kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

দুর্বল রাজনীতি উন্নয়ন ও সুশাসনের অন্তরায়

৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনীতির ভারসাম্য ও সুস্থ ধারা বজায় রাখতে একাধিক শক্তিশালী ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল থাকা অপরিহার্য। দেশে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকলে গণতন্ত্রের ভারসাম্য যেমন বজায় থাকে, তেমনি দেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়। দুঃখজনক বিষয় হলো, বর্তমানে আমাদের দেশের রাজনীতি অত্যন্ত দুর্বল ও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। যথেষ্ট জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় বিএনপি প্রায় নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে। দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে এই দল সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। যে কারণে দলটি দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্বলতা দেশ, জাতি ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার জন্য শুভ নয়। অনেক তর্কবিতর্কের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিব ছাড়া বাকি পাঁচজন সংসদ সদস্য শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দিলেন। এর ফলে দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি ও অনিয়মের কারণে এই নির্বাচন নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এই নির্বাচনে একটি দলের বিপুল বিজয় আর অন্য একটি দলের বিপুল পরাজয়—এ দুটিই দেশের রাজনীতি ও জনগণের কাছে ছিল অপ্রত্যাশিত। এ সংকট কাটিয়ে ওঠা বর্তমানে দুটি দলের পক্ষেই খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ দেশে সুশাসন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ ইত্যাদি অবস্থার উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির এই কালো ছায়া দেশের অন্য সব ক্ষেত্রেও পড়তে শুরু করেছে। কাজেই দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের মঙ্গলের জন্যই দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ সংকট কোনো বিশেষ দলের নয়, বরং একে জাতীয় সংকট হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। প্রয়োজনে সর্বদলীয় বৈঠক বা সংলাপের মাধ্যমে এজাতীয় সংকট সমাধানের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। এই সমস্যাকে অবহেলা করা বা সমাধানে কালক্ষেপণ করা দেশের জন্য অশুভ ফল বয়ে আনতে পারে। দেশের দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদদের মধ্যে শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমাধানের দিকে এগিয়ে যাক, এই প্রত্যাশা।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর।

মন্তব্য