিকিৎসার সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু নাসের রিজভীসহ অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা অনেক আশার বাণী শুনিয়েছিলেন, যা এখন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। শুরুর দিকের কান্নাগুলো এখন স্বস্তিদায়ক আনন্দে রূপ নিচ্ছে।

আমাকে কয়েকজন চিকিৎসক বলেছেন, তাঁরা ‘ফুল ফিট’ করে দেশে পাঠানোর চেষ্টা করছেন। সে চেষ্টায় অনেকটাই সফলতার দিকে তাঁরা। গত কয়েক দিনে শারীরিক উন্নতি ও স্বাভাবিক চলাফেরা, কথাবার্তা ফিরে আসায় দীর্ঘমেয়াদি বিশ্রামের প্রয়োজন পড়বে না বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এখন পর্যন্ত যে উন্নতি হয়েছে, তা সামনের দুই সপ্তাহ অব্যাহত থাকলে দেশে ফিরেই স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবেন। সে হিসাবে আগামী ১৫ অথবা ১৬ মে দেশে ফিরতে পারেন ওবায়দুল কাদের। ওপেন হার্ট সার্জারি হওয়ায় বয়সের তুলনায় শরীর কর্মক্ষম থাকবে আগের থেকে বেশি বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

এরই মধ্যে শারীরিক সুস্থতার খবরটি প্রথম টেলিফোনে প্রিয় দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছেন নেত্রী। আমাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন হাসিমুখে। শারীরিক কসরত চালিয়ে যাচ্ছেন আগের মতো। প্রথম দিকে শরীর ভারসাম্যহীন থাকলেও এখন ফিট। নিজে নিজে হাঁটছেন, বাসা থেকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে যাচ্ছেন। এ যেন আগের সেই কর্মঠ ওবায়দুল কাদের। বাসায় বসে নিজ মন্ত্রণালয়ের কাজ করছেন টেলিফোনে। সড়ক ও সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নানা দিকনির্দেশনা দিতেও দেখেছি। আগে হাসপাতালে আগত দলীয় নেতাকর্মী ও অন্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিষেধ থাকলেও এখন তিনি সবার সঙ্গে কথা বলছেন। বিভিন্ন বিষয় জানতে চাচ্ছেন। আমার সঙ্গে দেশের রাজনীতি নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো কথা হয়। এ সময় তিনি বেশ কয়েকবার দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেছেন।

এক মাস ধরে ওবায়দুল কাদের হাসপাতাল ছেড়ে ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন তিনি। এখন তিনিও অনেকটা হাঁপিয়ে উঠেছেন। দেশে আসতে ব্যাকুলতা প্রকাশ করছেন। তবে চিকিৎসকরা স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারেন—এমন সুস্থ করেই দেশে পাঠাতে চান। 

উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন ওবায়দুল কাদের। সেখানে এনজিওগ্রাম পরীক্ষা করার পর তাঁর করোনারি ধমনিতে তিনটি ব্লক পান চিকিৎসকরা। অবস্থা বেগতিক হলে ৪ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত ২০ মার্চ ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে গত ২৬ মার্চ তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়। গত ৫ এপ্রিল তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ফলোআপ চিকিৎসার জন্য তিনি এখন হাসপাতালের পাশে একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন। এখান থেকেই পূর্ণোদ্যম নিয়ে দেশে ফিরবেন জনপ্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদের।

লেখক : মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, গাজীপুর ও সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা