kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

অবহেলা, অনিয়মের কারণেই এ দুরবস্থা

৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



৪০০ বছরেরও বেশি পুরনো ঢাকা শহর। কালপরিক্রমায় এর অনেক বিস্তার ঘটেছে। ঢাকা শহরকে অনেক ‘অত্যাচার’ও সহ্য করতে হচ্ছে। জনসংখ্যার অস্বাভাবিক চাপ শহরের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। ৫০ বছর আগে ঢাকার লোকসংখ্যা ছিল ১৪ লাখের মতো। এ সময়ের মধ্যে সারা দেশের লোকসংখ্যা বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ; কিন্তু ঢাকা শহরের লোকসংখ্যা বেড়েছে ১০ গুণের বেশি। জনসংখ্যার চাপ বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিতভাবে শহরের বিস্তার ঘটার ফলে অগ্নি দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ শহরে বসবাস দিন দিন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। ঢাকা মহানগরীর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একাধিক কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তাদের সমস্যা অনুধাবনে ব্যর্থতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে এই মহানগরীর সমস্যা বেড়েই চলেছে। অগ্নি দুর্ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনা, যানজট, জলজট, মশার আক্রমণ, পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি কারণে দিন দিন ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। শুধু বেআইনি ও অননুমোদিত ভবন অপসারণ করে, ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই চলবে না; যাদের অবহেলা, অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে, তাদেরও চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ঢাকা শহরকে ঝুঁকিমুক্ত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। আবাসিক এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা ও গোডাউন শহরের বাইরে সরিয়ে নিতে হবে। অতিঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। জনসংখ্যার চাপ কমাতেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেবা প্রদানকারী সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত ব্যবস্থার অধীনে আনতে হবে।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর।

মন্তব্য