kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

১৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃষি ও কৃষক অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি। কৃষকের ধানে আগুন লাগলে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা যাবে না। সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করে কৃষক ফসল ফলায়, কিন্তু তারা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পায় না। ধান, পাট, গম, শাকসবজিসহ প্রতিটি ফসলেরই ন্যায্য দাম থেকে কৃষক বঞ্চিত হয়। কৃষক যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পায় তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। আর এর জন্য কৃষিজাত পণ্য বাজারজাতকরণের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা ও কার্যক্রম চালু করা উচিত। বর্তমানে দেশে দুই কোটি ৬০ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে আউশ, আমন ও বোরো ধান মিলিয়ে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন কোটি ৫০ লাখ টন। কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম আর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার দেশে আউশ, আমন ও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এই বাম্পার ফলনই যেন কৃষকের জন্য কাল হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রতি মণ ধানের উৎপাদন খরচ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা হলেও বর্তমানে তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। সরকারের পক্ষ থেকে সংগ্রহ মূল্য এক হাজার ৪০ টাকা ধার্য করা হলেও কৃষক এই মূল্য পাচ্ছে না। গত ২৫ এপ্রিল থেকে সরকারিভাবে সংগ্রহ অভিযান শুরু করার কথা থাকলেও দেশের বেশির ভাগ এলাকায় এই কার্যক্রম শুরুই হয়নি। মেহনতের ফসল বিক্রি করতে গিয়ে কৃষক নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। অনেক কৃষক ধার পরিশোধ করতে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এক শ্রেণির অসাধু, অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী ও দালালচক্র কৃষকের এই অসহায় অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে। ধান বিক্রি করতে না পেরে কৃষক নিজের পাকা ধানক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কৃষি ও কৃষকের এই দুরবস্থা দেশ ও জাতির জন্য এক অশুভ লক্ষণ। ধান উৎপাদনে কৃষক উৎসাহ হারিয়ে ফেললে শুধু দেশের অর্থনীতিই দুর্বল হয়ে পড়বে না, দেশ এক চরম খাদ্যসংকটে পড়তে পারে। আউশ ও আমনের ভালো ফলন হওয়ায় মিল মালিকদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলেই তারা বোরো ধান কিনতে আগ্রহী নয়। মিল মালিকরা কৃষকের স্বার্থ দেখতে চাইবে না। এ ক্ষেত্রে সরকারকেই কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হবে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে যাতে কৃষক ধান, চাল বিক্রি করতে পারে, সে ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। অগ্রাধিকার দিয়ে খুব দ্রুত সারা দেশে ধান সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। দালাল ও ফড়িয়াদের হাত থেকে কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে হবে।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা