kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

এটা মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত

৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কাউকে বঞ্চিত করে, কোনো গোষ্ঠীকে বঞ্চিত করে বা ওপরে তুলে এনে বা পক্ষপাতিত্ব করে রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়। ন্যায্য দাবি থেকে যারা বঞ্চিত হবে তারা হবে রাষ্ট্রের বোঝা। তাই সিদ্ধান্ত হতে হবে দূরদর্শী। সর্বপ্রথম সিদ্ধান্ত হবে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে জাতিকে যাঁরা লাল-সবুজের পতাকা উপহার দিলেন, যে স্বাধীনতার সুফল দেশের জনগণ ভোগ করছে, গোটা জাতি যাঁদের কাছে ঋণী, সেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাই হবে রাষ্ট্রের কর্তব্য, মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ঋণী, সেই ঋণ পরিশোধের পথে আমাদের অগ্রসর হতে হবে। সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা। দাবি ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখা। এই দাবি করার অধিকার মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের আছে। এই দাবির ন্যায্যতা স্বীকার করে নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী যারা আছে তাদের প্রতিও দৃষ্টিসমতা বজায় রাখা সম্ভব। যেকোনো আন্দোলন, সংগ্রাম ও অবরোধে চরম ভোগান্তির স্বীকার হয় সাধারণ মানুষ। সরকার ও আন্দোলনকারী সবাইকে তা উপলব্ধি করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা ঘোষণা দিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল না রাখলে মহাসমাবেশ করবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘণ্টাধ্বনি বেজে চলেছে। এ দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, আন্দোলনের ফসল পাকিপ্রেমিকের পকেটে যেন না যায়। কারণ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্ষেত্রে কোটা বাতিল হলেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটা বহাল থাকবে। এই কোটা বাতিলের ফলে মুক্তিযোদ্ধা ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের চাকরিপ্রার্থীরা এত দিন যে সুবিধা পেত, তা থেকে তারা বঞ্চিত হবে। কোটা প্রথা বাতিল হওয়া সত্ত্বেও সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

মন্তব্য