kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

অগ্নিকাণ্ডের বেশির ভাগ অনিয়মপ্রসূত, কড়া শাস্তি দরকার

৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



অগ্নিকাণ্ডের বেশির ভাগ অনিয়মপ্রসূত, কড়া শাস্তি দরকার

রাজধানীতে আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়; হতাহতও এ পর্যন্ত কম হয়নি। প্রতিবারই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত কার্যকরী কিছুই ঘটতে দেখা যায় না। নকশা লঙ্ঘন করেই সুউচ্চ ভবন নির্মিত হচ্ছে। রাস্তা কতটুকু চওড়া তা দেখে ভবনের উচ্চতা নির্ধারণ করা উচিত, সেটা করা হয় না। ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে না। জরুরি নির্গমন সিঁড়ি অনেক ভবনেই নেই। আগুন নেভানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নেই। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের নজরদারি নেই; উল্টো আছে অনিয়ম-দুর্নীতি। বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের ক্ষেত্রে, বাজারের ক্ষেত্রে কোড ও সিস্টেম মনিটরিংয়ে প্রায়ই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হয়। কারণগুলো সবারই জানা, অনেক পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এখন ব্যবস্থা নেওয়ার পালা। টেলিফোন ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

► অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরি বহির্গমন দরজা যথেষ্ট চওড়া ও উঁচু করতে হবে। দরজা এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে বাইরে থেকে খোলা যায়। দরজায় লাল অক্ষরে ‘বহির্গমন’ বা ‘এক্সিট’ লেখা থাকবে। কারখানার সব ফ্লোরের দরজা বা জরুরি বহির্গমন পথ খোলা থাকবে। লাল ও হলুদ রং দ্বারা জরুরি বহির্গমন পথ ও বহির্গমন পথ জেব্রা ক্রসিংয়ের মতো চিহ্নিত থাকতে হবে। সব দরজা বা বহির্গমন পথে, সিঁড়িতে ব্যাটারিচালিত জরুরি বাতি এবং প্রতিটি সিঁড়ির সঙ্গে মজবুত হ্যান্ডরেইল থাকতে হবে, যাতে কেউ পড়ে না যায়।

আশিকুর রহমান সবুজ

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► আগুন নিয়ে আমাদের সাধারণ নাগরিকের আসলে তেমন কিছু বলার নেই। যাঁরা এসব দায়িত্বে নিয়াজিত থাকেন, তাঁদের আরো চৌকস ও আধুনিক হতে হবে। সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

মো. তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

► অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের একমাত্র উপায় সচেতনতা। নাগরিকরা সচেতন না হলে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা দেখতেই হবে। সিগারেটের আগুন থেকেও অগ্নিকাণ্ড হয়। গ্যাসের চুলা ও বিদ্যুতের লাইন ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করতে হবে। 

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা।

 

► সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। ফায়ার সার্ভিসকে আরো দক্ষ, উন্নত করতে হবে। ভবন মালিকদের সচেতন হতে হবে। ভবন বানাতে লোন যারা দেয়, তারা যেন নিয়মিত তদারকি করে।

রাশেদুল ইসলাম

রূপসা বাজার, পাবনা।

 

► ঢাকার যেসব মালিক ভবন করার সময় পর্যাপ্ত বহির্গমন পথ না রেখে একমাত্র ব্যাবসায়িক চিন্তা-চেতনায় ভবন তৈরি করে তাদের তো হত্যাকারী বলাটাই বাঞ্ছনীয়। জরুরি মুহূর্তে বের হওয়ার প্রয়োজন হলে ভবনের সিঁড়ি প্রায়ই বন্ধ থাকে। ফায়ার সার্ভিস অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষের আহ্বান থাকবে অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে যেন কোনো ছাড় না দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভবনের সিঁড়ি সব সময় খোলা রাখতে হবে এবং সিঁড়ি ফাঁকা রাখতে হবে। ভবনে প্রতি ফ্লোরে অগ্নিনির্বাপক উপকরণ রাখতে হবে এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যাপ্ত বহির্গমন সিঁড়ি ও বিকল্প সিঁড়ি নির্মাণ করতে হবে।

লায়ন মো. শামীম সিকদার

বেতাগী, বরগুনা।

 

► একের পর এক অগ্নিকাণ্ড জাতিকে ভাবিয়ে তুলেছে। রাজধানীর এবং অন্যান্য স্থানের অনেক ভবনে সিঁড়ি অত্যন্ত সরু। কারখানাগুলোতেও একই অবস্থা। উঁচু ভবনে, বিশেষ করে রাজধানীর অত্যুচ্চ ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথভাবে রাখা হয়েছে কি না নিয়মিত তদারক করা দরকার। শপিং সেন্টারগুলোতে উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকতে হবে। মাসে একবার মার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের জন্য অগ্নিনির্বাপণ মহড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। জরুরি বহির্গমন সিঁড়ি থাকতে হবে। অভ্যন্তরীণ সিঁড়িঘর প্রশস্ত থাকতে হবে। অগ্নিনির্বাপণ ও প্রতিরোধের বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যেকোনো ভবনে বিদ্যুত্ব্যবস্থা ও সরঞ্জামাদি অবশ্যই মানসম্পন্ন হতে হবে। সঠিক নকশায় ভবন নির্মাণ করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলাকারীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করা হয়েছে কি না নিরীক্ষণ করতে হবে। ফায়ার সার্ভিসের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► মুহূর্তের অসতর্কতায় আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নিতে পারে শত শত প্রাণ; কোটি কোটি টাকার সম্পদ। অসতর্কতায় আগুনের সূত্রপাত হয়। তাই আগুন ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। গ্যাস, দাহ্য পদার্থ, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হতে হবে।

আফিয়া ফারজানা ইরিন

খটখটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, রংপুর।

 

► ভবনে আগুন ধরিয়ে ঋণখেলাপির ভার কমানোর প্রয়াস রয়েছে বলেও অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এসব সত্যি কি না খতিয়ে দেখতে হবে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে, মার্কেটে আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে কি না মনিটরিং করতে হবে। একের পর এক আগুন লাগছে, শুধু দুর্ঘটনা বলেই দায় শেষ করা যায় না।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানোর জন্য এবং অগ্নিনির্বাপণ দ্রুত ও সহজ করার জন্য যেসব ব্যবস্থা নেওয়া উচিত—কোড মেনে ভবন নির্মাণ করতে হবে; অগ্নিকাণ্ডের এলাকায় রাস্তা প্রশস্ত রাখতে হবে; প্রতিটি ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে; ভবনের দুদিকে চওড়া সিঁড়ির ব্যবস্থা থাকতে হবে যাতে দ্রুত বের হওয়া যায়; অগ্নিনির্বাপক গাড়ি ও জনবল বাড়াতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারের বিষয়ে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

► রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ঘটে যাচ্ছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। পুড়ছে মানুষ, জ্বলছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি জমে উঠছে পোড়া শবদেহের পাহাড়ে। আগুন আতঙ্কে কাটছে প্রতিটি মুহূর্ত। রাজধানীবাসীর চোখে কালগ্রাসী অগ্নিশিখার তাণ্ডব-ভীতি কাটছে না। এমতাবস্থায় অগ্নিকাণ্ডে ঝুঁকিপূর্ণ বাসাবাড়িগুলো শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যেমন—প্রতিটি ভবনে অগ্নিনির্বাপণ গ্যাস নিশ্চিত করা, প্রতিটি ভবনে ফায়ার সার্ভিসের ফোন নম্বর সংগ্রহে রাখা, কোথাও আগুন লাগলে তা ঠাণ্ডা মাথায় প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা, তেল ও বিদ্যুৎজাতীয় আগুনে পানি না দিয়ে অগ্নিনির্বাপণ গ্যাস, বালু অথবা শুকনা মাটি দিতে হবে। দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিতে হবে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। ফায়ার সার্ভিসের কাজে সহায়তা করা এবং তাদের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে সে ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ফায়ার সার্ভিসকে আরো অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি দ্বারা সজ্জিত করলে অগ্নিকাণ্ডের তাণ্ডব প্রতিরোধ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছি।

অনিক রায়

হাতীবান্ধা, লালমনিরহাট।

 

► রাজধানীতে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড কী করে ঘটে? খতিয়ে দেখতে হবে সরকারকে। অবকাঠামো ঠিক না রেখে রাজউককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ক্ষমতাবানরা বহুতল ভবন নির্মাণ করছে কোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা না করেই। তাই যততত্র ক্ষতি হচ্ছে। আগুন লাগলে ঝটপট ফায়ার ফাইটাররা পানিও ছিটাতে পারেন না। একে তো বহুতল ভবন, তারপর চিপা গলি। সবচেয়ে যা বিরক্ত লাগে— লোকজনের ভিড়ভাট্টা। কারো তো কোনো সহযোগিতার নাম নেই, সবাই সেলফি আর লাইভ দেখানোয় ব্যস্ত। সদ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার পরিকল্পনা করছে না তো কেউ? এগুলো খতিয়ে দেখার অনুরোধ রইল। সরকার যেসব উন্নয়নমূলক কাজ করছে, তা হয়তো অনেকের সহ্য হচ্ছে না। দলের চেয়ে দেশ বড়। দেশের ক্ষতি কেউ মেনে নেবে না। যেসব বহুতল ভবন নিয়ম না মেনে তোলা হয়েছে বা বাস অযোগ্য, সেগুলো চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। 

 

► রাষ্ট্রের প্রাণ রাজধানী। গোটা রাষ্ট্র পরিচালিত হয় রাজধানী থেকে। তাই রাষ্ট্রের জনগণের সর্বোচ্চ নিরাপদ স্থান হতে হবে রাজধানী। সেই রাজধানী যদি অরক্ষিত থাকে, রাজধানীবাসীর জীবন যদি সংকটাপন্ন হয়, তাহলে গোটা রাষ্ট্রে অস্থিরতা দেখা দেয়। মানুষ বিচলিত বোধ করে।  ঢাকায় একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য অনেক কিছুই করার ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বনানীর একটি ভবনে ২৬টি তাজা গ্রাণের মর্মান্তিক মৃত্যুর দৃশ্য জনমানুষের চোখের সামনে বেরিয়ে এলো। প্রতাপশালী, প্রভাবশালী, মাসলম্যানের চাপে রাষ্ট্র ও সমাজের সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন, দেখার যেন কেউ নেই। জনমানুষে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এই মানুষ নামের অমানুষেরা, যার পরিণতি রানা প্লাজায় খেটে খাওয়া শ্রমিকের মৃত্যু, আর লোভের আগুনে জীবন্ত দগ্ধ জনমানুষ। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে পদক্ষেপ নিতে হবে, কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে দায়িত্বে অবহেলার জন্য। প্রয়োজন সুষুম তদন্ত আর কঠিন পদক্ষেপ। ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সঠিক পরিসংখ্যান রাজউক বা সিটি করপোরেশনের কাছে কেন নেই? সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► প্রতিটি ভবনে আগুন নেভানোর জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ব্যবস্থা আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। ভবন নির্মাণের সময় বিল্ডিং কোড মেনে চলতে হবে। প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► ঢাকা যানজটের শহর, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর শহর। এখন আরেক ভয়ংকর দুর্নাম যখন-তখন আগুন লাগার শহর। সব আগুনই একসময় নিভে যায়। নিমতলী নিভেছিল, চকবাজার নিভেছিল বনানীর একটি ভবনের আগুনও নিভল। কিন্তু থামল না কথা। নাগরিক সেবাদানের যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের উচিত হবে অগ্নিনির্বাপণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবন নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন না দেওয়া। অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রতিটি ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসের সংখ্যা এবং মহড়াও বাড়াতে হবে। নিরাপত্তা শিথিলতার কোনো ফাঁক গলে আগুনের লেলিহান শিখা কোথায় ছড়িয়ে পড়বে তা আগে থেকে অনুমান করার উপায় নেই। তবে সচেতন হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, তার ইত্যাদি ব্যবহারের সময় পণ্যমান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। বাড়িঘর ও কলকারখানায় অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিটি এলাকায় পানি সংগ্রহের পর্যাপ্ত উৎস থাকতে হবে। প্রশাসন তার দায়িত্ব পালন করবে, কিন্তু আমরাও শুধু বিল্ডিং বানিয়েই যাব, নিরাপত্তায় উদাসীন থাকব, তা হতে পারে না।

এ কে এম আলমগীর

ও আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম।

 

► আমাদের দেশে যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তখন কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। সপ্তাহ বা মাসখানেক ধরে চলে বিশেষ অভিযান। জেল, জরিমানা, সাজা প্রভৃতির ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর কিছুদিন অতিবাহিত হতে না হতে সেই চিরচেনা পুরনো অবস্থার আবারও পুনরাবৃত্তি ঘটে। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান নিজের যা ইচ্ছা তাই করতে থাকে।  বহুতল ভবনে একাধিক নির্গমন সিঁড়ি, লিফট, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখতে হবে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ব্যবহারের জন্য ‘ফায়ার হাইড্রেন্ট’ স্থাপন করতে হবে। সব দাহ্য ও রাসায়নিক পদার্থ আবাসিক এলাকার বাইরে সরাতে হবে। আবাসিক এলাকার রাস্তাগুলো চওড়া করতে হবে, যাতে ফায়ার সার্ভিসের যানবাহন অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে। গ্যাস ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। পুরনো বৈদ্যুতিক তার ও সরঞ্জামাদি সরিয়ে ফেলতে হবে। অগ্নিকাণ্ডের সময় উত্সুক জনতাকে ঘটনাস্থলে সমবেত হতে দেওয়া যাবে না, এতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের কাজে বিঘ্ন ঘটে।

মো. ইলিয়াছ হোসেন

খটখটিয়া, মহানগর, রংপুর।

 

► আগুন আমাদের জীবন ও স্বপ্ন—সব শেষ করে দেয়। এ বিষয়ে সরকারের প্রশাসন যন্ত্রকে আরো সতর্ক হতে হবে। আগুন কারা লাগায় ও কিভাবে—সেই উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং কঠোর হাতে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ।

 

► আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে জানাতে হবে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত পৌঁছানোর জন্য রাস্তা চওড়া করতে হবে। গলিতে লোকের ভিড় থাকা উচিত নয়। আগুন  নেভানোর সরঞ্জাম প্রতিটি ভবনে রাখতে হবে। কাজ শেষে রান্নাঘরের চুলা ঠিকমতো বন্ধ করতে হবে। শপিং মলে ধূমপান নিষিদ্ধ করতে হবে।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► গ্যাস, পেট্রল, ডিজেল, কেমিক্যাল দাহ্য পদার্থ, বৈদ্যুতিক উৎস থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। বিল্ডিং কোড মেনে বাড়িঘর নির্মাণ করতে হবে। আগুন নেভানোর গাড়ি প্রবেশের রাস্তা রেখে বাড়ি নির্মাণ করতে হবে। বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং অভিজ্ঞ লোক দিয়ে করাতে হবে। প্রকৌশলীর সুপারভিশনে বৈদ্যুতিক কোড মেনে ওয়্যারিং করতে হবে। নিরাপত্তা সরঞ্জাম বসানো এবং ভূসংযোগ বাধ্যতামূলক করতে হবে। আগুন নেভানোর জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা ও মহড়া করতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। কার্যকর অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও জরুরি নির্গমন সিঁড়ি থাকতে হবে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► চৈত্র-বৈশাখ মাসে অগ্নিকাণ্ড বেশি হয়। আগে মানুষ অগ্নিকাণ্ডকে দৈব-দুর্বিপাক ভাবত। এখন ইলেকট্রনিক যুগ, সুউচ্চ ভবনের যুগ, দৈব-দুর্বিপাক বলে আর পার পাওয়া যাবে না। বিশেষজ্ঞরা আগুনের ঘটনাগুলোর কারণ হিসেবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করাকে চিহ্নিত করেছেন। ঢাকায় ৭২ হাজার ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। ফলে নিমতলী, চকবাজার এবং বনানীর অগ্নিকাণ্ড দেখতে হচ্ছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

হাজীপুর, চৌমুহনী, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► মানুষের অসচেতনতা আর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতি আগুনকে বিভীষিকাময় করে তুলেছে। অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ভবনে নিরাপত্তার সব সরঞ্জাম স্থাপন করতে হবে। ভবনের আয়তনের অনুপাতে অগ্নিনির্বাপণযোগ্য পানি রাখতে হবে। কোড মেনে ভবন নির্মাণ, সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারে আরো বেশি সচেতন হতে হবে এবং আবদ্ধ ঘরে যাতে কেউ গ্যাস ব্যবহার না করে। সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারের জন্য নীতিমালা ও নির্দেশিকা এবং রাস্তা প্রসারিত করার বিকল্প নেই। আগুন প্রতিরোধী দরজা ব্যবহারও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► সচেতনতা বাড়াতে হবে। সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়াতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবনের প্ল্যান পাসের সময় কড়া নজর রাখতে হবে। স্কাউটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে কাজে লাগানো উচিত।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

►  মালিকপক্ষকে ভবনে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেই ব্যবস্থা আছে কি না এবং কার্যকর কি না সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নিয়মিত মনিটরিং করে দেখতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লোন কত দেখা দরকার।

আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া

শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।

মন্তব্য