kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

মেয়েদের প্রতিবাদী ও সাহসী হতে হবে

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



► প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে একাধিক নারী নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ ঘটনাই প্রকাশ পাচ্ছে না। কারণ পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে অনেক নির্যাতিত ও ধর্ষিত নারী তা প্রকাশ না করে নীরবে নির্যাতন সহ্য করতেও বাধ্য হচ্ছে। নারী নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ ইত্যাদি ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বেশির ভাগই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে এতই প্রভাবশালী যে শুধু নির্যাতিত নারীই নয়, অভিভাবকরাও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না, বরং অভিযোগ করতে গিয়েও নির্যাতিতরা নানাভাবে আবারও নির্যাতিত ও হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছে। সাম্প্রতিক নুসরাত হত্যার ঘটনা আমাদের অনিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা, মূল্যবোধহীন সমাজব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলার দুর্বলতা, অপরাজনীতির প্রভাব ইত্যাদির বড় প্রমাণ। বর্তমানে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী এবং বিশেষ করে মেয়েদের জন্য একেবারেই অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া সমাজের এক শ্রেণির প্রভাবশালী ও বখাটে যুবকের দ্বারা স্কুল ও কলেজগামী ছাত্রীরা নানাভাবে নির্যাতিত, এমনকি নিহতও হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে নারীরা এবং বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যা দেশ ও জাতির জন্য লজ্জাজনক ও বিপজ্জনক। নারী নির্যাতন ও যৌন নিপীড়ন দেশে জাতীয় সমস্যা হিসেবেই দেখা দিয়েছে। মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের কারণে বাঙালি জাতির হাজার বছরের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থা আজ কলঙ্কিত। এ অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে দল-মত-নির্বিশেষে সমগ্র জাতিকেই এগিয়ে আসতে হবে। পরিমল, সিরাজ উদ দৌলার মতো অসংখ্য চরিত্রহীন, লম্পট ও অযোগ্য শিক্ষক দেশের বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো আছে। এ ছাড়া প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মেয়েদের উত্ত্যক্তকারী অনেক বখাটে যুবকও রয়েছে। এই লম্পট শিক্ষক ও বখাটে যুবকরা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর কাছে চিহ্নিত। এদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবেই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করে অভিভাবক ও নারী শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী ও সাহসী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি এলাকায় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী কমিটি গঠন করতে হবে এবং প্রশাসনকে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব অপরাধী ধরা পড়ছে, তাদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা