kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

সন্ত্রাসী হামলা মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি দরকার

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



সন্ত্রাসী হামলা মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি দরকার

সাম্প্রতিক সময়ে সারা বিশ্বে উগ্রপন্থী, জঙ্গিবাদী হামলার ঘটনা বেড়েছে। কোথাও একক ব্যক্তি, কোথাও সংগঠন হামলা চালিয়েছে। কোথাও ধর্মীয় গোষ্ঠীর পরিচয়ে, কোথাও জাতি-শ্রেষ্ঠত্বের নামে হামলা হয়েছে। কিন্তু সর্বত্রই হতাহত হয়েছে বিপুলসংখ্যক নিরীহ মানুষ। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী তৎপরতা অনেক দিন ধরেই চলছে। জঙ্গি হামলায় লোকক্ষয় কম হয়নি এ দেশে। গত কয়েক বছরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে শঙ্কা অনেকটা কমলেও ঝুঁকিমুক্ত হয়নি দেশ। সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে হামলার আশঙ্কা বেড়েছে। তাই সরকার, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা—সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সর্বোত্তম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে, যাতে হামলার অবকাশ জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা না পায়। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমতই জানিয়েছেন

 

► কিছু মানুষের ঘৃণা-বিদ্বেষের কারণে অনেক দেশেই জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে মানুষ সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। গত মার্চে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। শ্রীলঙ্কার ঘটনাটিও এ ধরনের কিছু। সেটা হয়ে থাকলে চিন্তার বিষয় বৈকি! সারা বিশ্বে জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষ বাড়ছে। এর কারণ যথাযথভাবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশকেও সতর্ক হওয়া দরকার। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সজাগ থাকা প্রয়োজন; যাতে কেউ এ ধরনের ঘৃণ্য ঘটনা ঘটানোর সুযোগ না পায়।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সীপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

► গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। দেশে অবস্থানরত বিদেশিদের চলাফেরায় নজর রাখতে হবে। গোয়েন্দা রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

লায়ন মো. শামীম সিকদার

বেতাগী, বরগুনা।

 

► আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে, ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে পাহারা বাড়াতে হবে। বুঝতে হবে সবাই মানুষ, ধর্ম ভিন্ন হলেও।

ফোরকান আক্তার চৌধুরী

আড়জতপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা।

 

► যুবসমাজকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। জঙ্গিবাদ এখন বৈশ্বিক সমস্যা। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।

এম আনিসুর রহমান

শেখেরখিল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

 

► কোনো ধর্মই অশান্তির বাণী প্রচার করে না। কিন্তু জঙ্গিবাদ ধর্ম উন্মাদনার বিস্তার ঘটায়। এক শ্রেণির লোক ধর্মকে পুঁজি করে নিজের স্বার্থ হাসিল করে যাচ্ছে। জঙ্গিবাদ মোকাবেলার প্রস্তুতি রাখতে হবে।

রাহাত রাব্বানী

জয়দেবপুর, গাজীপুর।

 

► জঙ্গিদের আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা পাওয়ার পথ বন্ধ করার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। ধর্মের নামে যারা এসব কাজ করছে, তারা ধর্মকেই মানবজাতির কাছে হেয়প্রতিপন্ন করছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

শুভ্র ঘোষ

নতুন বাজার, কলকলিয়াপাড়া, মাগুরা।

 

► আজ সারা বিশ্বের মানুষ হুমকির মুখে পড়েছে। হিটলারের কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মানবসভ্যতার জন্য বড় বিপর্যয় হয়ে দেখা দেয়। পরে ইসরায়েল নামের রাষ্ট্র সৃষ্টি করে মুসলিম বিশ্বে বিশাল ক্ষত সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। পুঁজিবাদী শক্তিকে অক্ষুণ্ন রাখতে সমাজতন্ত্রী শক্তির বিরুদ্ধে অদ্ভুত গোঁড়া ধর্মীয় গোষ্ঠী তালেবান সৃষ্টি করা হয়েছে। পরে সৃষ্টি হয় আল-কায়েদা গোষ্ঠী। ইরাক ও লিবিয়ার তেল সম্পদ লুণ্ঠন করতে অজুহাত দেখিয়ে দেশগুলোর সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে। সিরিয়ায় যুদ্ধ আজও অব্যাহত। আজ বিশ্ব অশান্তিতে নিমজ্জিত। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শক্তির জোরে নয়, বরং মানবতা বোধে বলীয়ান হয়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা হারিয়ে গেলে মনুষত্বের মৃত্যু ঘটে। আজ পৃথিবীতে মনুষত্বের চরম অভাব। ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য, তাহার ওপরে নাই’—এ বাণী সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশে জঙ্গিদের বেশ কিছু আক্রমণ সরকার অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছে। আমাদের বিশেষায়িত বাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা জঙ্গি হামলা মোকাবেলায় বেশ সক্ষম। এখন জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। জঙ্গি হামলা মোকাবেলার সর্বাত্মক প্রস্তুতি রাখতে হবে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঠিক থাকলে কোনো সমস্যা নেই। জঙ্গি মোকাবেলায় র‌্যাব-পুলিশের সামর্থ্য ভরসাযোগ্য, যদিও সততার, সুনীতির ঘাটতি আছে। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করে তাদের আরো তৎপর করতে হবে। প্রশাসনকে এবং জনগণকেও সতর্ক থাকতে হবে। জঙ্গিরা ধর্মের নামে মানুষ মারে; কিসের ধর্ম পালন করে তারা।

তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

► শ্রীলঙ্কায় নিহতদের জন্য শোক। দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা উচিত। শুধু সরকার নয়, প্রশাসন, পুলিশসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সব উপাসনালয়ে নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। পূর্বপ্রস্তুতি এমন হতে হবে, যাতে জঙ্গিরা হামলার অবকাশ না পায়।

শাহীন মোল্যা

বনগ্রাম বাজার, মুকসেদপুর গোপালগঞ্জ।

 

► সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার জন্য এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আর লাশ দেখতে চাই না। জঙ্গি হামলার ঘটনা দেখতে চাই না। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক রাখতে হবে। পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।

রাশেদুল ইসলাম

রূপসী বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা।

 

► গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সহজাত সম্প্রীতি আমাদের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও সাংবিধানিক মূল শক্তি। একে বিনষ্ট করার যেকোনো চক্রান্ত জাতিকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করতে হবে। আমাদের সুযোগ্য ও দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব রয়েছে। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা এর আগেই এটা প্রমাণ করেছেন, তিনি যোগ্য নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। সন্ত্রাসবাদ দমনে গ্রামগঞ্জে, শহর-বন্দরে দেশের সব এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড় করাতে হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, রাজনৈতিক, সামাজিক, সংস্কৃতিকর্মী, ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, ছাত্র, কৃষক-শ্রমিক, জনতাসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস দমনে তৎপর হতে হবে। নিয়মতান্ত্রিকতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক সততাই হবে আমাদের বর্তমান মহাপ্রতিরোধের মূল শক্তি। বিচ্ছিন্নতাবাদী ও পরস্পরবিরোধী মনমানসিকতা নিয়ে এই সংকট মোকাবেলা করা যাবে না।

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।

 

► সামাজিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে আমাদের সবাইকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধরে রাখতে হবে। অসহিষ্ণু পৃথিবীর ধর্মীয় জঙ্গিবাদ দূর করার জন্য মানুষে মানুষে সুসম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করতে হবে। একের ধর্মবিশ্বাস অন্যের বিশ্বাসের সঙ্গে বিভেদ সৃষ্টি না করে পরস্পরের মধ্যে প্রীতি সঞ্চারসহ মানবতার ও মানবিকতার দিকগুলো মেনে চলতে হবে। উত্তম হয় মোড়ল রাষ্ট্রগুলোর মোড়লদের মানবিকতার দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বের সবার জন্য একরকম রাখা। জঙ্গি হামলার আশঙ্কা মোকাবেলায় জনসচেতনতার বিকল্প নেই। আমাদের একের ধর্মবিশ্বাস অন্যের সঙ্গে যেন বিভেদ সৃষ্টি না করে, অন্য ধর্মবিশ্বাসী লোকদের কষ্টের কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ধর্মীয় শান্তির বাণী স্মরণে রেখে সবাইকে শান্তির পথে চলতে হবে।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে দেশে বর্তমানে অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। ১৬ কোটি মানুষ ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে শান্তিতে জীবন গড়তে প্রস্তুতি নিচ্ছে। জনগণ মনে-প্রাণে জঙ্গিবাদবিরোধী। এতিম ভবঘুরে শিশু-কিশোরদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের নামে যে বা যারা ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে জঙ্গি পয়দা করে, তা বন্ধ করা দরকার। মন্দির ও মসজিদভিত্তিক সরকারের জঙ্গিবিরোধী কর্মতৎপরতা বাস্তবায়ন করা গেলে এটা হ্রাস পাবে। তৃণমূলে ভেদাভেদ দূর করে সম্প্রীতির বন্ধন জোরদারের উদ্যোগ নিতে হবে। জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সরকারের প্রশাসনযন্ত্রকে কষ্টিপাথরের নিরিখে জঙ্গিবাদবিরোধী সংগঠনরূপে তৈরি করতে হবে। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ফেজওয়ারি তিন বছর মেয়াদি জঙ্গিবাদবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন প্রকল্প গ্রহণ করা গেলে সুফল আসবে।  সরকারের সুচিন্তিত কঠোর দৃঢ় সদিচ্ছাই পারবে সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা মোকাবেলায় নানা উদ্যোগ নেওয়া যায়। তবে দেশ-বিদেশে ঘটে যাওয়া আগের নানা ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► সরকার কর্তৃক অনুমোদিত জঙ্গিবাদবিরোধী একটি ভাষণ যদি স্কুল, কলেজ, মন্দির-মসজিদ-মাদরাসায় জাতীয় সংগীতের পরে দৈনিক ও সাপ্তাহিক প্রচার-প্রচারণায় নিশ্চিত করা যায় অথবা এসব জনবহুল সমাগমে প্রশাসনের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পাঁচ মিনিট জঙ্গিবিরোধী ভাষণ নিশ্চিত করা যায়, সাধারণ জনগণের মধ্যে জঙ্গিবিরোধী শক্ত মনোভাব গড়ে উঠবে।

রহিম উল্লাহ

কাট্টলী, চট্টগ্রাম।

 

► সরকারই পারে সব ধরনের নাশকতা রোধ করতে। মানুষের গতিবিধি ও কার্যক্রম অনুসরণ করতে হবে। দোষী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক এবং গডফাদারদেরও ধরতে হবে। সব অপরাধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ডা. সৈয়দ আজিজুল হক

স্টেডিয়ামপাড়া, মাগুরা।

 

► সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি থেকে আমরা সম্পূর্ণ মুক্ত নই। বাইরের কোনো দলের সংশ্লিষ্টতা থাকার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই বহিরাগতদের দিকেও নজর রাখতে হবে। সতর্কতা বাড়ানোর বিকল্প কিছু নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। যেন আগাম সতর্কতা অর্জন করা যায়। সার্বিকভাবে দেশে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► আমাদের গোয়েন্দা বাহিনীসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সংস্থাগুলো বেশ তৎপর রয়েছে জঙ্গি দমনে। অতীতে একবার এ দেশে হামলার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের সময়োচিত হস্তক্ষেপে তা ভণ্ডুল হয়। নব্য জেএমবি সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সফলতার সঙ্গে তাদের দমন করতে সক্ষম হন। সাবধানের মার নেই। আমাদের সতর্ক হতে হবে।

সাকিব আল হাসান

রৌমারী, কুড়িগ্রাম।

 

