kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

জোট হতে হবে নীতি বা আদর্শের ভিত্তিতে

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৪ মিনিটে



জোট হতে হবে নীতি বা আদর্শের ভিত্তিতে

অবস্থান দেখা যাচ্ছে। বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে। বিকল্পধারা ও আরো কয়েকটি দল মিলে নতুন জোট গঠনে সচেষ্ট। আওয়ামী লীগও জোট সংহত করতে সক্রিয়। রয়েছে বাম দলগুলোর মোর্চা। অনেক নিবন্ধনহীন দল রয়েছে, যারা নির্বাচন এলে দৃশ্যমান হয়। স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে বলেও দুটি ধারা রয়েছে। এসব নিয়েই চলছে জোট-মেরুকরণ। রাজনীতিতে জোটের সুবিধা রয়েছে, অসুবিধাও রয়েছে। যেভাবেই জোট গঠিত হোক, তারা রাষ্ট্রের ভিত্তির পক্ষে কি না, জনস্বার্থের কথা ভাবে কি না—সেটাই দেখার বিষয়। তা না হলে জোট হোক বা একক, জনগণের কপালে ভালো কিছু জুটবে না। নীতিহীনতার ঐক্য তথা কোটারি স্বার্থের ঐক্য কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। টেলিফোনে ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

►      বর্তমানে যে জোটটা হয়েছে, সেটা হলেও চলত বিএনপির। কারণ তাদের যে বিপুলসংখ্যক সমর্থক ও ভোটার আছে, জোট করার কোনো দরকার ছিল না। জোটের শরিকদের অনেকেরই এমপি হওয়ার যোগ্যতা নেই। জাতীয় নির্বাচনে সব দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। জোটের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে অনেক ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষার আন্দোলন। জোট করে বরং বিএনপি নেতিবাচক একটি ইমেজ সামনে এনেছে।

নাদিম খান

ভাইজোরা, পিরোজপুর।

 

►      আসলে আমরা দুর্ভাগা জাতি। তা না হলে সরকারের সমালোচনা করতে ক্লিন ইমেজের শক্তিশালী বিরোধী দলের আবির্ভাব হচ্ছে না কেন? বিএনপি আজ ভর করেছে ছোট ছোট দলের প্রভুদের ওপর, যারা নির্বাচনে জামানত হারায় এবং ক্ষমতার সিঁড়ি বাগাতে গিয়ে পল্টি খায়। তাই এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের অবস্থান তৈরি না করে এসব দল নিয়ে মেরুকরণ হবে সরকারের ফাঁদে পা দেওয়া। আমরা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। কোনো হঠকারিতা ও স্বার্থান্বেষী ভাবনার প্রতিফলন দেখতে চাই না।

কামরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর

মীরকাদিম, মুন্সীগঞ্জ।

 

►      ভোটের রাজনীতিতে মানুষকে কাছে টানার ক্ষেত্রে তৃণমূল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের বড় অভাব। একক রাজনৈতিক পরিবেশ এখানে নেই। ফলে জোট গঠন আমি পছন্দ করি না। নানা মেরুর নেতা এসে জোট করে ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসে বসবেন, অথচ তাঁরা সবাই এক আদর্শের কর্মী নন; এটা কাম্য নয়। স্বাধীনতাবিরোধী ও সাজাপ্রাপ্তদের নিয়ে গঠিত জোটে ভোট না দিয়ে ঘরে বসে থাকব। আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব হলেও রাজনীতিতে অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিতে চাই না। তেমন নেতাও চাই না। দেশপ্রেম অটুট আছে এবং স্বাধীনতার  পক্ষে যাঁরা কাজ করবেন, তেমন নেতা চাই।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

►      নির্বাচন আসন্ন। এ সময়ের জোট রাজনীতি গণতন্ত্রের জন্য সুবাতাস বহন করে। তবে রাজনীতির মেরুকরণ আওয়ামী লীগকে বুঝতে হবে। আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী দল। তারা দীর্ঘদিন সরকার পরিচালনা করছে। উন্নয়নের অনেক নজির তারা দেখিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আমরা চাইব, দেশ ও জাতি আরো এগিয়ে যাক। যে দলই ক্ষমতায় আসুক, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তেমন একটা দলই যেন সরকারে আসে। বিএনপির জন্য বিজয়ী হওয়া যেমন কঠিন হবে, সম্ভাবনাও কম নয়।

জাহাঙ্গীর কবির পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

►   প্রথমে আমাদের মানসিক পরিবর্তন দরকার। সরকার ও বিরোধী দল যেভাবে নিজেদের মতামত নিয়ে অনড় হয়ে থাকে, জোট হোক আর যা-ই হোক তাতে কিছু কাজ হবে না। রাজনৈতিক দলগুলো যদি নির্বাচন কমিশনের কথা না শুনে নিজেদের মধ্যে রেষারেষি করে, তাহলে তো সংঘাত অনিবার্য। আমরা সাধারণ জনগণ জোট বুঝি কম, আমরা চাই নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুন্দর ভোট হোক। বড় দুটি দলই তো নির্বাচনের রূপরেখা গঠন করবে, ছোট দলের এখানে কোনো ভূমিকা আছে বলে মনে হয় না। তবে দেশে বর্তমান নির্বাচন যে সুষ্ঠু হবে তেমন কোনো লক্ষণ এখনো খুঁজে পায়নি জনগণ। সরকার কিছুতেই ছাড় দিতে চাচ্ছে না। বিরোধী দলও অনড়। কিন্তু সময় তো ঠিকই চলে যাচ্ছে। আর জোট যত বড় হচ্ছে, দলের ভেতর সংঘাত বাড়ছে। জোট হোক আর না হোক, সব মিলিয়ে সুষ্ঠু একটা ভোট যে হবে এর কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। আমরা একটি সুন্দর, সুস্থ ও অবাধ নির্বাচন চাই দেশে। জোট করুক আর যা-ই করুক, ভালো একটা নির্বাচন এবার উপহার দেবেন জনগণকে সিইসি। এটাই আমাদের আশা।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

►      গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জনগণের জন্য কাজ করে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে হয়। গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় সব কিছুই জনগণের জন্য—এমনটাই বলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে মুখে গণতন্ত্রের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা নেই। তাই রাজনৈতিক দলগুলো একক জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। ক্ষমতা পাওয়াই এখন সবার মুখ্য বিবেচনা। ক্ষমতার জন্য চলছে সব নীতি বিসর্জন। দেশবিরোধী অনেকেই মন্ত্রী হয়েছেন এবং হচ্ছেন। যেসব দলের বা নেতার জনপ্রিয়তা নেই, বছরের পর বছর রাজনীতি করে যাঁরা জননেতা হওয়ার যোগ্য হতে পারেননি, তাঁরা বড় দায়িত্ব পেলে জনগণকে মনে রাখবেন কি? জনবিচ্ছিন্ন মানুষের ওপর জনগণের কল্যাণের দায়িত্ব অর্পণ বেমানান। জনবিচ্ছিন্ন মানুষ জনগণের সুখ-দুঃখ বোঝার ক্ষমতা রাখেন না। তাঁদের দিয়ে দেশ ও জাতির উপকার আশা করা যায় না। তাই জোটহীন রাজনীতি কাম্য। এতে বোঝা যাবে কার সঙ্গে জনগণ আছে, আর কার সঙ্গে নেই। আশা করব একক দলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রচলন করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে প্রশংসার পাত্র হবে।

আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ যুবায়ের

কল্যাণপুর, ঢাকা।

 

►      বিএনপি জোট বিন্যাসে ব্যস্ত। এরই মধ্যে আরো তিনটি দল নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে। আবার তাদের ২০-দলীয় জোট থেকে দুটি দল বেরিয়ে গেছে। এ দুটি দল বি চৌধুরীর সঙ্গে যোগ দিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছে। আওয়ামী লীগও বসে নেই। তারাও জোট গড়তে ব্যস্ত। বাম দলগুলোও মোর্চা গঠন করেছে। দেশে ১৩৯টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। অনেক দলের নিবন্ধন নেই। তাদের কোনো কার্যক্রম নেই, কর্মসূচি নেই। জনগণও জানে না তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী? নির্বাচন এলে তারা দৃশ্যমান হয়। দুই বড় দলের সঙ্গে ভেড়ার জন্য তারা সক্রিয় হয়। এসব দলের এককভাবে নির্বাচন করার সামর্থ্য নেই। এ নিয়েই জোটের-ভোটের রাজনীতি। অনেক দলই ভোটের সময় স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে ঐক্য করে। এটা নীতিহীনতা। জনগণ ভুল করে না।

মো. মিজানুর রহমান

বানাসুয়া, কুমিল্লা।

 

►      জোট রাজনীতির নতুন মেরুকরণের আবহ বর্তমানে আমাদের দেশে নতুন করে দেখা দিয়েছে। জোট রাজনীতি আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। একক দলের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই রাজনীতি সমাজের সাধারণ মানুষের জন্য মঙ্গল বয়ে আনুক বা না আনুক এর বেড়াজাল থেকে আপাতত আমাদের মুক্তি নেই। এই জোট রাজনীতির কারণে ছোটখাটো দলগুলোও মূল্যায়ন পাচ্ছে—এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। দল-মত-নির্বিশেষে সবাই মিলে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে, সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা এটাই প্রত্যাশা করি। বর্তমান সরকারি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই জোট রাজনীতি করে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে, তা চোখ মেলালেই দেখা যায়। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট রাজনীতি নানা মেরুকরণে এগিয়ে যাচ্ছে এটা দৃশ্যমান। বামপন্থী দলগুলো এ দেশে এখনো রাজনীতির প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি বা পারবে বলেও মনে হয় না। আমরা দেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে জোট রাজনীতি, যা দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও শান্তির জন্য, তা শুভ হোক এই কামনা করি।

মোহা. আব্দুল হান্নান

মানপুর, লাখাই, হবিগঞ্জ।

 

 

►      একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দলগুলো জোটবদ্ধ হতে শুরু করেছে। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকটি দল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে। তারা এরই মধ্যে সাত দফা দাবি জানিয়েছে। এদিকে সব রাজনৈতিক দলের নেতারা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাই প্রতিটি রাজনৈতিক দলপ্রধানের কাজ হবে, যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে নমিনেশন দেওয়া। জনগণ আগের চেয়ে অনেক সচেতন। কোনো প্রার্থী যদি জনদরদি, সৎ, যোগ্য, জনগণের বন্ধু ও দানশীল ব্যক্তি হয়, সেই দলের প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। জনগণ এখন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী খোঁজে না, খোঁজে তাঁর ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা ও সততা। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে কাজ করে যেতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচন যাতে গ্রহণযোগ্য হয় সেই ভূমিকা নির্বাচন কমিশনকে  পালন করতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যাশা, আগামী নির্বাচন স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

 

►      নতুন জোট রাজনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে হচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা ভোটের রাজনীতি কলুষিত করে ফেলেছে। নির্বাচন কমিশন আজ্ঞাবাহী। প্রশাসন আজ্ঞাবাহী। তাহলে দেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কিভাবে সম্ভব? সরকারকে চাপে রাখতে নতুন জোটের বিকল্প নেই। জোটের শুরুতেই বিকল্পধারা ঐক্যপ্রক্রিয়া নস্যাৎ করায় কিছুটা খেসারত দিতে হয়েছে। এখন আরো সংহত হয়ে মাঠে ফিরতে হবে নতুন জোটকে। তবে মাঠে নামা সহজ হবে বলে মনে হয় না। কৌশলের আশ্রয় নিতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে হলে মাঠেই থাকতে হবে। জোটের রাজনীতিতে এখন নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা করলে হবে না। জাতীয় ঐক্যজোট দেখে সরকার কিছুটা চিন্তিত হলেও এখন তাদের সেই ভাব নেই। সেটা মাথায় রেখেই জোটকে গতিশীল হতে হবে।

মো. তাওহীদ সরদার নাঈম

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

 

►      জোট রাজনীতির নতুন মেরুকরণ—শুনতে ভালোই লাগে। কিন্তু এখানে স্বার্থপর, নীতিহীন, আদর্শহীন রাজনীতিকদের সমাগম লক্ষণীয়। প্রশ্ন ওঠে, এদের উদ্দেশ্য কী? এরা কোন আদর্শে দীক্ষিত? সব কিছুর মিশ্রণে এই জোট; সহজ কথায় হাইব্রিড জোট। তাঁরা কারো চেয়ে কেউ কম বোঝেন না, সবাই বেশি বেশি বোঝেন। এ জোটের ভবিষ্যৎ তেমন উজ্জ্বল নয়। আসল কথা হলো, বেশি বোঝনেওয়ালাদের ভিড়ে জোট কিলবিল করছে। তাঁদের আদর্শ ও উদ্দেশ্য কী? একেকজন একেক আদর্শ ও উদ্দেশ্য বহন করছেন। স্বভাবতই মতের মিল যে হবে না তা বুঝতে বাকি নেই। জোটের শুরুতেই বি চৌধুরী বেরিয়ে গেছেন। এমন আরো ঘটনা ঘটবে, তাই মনে হচ্ছে। জোটের মেরুকরণ অন্ধকারাচ্ছন্ন ও পিচ্ছিল বলেই ইঙ্গিত দেয়।

লিয়াকত হোসেন খোকন

আদর্শপাড়া, পিরোজপুর।

 

►      সারা বছর জনগণের আপদে-বিপদে, রোগে-শোকে যাঁদের দেখা মেলেনি, তাঁরা নেতা সেজে এখন সেবকের ভূমিকায় এসেছেন। তাঁরা জোট তৈরি করে শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা করছেন বলে মনে হচ্ছে। নানা জুজুর ভয় দেখিয়ে, দলাদলি-রেষারেষির চক্রে জনগণকে ঘুরপাক খাইয়ে, লোভ দেখিয়ে ভোট আদায়ের প্রস্তুতি হিসেবে বিষয়টিকে দেখছি। ‘না’ ভোট দেওয়ার বিধান না থাকায় জনগণ সমস্যায় পড়েছে। দুই-এক কোটি টাকা ইনভেস্ট করে জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রতিযোগিতার ধুম পড়েছে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার মতো লাভবান ব্যবসা আর দ্বিতীয়টি নেই। জোট বাধার দর-কষাকষি চলছে বলে মনে হচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করে জনগণের সেবক প্রতিনিধি তৈরি করা যায় কি না ভাবছি।

এইচ কে নাথ

কাট্টলী, চট্টগ্রাম।

 

►      জোট রাজনীতির নতুন মেরুকরণ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণকে অনেকটা নিশ্চিত করছে। জোট গঠন করে রাজনৈতিক দাবি আদায় গণতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হোক সব দলের অংশগ্রহণমূলক অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিধন্য। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের ঐক্যকে স্বাগত জানাই। রাজনৈতিক দলের ঐক্য দেশের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। অতীতেও রেখেছে। দলীয় স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জোটবদ্ধ হলে তা স্থায়ী হয়। তাই এই ঐক্য যেন দেশ, মাটি ও মানুষের স্বার্থে স্থায়ী থাকে সেই লক্ষ্যে জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলের সব নেতাকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

এস এম ছাইফুল্লাহ খালেদ

কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

 

►      জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই আমাদের দেশে ইদানীং জোট গড়া ও ভাঙার খেলা দারুণ জমে ওঠে। নীতি, আদর্শের চেয়ে বড় হয়ে যায় ক্ষমতায় যাওয়ার পথ কিভাবে সহজ হবে তার উপায় খুঁজতে। তাই জনগণের দাবি বা চাহিদার দিকে খেয়াল রেখে এই ধরনের জোট গড়ে ওঠে এমনটি আমরা দেখি না। দেশের রাজনীতিতে গড়ে ওঠা সব জোটের জন্যই শুভ কামনা রইল। তবে জনগণ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায় এবং শান্তিপূর্ণ ও খাঁটি নির্বাচন দেখতে চায়। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এটাই বড় চাওয়া।

মো. ফখরুল ইসলাম টিপু

সেনবাগ, নোয়াখালী।

 

►      জোট সব সময় রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে। ঐক্য সব সময় শক্তি ও সামর্থ্যের পরিবর্ধক। বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সেটা অবশ্যই নীতির অনুকূলে একটি সুষ্ঠু আন্দোলন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হতে হবে। যারা বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে, তারাও জোটের শক্তিকে কাজে লাগিয়েছে। গত দেড় দশকে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে দুই জোটে ভাগ হতে দেখেছি। দাবি আদায়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োচিত প্রক্রিয়া। ভোটে অংশ নেওয়ার আগে ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করা অপরিহার্য।

সোলায়মান শিপন

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

►      বাংলার রাজনীতিতে জোট মেরুকরণের অতীত ইতিহাস রয়েছে। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ সফলতা অর্জনে রাজনৈতিক মেরুকরণ কার্যকর ভূমিকা রাখে। দেশে জোট মেরুকরণ নির্বাচন নিয়ে নানা জনের নানা মত থাকবে। তবে জোট মেরুকরণের ফলে নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়। নির্বাচন একক কিংবা জোট, সেটা দেখার বিষয় নয়, দেখতে হবে আসন্ন নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে। দেশ ও দশের প্রত্যাশাও তাই। সব মিলিয়ে চাই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। এ জন্য দরকার মানসিকতার পরিবর্তন।

মুহম্মদ সাজ্জাদ হোসেন

মির্জাপুর, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

 

►      ২০০৭ থেকে আওয়ামী লীগ ১৪-দলীয় জোট নিয়ে এগোচ্ছে, আর বিএনপি চলছে ২০-দলীয় জোট নিয়ে। সম্প্রতি জোটের রাজনীতিতে পুনর্বিন্যাস শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্র রক্ষার জন্য নতুন মেরুকরণ ঘটাচ্ছে। এ মেরুকরণ ঠিকমতো না ঘটলে গণতন্ত্র, রাষ্ট্রীয়ব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়বে।

সহিদুল মোড়ল

নলিয়ান, দাকোপ, খুলনা।

 

 

►      একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে চিহ্নিত দল ও ব্যক্তিরা উত্তপ্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠছেন। স্বাধীনতা-উত্তর আমাদের জাতীয় ও তাত্ত্বিক নেতারা নানা কারণে জাতীয় ঐক্যের ভিত গড়ে তুলতে পারেননি। ফলে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি হয়ে আসছে। এর কুফল আমরা ভোগ করছি। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি নিয়ে যাঁরা এখন নতুন নতুন ফতোয়া দিচ্ছেন, তাঁরা সবাই এর আগে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কী করেছেন বা কী বলেছেন তা মানুষ ভুলে যায়নি। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করার জন্য পুলিশকে বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেপ্তার থেকে নিবৃত্ত করা; গায়েবি মামলা থেকে বিরত থাকা; অহেতুক গ্রেপ্তার বাণিজ্য করে প্যানিক সৃষ্টি না করা; বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার প্রতিরোধ করা; অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কড়া তৎপরতা পরিচালনা করা; ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রধারী পুলিশ ও আনসারের সংখ্যা বাড়ানো এবং চিহ্নিত প্রার্থীদের প্রতি নজর দিতে হবে। এ সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নিলে ৮০ শতাংশ নির্বাচনী ঝামেলা মিটে যাবে। সরকারি দল ও তাদের অঙ্গসংঠনগুলো কথায় কথায় পুলিশি দায়িত্ব পালন না করে, আইনকে নিজের হাতে তুলে না নিয়ে, যার কাজ তাকে করার সুযোগ দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিকে নজর দিলে বাকি ২০ শতাংশ ঝামেলাও মিটে যাবে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

 চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

 

►      আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য। সুষ্ঠু ও সুন্দর জীবন পাওয়ার আশায়। এখন যা দেখছি, তাতে হতাশ না হয়ে পারা যায় না। রাজনীতির নামে কোনো দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং হানাহানি দেখতে চাই না। জোট গঠন করে বিরোধী দল নির্বাচনে আসতে চায়। তা ঠিক আছে। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী এবং সমাজের উন্নয়ন চায় না, এমন দলের বিজয় আমরা চাই না।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

►      ভোট হচ্ছে এক ধরনের বাক্স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা হরণ করার জন্য নানা সময়ে নানা জন চেষ্টা ও অপচেষ্টা করে থাকে। এসব নিয়ে অনেক সমালোচনামূলক কথা হয়েছে। কিন্তু আমরা চাই, কেন্দ্র দখল বা কোনো গণ্ডগোল যেন না হয়। সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যেন হয়। মানুষ যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোট দিতে পারে। 

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

 

মন্তব্য