kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

নারী নির্যাতন বন্ধে অবক্ষয় রোধ ও সুবিচার জরুরি

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



নারী নির্যাতন বন্ধে অবক্ষয় রোধ ও সুবিচার জরুরি

নারীর ওপর নির্যাতন, পীড়ন, যৌন হয়রানি ও হত্যার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। এসব অপরাধ সংঘটনের কারণ সামাজিক অবক্ষয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের নজরদারির অভাব এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির অধঃপতন। পাশাপাশি রয়েছে প্রশাসন ও পুলিশের দায় এড়ানোর মনোভাব ও দুর্নীতি, অপরাধীদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা, বিচারে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ এবং সুশিক্ষা ও সচেতনতার ঘাটতি। রাষ্ট্র কঠোর হলে, বিচার যথাযথ হলে এবং সমাজ ও পরিবার নৈতিক অবস্থানে দৃঢ় থাকলে এমন অপরাধ অনেকাংশে কমে যাবে—কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমতই জানিয়েছেন

 

► নারী নির্যাতন রোধে কিছু মৌলিক কাজ আগে করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে নারী শিক্ষা, সমাজে নারীর সুষ্ঠু অধিকার নিশ্চিতকরণ, নারীর কর্মসংস্থান ইত্যাদি। নারী নির্যাতনের প্রধান কারণ হচ্ছে নারীর পরনির্ভরশীলতা, শিক্ষার অভাব, দুর্বল মনোভাব। একজন নারী যখন শিক্ষিত হবে, কাজ করবে—তখন সে আর অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে। এ ছাড়া পুরুষের মধ্যে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মনোভাব গড়ে উঠলে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সম্ভব।

এম আনিসুর রহমান

শেখেরখিল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

 

► সমাজে প্রতিদিন ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। নারী ও শিশু মারা যাচ্ছে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে কোনো কার্যকর ফলও পাওয়া যাচ্ছে না।

রাশেদুল ইসলাম

ভাঙ্গুড়া, পাবনা।

 

► ভয় ও অজ্ঞতার দরুন নারীরা যৌন পীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়। সব সংকোচ উপেক্ষা করে শিশুদের যৌন নিপীড়ন ও নারী নির্যাতন বিষয়ে সচেতন করতে পরিবারের মেয়ে সদস্যদের এগিয়ে আসতে হবে। নারীরা পরিচিতজনের কাছে যৌন নিপীড়ন ও নারী নির্যাতনের শিকার বেশি হয়ে থাকে। ধর্মীয় অনুশাসন পালনে সবাইকে বাধ্য করতে হবে। পরিবারে, স্কুলে ও অন্যান্য স্থানে যৌন নিপীড়ন ও নারী নির্যাতনের শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়া যাবে সে সম্পর্কে অবগত করতে হবে।

এস এম ছাইফুল্লাহ খালেদ

কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

 

► সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি ভেঙে দিয়ে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রের মাধ্যমে নতুন ও কার্যকর কমিটি গড়ে তুলতে হবে।

তৌহিদুর রহমান টিটু

পাবনা।

 

► নারী নির্যাতন বন্ধ হবে দুটি কাজ করলে। পার্কগুলোতে প্রেমিক-প্রেমিকাদের অশালীন ও অনৈতিক আড্ডা বন্ধ করতে হবে। আর নারী নির্যাতনকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির আইন পাস করতে হবে।

সাকিব আল হাসান

রৌমারী, কুড়িগ্রাম।

 

► সব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতনবিরোধী সেল গঠন করে দ্রুত মামলা গ্রহণ ও ব্যবস্থা চালু করে যৌন পীড়ন ও নির্যাতন সমস্যার সমাধান সম্ভব।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। নৈতিকতা লুপ্ত হয়েছে। এটা আগে ঠিক করতে হবে। না হলে এ সমস্যা রোধ করা সম্ভব হবে না।

মোহনলাল দাস

কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।

 