► প্রথমে আওয়ামী লীগের মধ্যে গ্রুপিং বন্ধ করতে হবে। দলে ঐক্য থাকলে সুন্দর কিছু সম্ভব। প্রশাসনকে প্রশিক্ষিত ও আরো দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ।

 

► জঙ্গিরা যাতে বাংলাদেশে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সচেতন থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। জনগণকেও থাকতে হবে সচেতন। প্রতিটি মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় এবং প্রতিদিন নামাজ শেষে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইমামরা বক্তব্য রাখলে তা প্রতিরোধ করা সহজ হবে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। আমরা জঙ্গিমুক্ত সুন্দর দেশে বসবাস করতে চাই।

লিয়াকত হোসেন খোকন

পিরোজপুর।

 

► আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। প্রয়োজনীয় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় সতর্ক পাহারা দিতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

► জঙ্গিবাদ ইসলাম প্রতিষ্ঠার ভুল পথ, এই পথে জান্নাতেও যাওয়া যাবে না—এ কথা প্রমাণ করতে হবে। পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নিতে হবে। বর্তমানে ইসলামের নাম করে যে দ্বিন প্রচলিত আছে, তা বাহ্যত প্রকৃত ইসলামের মতো মনে হলেও আত্মায় ও চরিত্রে এটি আল্লাহর রাসুলের ইসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত। যেটাকে আইএস, বোকো হারাম, আল-কায়েদা, ইখওয়ান, তালেবান ইসলাম মনে করছে এবং প্রকৃত ইসলামের ছিটেফোঁটাও এর মধ্যে নেই। বিকৃত ইসলাম দিয়ে কোনো দিন শান্তি আসবে না। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের সামনে ইসলামের প্রকৃত রূপ তুলে ধরতে হবে এবং ধর্মের নামে প্রচলিত অধর্মগুলোকে প্রকাশ করতে হবে। ধর্মব্যবসা, জঙ্গিবাদ প্রভৃতি কেন ইসলামসম্মত নয় তা কোরআন, হাদিস থেকে বোঝাতে হবে। ধর্মের অপপ্রয়োগ ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে গণজাগরণ তৈরি করতে হবে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি-প্রমাণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারলে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত হতে পারে।

এ কে এম আলমগীর

ও আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম।

 

► জঙ্গি হামলার আশঙ্কা থেকে আমরা কেউই নিরাপদ নই। এর দমনে প্রশাসনকে আরো সতর্ক ও চৌকস এবং দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। সরকারি নজরদারি বাড়াতে হবে।

জামরুল ইসলাম

সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► জঙ্গিবাদের আসল কারণ বা উৎস চিহ্নিত করে শেকড়ে আঘাত হানতে হবে। যারা জঙ্গিবাদ সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে, তাদের নির্মূল করার ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ধর্মের নামে যারা অরাজকতা তৈরি করে, তারা ফেতনা সৃষ্টিকারী, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী। কোনো ধর্মই নির্দোষ ও নিরপরাধ মানুষকে হত্যার অনুমতি দেয় না। ধর্ম বিভেদের কারণ নয়, এটি মানুষের পরিচয় হয়ে উঠুক। আলেম সমাজের উচিত মাহফিলে হাসি-তামাশা করে ইসলামকে ছোট না করে বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণ ও যুবকদের সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া। রাসুল (সা.) মক্কা বিজয়ের পর শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। আমাদের উচিত মহামানবদের পোশাককে নয়, তাঁদের আদর্শকে অনুসরণ করা। ধর্ম যার যার, দেশ সবার।

সোলায়মান শিপন

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

► সব ধরনের সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নতুন করে তথ্য যাচাই ও নবায়ন করতে হবে। সরকারি দলের ভেতরে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের নজরে রাখতে হবে।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► রাজনৈতিক সংকট ও বিরোধ দূর করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এজেন্সিগুলোকে কাজ করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক হতে হবে। ধর্মীয় নেতা, সুধীসমাজ ও সাধারণ নাগরিককে সচেতন হতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা