kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

বাজার সহনীয় রাখতে তদারকি বাড়ান

১১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



বাজার সহনীয় রাখতে তদারকি বাড়ান

রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে চলে যায় সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রমজান মাসকে মুনাফার মাস গণ্য করে। চাঁদাবাজি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, পণ্য সরবরাহে ঘাটতির অজুহাত দেখায় তারা। মূল্যবোধের অবক্ষয়, অধিক মুনাফার লোভ এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাব—সব কিছু মিলিয়ে রমজানে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থা সামাল দিতে প্রশাসন তথা সরকারকেই বেশি তৎপর হতে হবে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে এবং ব্যত্যয় দেখলে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। টেলিফোনে ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

► রমজান মাসে পণ্য মূল্য কমাতে টিসিবির কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরতে শুধু রমজানে নয়, সারা বছর বাজার তদারকি জরুরি। বাজার পর্যবেক্ষক ও ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠনগুলোর তদারকি আরো বৃদ্ধি করতে হবে। রমজানকে সামনে রেখে আর যেন মূল্য বৃদ্ধি না হয় সে জন্য টিসিবিকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা যেন কোনো রকম কারসাজি করতে না পারে সেদিকে কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিবছর একই ঘটনা ঘটছে, আমরা প্রত্যেকেই এর শিকার হচ্ছি। এই মুহূর্তে বৃদ্ধি পাওয়া মূল্য কিভাবে হ্রাস করা যায় সেই পন্থা নিয়ে সিন্ডিকেটের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। সবার সামর্থ্য সমান নয়, অনেকে রোজা রেখে ইফতারসামগ্রী জোগাড় করতে হিমশিম খায়। যারা কারসাজি করে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করে, তাদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া গেলে রমজানের পুরো মাসে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা যেন পণ্যমূল্য আর বৃদ্ধি করতে না পারে, প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি পত্রিকা ও টিভি মিডিয়ার সাংবাদিকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► প্রথমত নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে। বড়-ছোট সব বাজার ও দোকানে পণ্যের মূল্যতালিকা টানিয়ে রাখতে হবে। চাঁদাবাজি বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা বাড়াতে হবে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে মূল্য সমন্বয় রাখতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবির পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

► নিয়মিত বাজার দর মনিটরিং করতে হবে। অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে এবং নিয়মিত ও বৈধ ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিতে হবে। ব্যবসা একটি ভালো পেশা। এই পেশাকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► বিগত বছরগুলোতে যেসব কারণে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল, সেসব কারণ চিহ্নিত করে বিষয়গুলোর ওপর কঠোরভাবে দ্রুত জরিমানা ও শাস্তির ব্যবস্থা নিতে পারলে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। টিসিবিরও শক্তিশালী ভূমিকা প্রয়োজন। এ অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। অবৈধভাবে মজুদদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। রমজানকে সামনে রেখে যেসব চক্র পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করে, তাদের চিহ্নিত করে জরিমানা ও শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

সাদিয়া আফরোজ মরিয়ম

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► চাহিদা ও সরবরাহ ঠিকমতো করা গেলে বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এফবিসিসিআই নজর দিলে পণ্যমূল্য কমানো সম্ভব। সব ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। 

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

► রমজান মাসকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ী, ফড়িয়া, কালোবাজারিসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই ফায়দা লুটতে তৎপর থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশে চাল ও লবণ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর বেশির ভাগই আমদানি করা হয়। ফলে অনায়সে এগুলোর মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা ছলচাতুরি করতে পারে ব্যবসায়ী ও মজুদদাররা। তার পরও দ্রব্যসামগ্রীর উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, নিয়মিত বাজার তদারকি করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সতর্ক দৃষ্টি রাখা, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গঠন করা থেকে বিরত রাখা, সরকারি দল ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও চাঁদাবাজি থেকে দূরে রাখা, চিহ্নিত চাঁদাবাজদের প্রয়োজনে র‌্যাব দিয়ে গ্রেপ্তার করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, সব নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মজুদ চাহিদার তুলনায় বেশি। কাজেই বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, যদি সঠিক তদারকি থাকে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

হাজীপুর, চৌমুহনী, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► রমজানে বাজারে যাতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি না হয় সে জন্য পণ্য সরবরাহ সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। যেসব ব্যবসায়ী পণ্য মজুদ করে সংকট সৃষ্টি করে তাদের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করে জরিমানা করতে হবে। সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

আফিয়া ফারজানা ইরিন

খটখটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, রংপুর।

 

► সরকারি বিভিন্ন সংস্থার গাফিলতির কারণে মানুষ এ পবিত্র রমজান মাসে ৫২টি ভেজাল পণ্য খেতে বাধ্য হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে তদারকি যেন জনগণের স্বার্থে হয়, ব্রিফকেস ভর্তির জন্য যাতে তদারকি না হয়। প্রতিটি বাজারে দুদিন পর পর তদারকি করতে হবে। বাড়তি দামে পণ্য বিক্রির দায়ে শাস্তি দিতে হবে, তাহলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে রমজানে লাভের পরিমাণ কমিয়ে দ্রব্যমূল্য কমানো হয়। যাতে ধনী-গরিব সবাই তাদের পছন্দের ইফতার সামগ্রী ও অন্য ভোগ্যপণ্য ক্রয় করতে পারে। আমাদের ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় থাকে রমজান কবে আসবে। রমজান শুরু হলেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় তারা। আমরা যারা ভোক্তা, বাধ্য হয়ে বেশি দামে তাদের পণ্যসামগ্রী ক্রয় করতে হয়। রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে করণীয় : পণ্যের কৃত্রিম সংকট বন্ধ করতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, পণ্যের মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারণ করে দোকানে মূল্যতালিকা টানিয়ে দেওয়া, সরকারি মনিটরিং জোরদার করা, নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা, ভোক্তাদের উচিত অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় পরিহার করা, রমজানসংশ্লিষ্ট পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর রমজানে কার্যক্রম বৃদ্ধি করা।

লায়ন মো. শামীম সিকদার

বেতাগী, বরগুনা।

 

► রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে কর্তৃপক্ষকে নিয়মিতভাবে ছোট-বড় প্রতিটি বাজার মনিটরিং করতে হবে। প্রয়োজনে ক্রেতা সেজে দেখতে হবে কেউ গরুর মাংস, মুরগি, তরিতরকারি, মাছ, দুধ, চিনি, বিভিন্ন ধরনের মসলাসহ প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করছে কি না। গোপনে খোঁজখবর রাখা হলে মুনাফাখোরদের ধরা খুব সহজ হবে। কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব এড়িয়ে চুপচাপ বসে থাকলে মজুতদার-মুনাফাখোররা সুযোগ পেয়ে বসে। কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য গুদামে মজুদ করেছে কি না, নজর রাখা চাই। যারা দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত টাকা নেয়, তাদের বিরুদ্ধেও তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা দরকার। এদের শাস্তি প্রদান করা হলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সহনীয় রাখা সম্ভব।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা।

 

► রমজান মাসে এক শ্রেণির কালোবাজারি ও অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ায়। মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে খাদ্যপণ্য মজুদ ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাদের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসা। অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তারা দরিদ্র মানুষকে অবর্ণনীয় কষ্ট দেয়। সাধারণ মানুষ অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মানুষকে যেন কষ্ট বরণ করতে না হয় সে জন্য এবং নজরদারি বাড়িয়ে বাজারকে বিশেষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা উচিত। শহর, নগর, বন্দর, গ্রাম সর্বত্র সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের নজরদারির আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা দরকার। ব্যবসা-বাণিজ্যে মূল্যপ্রবাহকে কেউ যেন নিজ স্বার্থে ঊর্ধ্বমুখী করে না তোলে, সে জন্য ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মাহে রমজানের প্রাক্কালে যখন অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্যের স্ফীতি ঘটাতে চায়, তখন সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে।

এ কে এম আলমগীর

ও আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম।

 

► বাজার মনিটরিংই সবচেয়ে জরুরি কাজ। সরকার যদি মনিটরিং ঠিক রাখে, তাহলে বাজার ঠিক রাখা সম্ভব। ধর্মীয় মূল্যবোধের, বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তার প্রসার ঘটাতে হবে। আইনি ব্যবস্থাও নিতে হবে।

মো. তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

► রমজানে অতি মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা বাজার অস্থির করে তোলে। অথচ এ সময়ে ব্যাবসায়িক সংযম রক্ষার কথা ধর্মে বলা আছে। বাজার সুস্থির রাখার জন্য প্রশাসনকে সতর্ক ও সক্রিয় হতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। মানুষকেও সচেতন থাকতে হবে।

কুমারেশ চন্দ্র

ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল।

 

► রমজান মাসে ব্যবসায়ীরা অসংযমী হয়ে যায়। সিয়াম সাধনার চেয়ে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে তারা মুনাফা অর্জনের সাধনায় বেশি ব্যস্ত থাকে। এসব হচ্ছে নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে। সরকার বা প্রশাসন নানা উদ্যোগ নিচ্ছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে; কিন্তু লাভ হচ্ছে না। কারণ ক্ষমতায় থাকা বেশির ভাগ প্রতাপশালী ব্যক্তি ব্যবসায়ী; তাদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা প্রশাসনের আছে বলে মনে হয় না। যদি ক্ষমতাধর ব্যবসায়ীরা সংযমী হয়, তাহলে সাধারণ ব্যবসায়ীরাও সংযত হতে বাধ্য হবে।

আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ যুবায়ের

কল্যাণপুর, ঢাকা।

 

► টিসিবি শহরের বাজারগুলোতে মূল্যতালিকা টাঙালেও গ্রামের বা মফস্বলের বাজারে তাদের তদারকি নেই। বাজারে সঠিক ভারসাম্য আনতে হলে তদারকি যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি সঠিক বিপণনও নিশ্চিত করতে হবে। বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পরিবহনব্যবস্থার ত্রুটিও দূর করতে হবে।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যা করণীয় তার জন্য সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে, যাতে কেউ ইচ্ছামতো দাম বাড়াতে না পারে। ভেজাল দেওয়া ও দাম বাড়ানোর জন্য যে কাউকে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আইন অনুযায়ী এসব অন্যায়ের জবাবদিহি থাকা দরকার।

ফোরকান আক্তার চৌধুরী

আড়জতপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা।

 

► অসাধু ব্যবসায়ীদের ধরতে হবে। অতিরিক্ত লাভের জন্য যারা নিত্যপণ্য আটকে রাখে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে সরকারি পদক্ষেপ ও মনিটরিং জরুরি। ভেজাল পণ্য ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

রাশেদুল ইসলাম

ভাওয়াল, মির্জাপুর, গাজীপুর।

 

► রমজান মাস বিশ্বের মুসলিম সম্প্র্রদায়ের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাস। আত্মশুদ্ধির মাসে আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা কেন লোভ-লালসা চরিতার্থ করতে চায় বুঝি না। সরকার ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত টিসিবিকে নিয়ে যেতে পারে। ক্রেতারা যদি সাধ্যের মধ্যে মানসম্মত পণ্য পায়, তাহলে টিসিবির পণ্যের দিকে আকৃষ্ট হবে। সবচেয়ে যা জরুরি তা হলো প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা। একটা ব্যাপার লক্ষ করা যাচ্ছে, সরকার শুধু খুচরা ব্যবসায়ীদের দিকে নজর দেয়। বড় বড় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। কান টানলে মাথা আসে। তখন চুনোপুঁটিসহ সব ধরা পড়বে। যারাই বাজারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিন। তাহলে সংকট পুরোপুরি না কাটলেও সুফল পাওয়া যাবে বলে আমি মনে করি।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► দ্রব্যমূল্য কমানোর জন্য ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা দরকার এবং বেশি পণ্য না কেনার ব্যাপারে মানুষের সচেতন মনোভাব জরুরি। টিসিবির মাধ্যমে মালামাল বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারলেও পণ্যের মূল্য কমানো সম্ভব।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে কিছু মানুষ দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেয়। প্রশাসন সারা বছর নীরব থেকে শুধু পবিত্র রোজায় চালায় অভিযান, ধরা পড়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, চুনোপুঁটি; মূল জায়গায় হাত পড়ে না। গুদামভর্তি চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, বাদাম, তেল সব রকমের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিছু ব্যবসায়ী গুদামজাত করে রাখে। এসব লোভী মানুষ সব সম্প্রদায়ের মধ্যে বিচরণ করে। বছরব্যাপী এই ভেজাল চলে, শুধু রোজার আগে অভিযান চালালে কি এই ভেজাল বন্ধ হবে? তেল, হলুদ, ডাল, মসলা, দুধ, চিনি, চাল, আটা প্রতি মুহূর্তে মানুষের প্রয়োজন আর সেখানেই চলছে ভেজাল। তাহলে প্রশাসন কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়? এত অনাচার, ব্যভিচার অবৈধ অর্থের পাহাড়ের কাছে দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। কার্বাইড দেওয়া ফল পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এটা বছরব্যাপী চালাতে হবে। রোজদার মানুষেরা ধনী-গরিব-নির্বিশেষে সবাই যেন সহনীয় মূল্যে বাজারের নির্ভেজাল খাদ্যদ্রব্য কিনে তাদের ইফতার পালন করতে পারে। সরকার যেন বাজারের ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ না করে অব্যাহত রাখে।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► অনেক দিন ধরেই দেখা যাচ্ছে রমজান মাস নিকটবর্তী হলেই পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দেয় ব্যবসায়ীরা। চাঁদা দিতে হয়, পণ্য সরবরাহ কম—এসব অজুহাত দেখায় তারা। বাজারে কৃষি বিপণিতে কড়া মনিটরিং দরকার। 

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► রমজান মাসে বাজার অস্থির করে তোলা হয়। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে যায়। প্রশাসন বা বাজার কমিটি দেখেও দেখে না। সৌদি আরবসহ বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে রমজানে দ্রব্যমূল্য ক্রয়সীমার মধ্যে রাখা হয়, বাংলাদেশে উল্টো পরিস্থিতি। বাজার কমিটিকে সুদৃঢ় ও নীতিবান হতে হবে। প্রয়োজনে টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করতে হবে।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► সারা বিশ্বে যেকোনো ধর্মীয় উৎসবের সময় পণ্যে নানা রকম ছাড় দেওয়া হয়। বাংলাদেশেই বরং উল্টো রীতি চলছে। রমজান মাস এলে নিত্যব্যবহার্য জিনিসের দাম লাগামছাড়া হয়ে ওঠে। এ সমস্যা কোনো সরকারই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। কেন? কারা এর সঙ্গে জড়িত? মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তাদের ধরে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।

প্রশান্ত

চৌমুহনী, নোয়খালী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা