kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলুন

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



► ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে নিরাপদে থাকলেও নিজ নিজ দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে তারা চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। শত শত মানুষ সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হামলায় প্রাণ দিলেও এর কোনো প্রতিকার নেই, প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা নেই। মহাপরাক্রমশালী শক্তিধর দেশগুলোও এই সন্ত্রাসীদের কাছে অসহায়। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কোনো আবিষ্কারই এই ভয়াবহ জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের আক্রমণ থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে পারছে না। এমনকি রাষ্ট্রীয় মদদেও কোনো কোনো দেশে বিশেষ কোনো ধর্মাবলম্বী মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। মিয়ানমার সরকারের মদদে সে দেশের সেনাবাহিনী শত শত রোহিঙ্গা মুসলমানকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে, শত শত নারীকে ধর্ষণ করেছে এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো মিয়ানমার সরকারের এই ধর্মীয় হিংসার আগুন থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষা করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। শুধু তা-ই নয়, কোনো কোনো বৃহৎ রাষ্ট্র এই অমানবিক হামলাকে সমর্থনও দিচ্ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, হিংসা থেকেই প্রতিহিংসা আর হামলা থেকেই পাল্টাহামলার ঘটনা ঘটছে। এই হিংসা ও হামলা বন্ধ না হলে প্রতিহিংসা ও পাল্টাহামলাও চলতেই থাকবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ আধুনিক পারমাণবিক অস্ত্র মজুদ থাকলেও বিশ্ববাসী এখন জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হামলাকেই বেশি ভয় পাচ্ছে। এই হামলা-পাল্টাহামলা বন্ধে বিশ্ববাসীকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক ব্যবস্থার পাশাপাশি এই হিংসা-প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি দেশে বসবাসকারী ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, কারণ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাই হিংসার জন্ম দেয়। বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণের যৌথ প্রচেষ্টার ফলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আমরা একেবারে ঝুঁকিমুক্ত নই। যেকোনো ধরনের হামলা প্রতিহত করতে সব পক্ষকেই সতর্ক থাকতে হবে। স্কুল, কলেজ, মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচারণা চালাতে হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা