kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

বহু অবিশ্বাসী আজাবের প্রতীক্ষায় ঈমান আনে না

৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বহু অবিশ্বাসী আজাবের প্রতীক্ষায় ঈমান আনে না

৫৫. যখন মানুষের কাছে পথনির্দেশ আসে তখন তাদের ঈমান আনা ও তাদের রবের কাছে ক্ষমা চাওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি ছাড়া আর কী বাধা থাকতে পারে যে তারা প্রতীক্ষা করেছে তাদের সঙ্গে তা-ই ঘটুক, যা আগের জাতিদের সঙ্গে ঘটে গেছে অথবা তাদের কাছে আসুক সরাসরি আজাব।

৫৬. আমি শুধু সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে রাসুলদের পাঠিয়ে থাকি। কিন্তু অবিশ্বাসীরা মিথ্যা অবলম্বনে বিতণ্ডা করে, যাতে এর মাধ্যমে সত্যকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। আর তারা আমার নিদর্শনাবলি ও যে বিষয়ে ভীতি প্রদর্শিত হয়েছে, সেগুলোকে উপহাসের বিষয়রূপে গ্রহণ করে থাকে। (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৫৫-৫৬)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মানুষের হেদায়েতের জন্য মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে তাঁর বাণী বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। এর পরও বহু মানুষ ঈমান আনে না। তারা অহেতুক আল্লাহর বিধান ও বাণী নিয়ে বিতর্ক করে। কেন তারা ঈমান আনে না—আলোচ্য দুই আয়াতে এর কারণ বর্ণনা করা হয়েছে।

প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, এক শ্রেণির কাফির সত্য জানা ও বোঝার পরও তা মেনে নেয় না। আল্লাহর কাছে তাওবা করে না। এর কারণ হলো, তারা আজাবের অপেক্ষায় আছে। আগের পাপাচারী জাতির মতো কেন তাদের ওপর আজাব আসে না—এই চিন্তা তাদের ঈমানের পথে অন্তরায়। অথচ মহান আল্লাহ সব বিষয়ে ক্ষমতাবান। মুহূর্তের মধ্যে তিনি আজাব অবতীর্ণ করতে পারেন। কিন্তু আল্লাহ মানুষের ওপর বড়ই মেহেরবান। মানুষের প্রতি তিনি দ্রুত দয়া ও করুণা বর্ষণ করেন। তবে পাপকাজ করার দরুন তাদের দ্রুত পাকড়াও করেন না। অবিশ্বাসীরা হঠকারী মনোভাব থেকে দ্রুত আজাব প্রত্যাশা করে। তারা জানে না, এটা আল্লাহর নিয়ম নয়। মানুষ যতই অবাধ্য হোক না কেন, আল্লাহ তাদের সংশোধিত হওয়ার সুযোগ দেন। নিজেকে শুধরে নেওয়ার জন্য তিনি মানুষকে সময় দেন। এর পরও অনেকে পাপাচারের মধ্যে ডুবে থাকে।

এটা স্পষ্ট যে আজাব আসতে দেখার পর ঈমান আনার কোনো মূল্য নেই। কারণ এ ধরনের ঈমান স্বেচ্ছাপ্রণোদিত নয়, বরং অনিবার্য ধ্বংস দেখে বাধ্য হয়ে ঈমান আনা। আল্লাহর কাছে এই ঈমানের কোনো মূল্য নেই।

দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, কাফিররা নবী-রাসুলদের কাছে আজাবের দাবি জানায়। কিন্তু আজাব প্রেরণের ক্ষমতা তাঁদের নেই। নবী-রাসুলদের পাঠানো হয়েছে জান্নাতের সুসংবাদদাতা ও জাহান্নামের সতর্ককারীরূপে।

এর বাইরে নবীদের কোনো দায়িত্ব নেই। আজাব প্রেরণের বিশেষ ক্ষমতা নবী-রাসুলদের দেওয়া হয়নি।

এ আয়াতে মহানবী (সা.)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলা হয়েছে যে কাফিরদের কুফরি যেন তাঁকে দুঃখিত না করে। কেননা সতর্ক করা ও সুসংবাদ দেওয়া ছাড়া তাঁর অন্য কোনো দায়িত্ব নেই। আর সত্য মানা বা না মানার স্বাধীনতা মানুষকে দেওয়া হয়েছে।

শেষের আয়াতে আরো একটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, অবিশ্বাসীরা আল্লাহর নিদর্শনাবলি ও প্রতিশ্রুত আজাব নিয়ে উপহাস করে। ঈমানদার ও নবী-রাসুলরাও তাদের উপহাসের লক্ষ্যবস্তু।

খোদাদ্রোহীদের অন্যতম রীতি হলো কোরআনের আয়াত ও মুমিনদের উপহাস করা। তারা এসব করে সত্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। অথচ এমন একদিন অবশ্যই আসবে, যেদিন ঈমানদাররা কাফিরদের উপহাসের উপযুক্ত জবাব দেবে। সেদিন কাফিরদের আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য