kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

মক্কা নগরীর নিরাপত্তার জন্য ইবরাহিম (আ.)-এর প্রার্থনা

২০ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মক্কা নগরীর নিরাপত্তার জন্য ইবরাহিম (আ.)-এর প্রার্থনা

৩৫. স্মরণ করো, ইবরাহিম বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! এই নগরী নিরাপদে রেখো এবং আমাকে ও আমার সন্তানদের মূর্তিপূজা থেকে দূরে রেখো। [সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৩৫ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : পবিত্র কাবা শরিফ পুনর্নির্মাণের পর হজরত ইবরাহিম (আ.) মহান আল্লাহর দরবারে বিভিন্ন বিষয়ে দোয়া করেছেন। প্রথমেই তিনি মহান আল্লাহর দরবারে মক্কা নগরীর নিরাপত্তা চেয়েছেন। পাশাপাশি তিনি প্রতিমা পূজা থেকে পরিত্রাণ চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন। আলোচ্য আয়াতে এ দুই বিষয়ে তাঁর দোয়ার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তাঁর দুটি দোয়াই কবুল করেছেন। মক্কাকে তিনি নিরাপদ নগরী বানিয়েছেন এবং ইবরাহিম (আ.)-এর বংশধরদের প্রতিমা পূজা থেকে হেফাজত করেছেন।

নিরাপদ নগরী মক্কা : আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী মক্কা নিরাপদ শহর। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি সেখানে (কাবার চত্বরে) প্রবেশ করে, সে নিরাপত্তা লাভ করে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৯৭)

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘স্মরণ করো সে সময়ের কথা, যখন আমি এই গৃহকে (কাবা) মানবজাতির মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল করেছিলাম।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১২৫)

প্রশ্ন হলো, মক্কা নিরাপদ শহর হলে সেখানে দুর্ঘটনা ঘটে কেন? এর জবাব হলো, কোনো তাফসিরবিদই কোরআনে বর্ণিত মক্কার ‘নিরাপত্তার’ ব্যাখ্যায় এ কথা বলেননি যে ‘মক্কায় মানুষের সৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা ঘটবে না।’ বরং অন্য শহরের মতো এখানেও তা ঘটতে পারে। সুতরাং কোরআনে বর্ণিত ‘নিরাপত্তার’ সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনো সংঘর্ষ নেই। কেননা কাবাকেন্দ্রিক হস্তী বাহিনীর ঘটনা খোদ কোরআনেই আছে। আর হজরত নুহ (আ.)-এর যুগে মহাপ্রলয়ে ও ইবনে জুবাইরের আমলে বহিঃশত্রুর আক্রমণে কাবাগৃহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও ইতিহাসসিদ্ধ।

‘নিরাপদ নগরী’র ব্যাখ্যা : ইমাম আবু বকর জাসসাস (রহ.) লিখেছেন, ‘নিরাপদ নগরী কথাটা সংবাদসূচক বাক্য নয়। এটি শাসকদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা। যেন কেউ এ পবিত্র চত্বরে কোনো ধরনের অনিষ্ট করতে না পারে। অর্থাৎ এখানে প্রবেশকারীদের নিরাপত্তা দেওয়া শাসকদের দায়িত্ব।’ (আহকামুল কোরআন : ১/৯০)

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) লিখেছেন, ‘মক্কা নিরাপদ নগরী হওয়ার অর্থ হলো, এখানে যুদ্ধবিগ্রহ, প্রাণী শিকার ও শিকারি জন্তুকে ভীতসন্ত্রস্ত করা নিষিদ্ধ। এমনকি এখানকার বৃক্ষ কাটা ও ঘাস উঠিয়ে ফেলাও নিষিদ্ধ।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির : ৪/১২৫)

আল্লামা ইবনে জরির তাবারি (রহ.)-এর মতে, ‘নিরাপত্তা বলতে জাহেলি যুগের নিরাপত্তার কথা বোঝানো হয়েছে। জাহেলি যুগে কেউ মসজিদুল হারামে প্রবেশ করলে তাকে আক্রমণ করা হতো না। তা ছাড়া হারাম শরিফকে আল্লাহ তাআলা এতটা মর্যাদা দিয়েছেন, জাহেলি যুগে কেউ যদি অন্যায় করে সেখানে আশ্রয় নিত, তার প্রতিশোধ নেওয়া হতো না। এ দৃষ্টিকোণ থেকে এটি নিরাপদ নগরী। কেননা এখানে প্রতিশোধপরায়ণতা নেই। এমনকি হারাম শরিফের সীমানায় কোনো চোরেরও হাত কাটা হয় না। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি যতক্ষণ এই চত্বরে অবস্থান করে, সে নিরাপত্তা লাভ করে।’ (তাফসিরে ইবনে আবি হাতিম : ৩/৭০৮ তাফসিরে তাবারি : ৬/২৯)

আরেকটি বিষয় হলো, কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে দাজ্জাল মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘পৃথিবীর কোনো জনপদ দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে না। কিন্তু সে মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না।’ (বুখারি : ২/৬৬৪; মুসলিম : ৮/২০৬)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

মন্তব্য