► যে পরিবারে নারী নির্যাতন বা সহিংসতার ঘটনা ঘটে, সেই পরিবারের শিশুরা হয়ে পড়ে নানা দিক দিয়ে অরক্ষিত। ফলে অনেক সময় তারা সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে নানা সমস্যায় পড়ে। আমরা যদি কিছু বিষয়েয় প্রতি জোর গুরুত্ব দিই, যেমন—নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি করা, ধর্মীয় অনুশাসন ও অশ্লীলতা পরিহার, নারীদের আঁটসাঁট অর্থাৎ টাইট পোশাক পরিত্যাগ করা, সরকার কর্তৃক সব পর্নো সাইট বন্ধ করা, আইনের কঠোর পদক্ষেপ এবং তা সুস্পষ্টভাবে বাস্তবায়ন। আমরা যে যেই ধর্মের অনুসারী হই না কেন, যদি প্রত্যেকে প্রত্যেক ধর্মের অনুশাসন মেনে চলি, তাহলে একে অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব।  সামাজিক আন্দোলন ছাড়া এ ক্ষেত্রে সত্যিকার কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।

 

► নারী নির্যাতন কিংবা যৌন পীড়নের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মানুষই পুরুষের পক্ষ নেয় এবং নারীর পোশাক বা চরিত্র নিয়ে কথা বলে। বাংলাদেশে এখনো কোনো কারণে ঘর ভাঙলে নির্বিচারে নারীকে দোষারোপ করা হয়। মুখে মুখে নারী স্বাধীনতার কথা বললেও আমরা এখনো সেই মধ্যযুগে পড়ে আছি। আমাদের সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

স্নেহা ভৌমিক

কুমিল্লা। 

 

► বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় অনেকে ছাড়া পেয়ে নির্যাতিতকে ভয় দেখায়। দেখাদেখি অন্য অপরাধীদের সাহস বেড়ে যাচ্ছে। বিচার না পেয়ে অনেক নির্যাতিত আত্মহত্যা করেছে। এসব থামাতে হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন। মিডিয়ায় জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান দেখাতে হবে। নিপীড়কদের দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অপরাধীচক্রকে রাজনৈতিক আশ্রয় ও প্রশাসনের সহযোগিতা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। নির্যাতনের শিকার নারী যেন প্রশাসন থেকে সহযোগিতা পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। অপরাধের পৃষ্ঠপোষকদেরও কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আইনি জটিলতা কমাতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► আইনে আছে, বিচারকার্য ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। কিন্তু তা আছে শুধু কাগজেই। প্রায় প্রতিটি ঘটনার পেছনে প্রভাবশালী কোনো মহল জড়িত। তাই মামলার কূল-কিনারা হয় না। সমাজ-পরিবার ছোটখাটো অপরাধকে আমলে নেয় না; শাসন করা হয় না। প্রতিটি ঘটনায় নিশ্চয়ই ভুক্তভোগীর পরিবার অপরাধীর পরিবারের কাছে বিচারের আশায় যায়। নারী নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় অপরাধীচক্র জড়িত। তারা রাজনৈতিক আশ্রয় বা প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়া পায় এবং পার পেয়ে যায়। অন্যদিকে মামলা তদন্তের নামে ঝুলে থাকে বছরের পর বছর। পরিবারকে নজর রাখতে হবে সন্তানের প্রতি। পরিবারের অবহেলায় প্রায়ই বখে যায় তারা। একজন মা যেন হয় সন্তানের ভালো বন্ধু। সরকারের প্রতি অনুরোধ, অপরাধীরা যেন পার না পায়।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নুসরাত হত্যার ঘটনা সারা দেশে আলোড়ন তুলেছে। এ ধরনের ঘটনা অবশ্য মাঝেমধ্যে ঘটে। আর যৌন নিপীড়ন ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দুটি উপায়—একটি ধর্মীয় অনুশাসন এবং অন্যটি রাষ্ট্রের আইনের প্রয়োগ। দুটিরই অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতার অধঃপতনের কারণে এসব ঘটনা বেড়ে চলেছে। রাজনৈতিক কারণে অনেক সময় অপরাধী ছাড় পেয়ে যায়। অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি প্রদান এবং নীতি-নৈতিকতা ও ধর্মীয় অনুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে যৌন নিপীড়ন, নারী নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধ দূর করা সম্ভব।

মুহাম্মদ আবু তালহা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল।

 

► নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌন নিপীড়ন, নির্যাতনসহ সব অপকর্ম আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও গার্মেন্টে নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের কাজকর্ম করতে পারছে না। নির্যাতন ও লালসার শিকার হচ্ছে নারীরা। মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান বসতবাড়ি। সেখানেও স্বামী কর্তৃক স্ত্রী এবং গৃহকর্তা কর্তৃক কর্মরত নারী নির্যাতিত হচ্ছে। নারীসমাজের প্রতি অনুরোধ, আপনারা শক্ত হাতে নুসরাতের মতো যৌন অপকর্মের প্রতিবাদ করুন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন। যারা এ কাজগুলো করে প্রতিরোধ করুন। দেখবেন এতে ব্যক্তিত্ব, মান, যশ, খ্যাতি বৃদ্ধি পাবে। নিরাপদ হবে নারীর জীবনযাত্রা।

মো. ইলিয়াছ হোসেন

খটখটিয়া, মহানগর, রংপুর।

 

► নারী নির্যাতন বন্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। অপরাধীর দ্রুত বিচার করতে হবে। পাড়ায় পাড়ায় প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে। সন্তানের সর্বদা খবর নিন আপনার সন্তান কী করছে, কাদের সঙ্গে মেলামেশা করছে? আপনার সন্তানকে যেভাবে হোক মানুষের মতো মানুষ করুন। সুশিক্ষা দিন।

আফিয়া ফারজানা ইরিন

খটখটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, রংপুর। 

 

► যৌন পীড়ন ও নারী নির্যাতনের ঘটনা যে শুধু মাত্রা ছাড়িয়েছে তা নয়, অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। অর্থনৈতিক কারণে কেউ পড়ালেখা করছে না—এ রকম হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু আছে প্রকৃত শিক্ষার অভাব। এ ব্যাপারে প্রয়োজন পারিবারিক সুশিক্ষা। যৌন পীড়ন ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সমাজের সব স্তরের সচেতনতা জরুরি। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও কঠোর হতে হবে। যারা এর আগে এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে এ ব্যাপারে জনসচেতনতা তৈরি করা সম্ভব। সবার ওপরে দৃঢ় পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন তৈরির মাধ্যমেও নারী নির্যাতন ও যৌন পীড়ন অনেকাংশেই রোধ করা সম্ভব।

প্রশান্ত ভৌমিক

চৌমুহনী, নোয়াখালী।

 

► প্রতিদিনই নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এ জন্য কঠোর শাস্তি দিতে হবে। শাস্তির জন্য কোনো সময়ক্ষেপণ করা যাবে না। শাস্তি দেখে যেন অপরাধীরা অপরাধ করতে ভয় পায়।

মোমিন হৃদয়

কাজীপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► রাজনৈতিক স্থবিরতার কারণে সমাজে নানা অঘটন ঘটছে। অনৈতিক ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ ঘটছে প্রতিদিন সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চা নেই বলে। দলছুট নেতারা যদি সমাজের বড় পদে চলে যান, মানবিক ও যোগ্যরা পিছিয়ে থাকেন, তাহলে তো সমাজের উন্নয়ন হবে না। এখন জরুরি হচ্ছে আইনের প্রতিষ্ঠা। নৈতিক পতন  ঠেকাতে সুশাসন দরকার। সুশাসন ছাড়া এসব অনাচার বন্ধ করা যাবে না। 

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► শুধু আইন করে শাস্তি দিয়ে এসব বন্ধ করা সম্ভব নয়, চাই নিয়ম-নীতি মেনে চলার অভ্যাস। নৈতিক চরিত্র গঠনে পরিবারের, মা-বাবার ভূমিকার পরেই শিক্ষাঙ্গনের ভূমিকা।  পারিবারিক বন্ধন শিথিল হচ্ছে, ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেও অন্ধকার যুগের দৃশ্য দেখতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন বা ওসির ভূমিকা রাষ্ট্রের নৈতিক অবক্ষয়ের স্মারক। দরকার মানবতাবোধ, সুশিক্ষা, পরিবারের দায়বদ্ধতা, শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা রক্ষা করা। 

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► রাজনৈতিক নেতারা সমাজের ভালো কাজে উদ্যোগ নিতে পারেন এবং সব ধরনের অনাচার ঠেকাতে পারেন। এ জন্য সৎ ও ত্যাগী নেতাদের পদ দিতে হবে। প্রকৃত নেতারাই যেন সমাজের প্রতিনিধি হন, সেদিকে নজর দিতে হবে।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ।

 

► আজকাল আইন যেন অপরাধীদের বাঁচানোর জন্য কাজে লাগানো হয়। ফলে নারী নির্যাতন, যৌন পীড়নসহ বিভিন্ন অপরাধ বিরামহীনভাবে ঘটছে। অপরাধীকে অপরাধীই ভাবতে হবে, অন্য কিছু ভাবলে চলবে না। আইন প্রয়োগে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। অপরাধীরা সংখ্যায় বেশি নয়, কঠোর শাস্তি হলে তারা দমতে বাধ্য।

মো. হুমায়ুন কবীর বাবু

দক্ষিণ বানিয়াগাতী, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।

 

► নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা এবং বিচারকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আইনজীবী ও বিচারক প্রশিক্ষণ জরুরি। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। বিচারকার্য ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

► প্রশাসনযন্ত্রের ঢিলেমি পরিহার করে তীক্ষ দৃষ্টি রাখলে, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলা গেলে, ভিকটিমের প্রতি সহানুভূতিশীল হলে এই সামাজিক ক্যান্সার ব্যাধি নিরাময় করা সম্ভব। বিশেষ করে সরকারি রাজনৈতিক মাঠকর্মীরা দুর্বল জনগণের পাশে থাকলে এসব প্রতিরোধ করা কঠিন নয়। টেলিভিশনসহ সংবাদ মাধ্যমও বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► নারী নির্যাতন ও যৌন নিপীড়ন চলছেই। গত ১৫ দিনে ৪০ জনের বেশি নারী ও শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং আটজনেরও বেশি নারী-কিশোরী-শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আটক করা হয়; কিন্তু শাস্তি যা হওয়ার তা হচ্ছে না। তদন্তে সময় যায়। বিচার বিলম্বিত হয়। এসব ঘটনার দ্রুত বিচারই কাম্য।

ফোরকান উদ্দিন

বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা।

 

► বিচারহীনতা অপরাধীদের সুরক্ষার শর্ত তৈরি করে। যৌন নিগ্রহের, বিশেষভাবে ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত বিচার সময়ের দাবি। অপরাধপ্রবণতা মানুষের স্বভাবে থাকে। এ প্রবণতা দূর করতে হয় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে; রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নাগরিকদের মধ্যে মানবিক শিক্ষা প্রদান ও মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার মাধ্যমে। অপরাধ দমনে এসবের কিছুই দেখা যাচ্ছে না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিলুপ্ত না হলে, রাষ্ট্র আন্তরিকভাবে উদ্যোগী না হলে এমন অপরাধপ্রবণতা দূর হওয়ার নয়।

মুফতি আব্দুল্লাহ আল হাদী

ব্যাংক কলোনি, সাভার, ঢাকা।

 

► রাফিকে উত্ত্যক্তকারী অধ্যক্ষ সিরাজকে গ্রেপ্তারের পরও হাসতে দেখা গেছে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের পাশেই হাসতে দেখা গেছে নুসরাত হত্যার পরিকল্পনাকারীকে। আমরা কত অসহায় যে আমাদের সামনে আজ ধর্ষকরা হাসে, নিরীহরা পুড়ে মরে। স্বাধীনতাবিরোধী কাদের মোল্লার হাসি ও ভিক্টোরি সাইন তাঁকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছে; ধর্ষক ও যৌন নিপীড়কদের হাসিও তাদের ফাঁসির দড়িতে ঝোলাক—এটাই চাওয়া সরকারের কাছে। 

আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ যুবায়ের

কল্যাণপুর, ঢাকা।

 

► নারীর নিরাপত্তার অভাব এখনো প্রকট। সুষ্ঠু বিচারের অভাবে এই নষ্ট প্রবণতার মাত্রা বাড়ছে। অপরাধীদের যেন কেউ শাসন করতে পারে না। তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। পারিবারিক শিক্ষাও বাড়াতে হবে।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► মাদরাসা শিক্ষক সরকারি দলে নাম লিখিয়ে বা এমপির সঙ্গে সখ্য গড়ে সরকারি মাদরাসায় ঢুকছে। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► নারী নিপীড়ন, যৌন হয়রানির অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পর বিচার হয় কম। বিচারে অনেক সময় লাগে। এসব প্রবণতা বন্ধ করতে হলে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা