kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

কোটা বাতিল হলেও প্রয়োজনে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে

৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৫ মিনিটে



কোটা বাতিল হলেও প্রয়োজনে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে

সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কোটা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে সরকার গঠিত পর্যালোচনা কমিটি যে প্রস্তাব দিয়েছিল, সেটিই অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছে। এক পক্ষ বলছে, বাতিলের সিদ্ধান্ত যুগান্তকারী। কোটার কারণে অনেক মেধাবী বাদ পড়ে যায়, সেটি আর হবে না। আরেক পক্ষ বলছে, বাতিল করা মোটেও ঠিক হয়নি; বরং যৌক্তিকভাবে সংস্কার করা যেত। কোটা সংরক্ষণে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিছু গোষ্ঠীর জন্য কোটা জরুরি। মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদার বিষয়টিও জড়িত রয়েছে। যারা বাতিলের পক্ষে, তাদের বেশির ভাগেরই অভিমত, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যাঁদের রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাওয়া জরুরি, তাঁদের জন্য ও তাঁদের সন্তান-সন্ততির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার অবকাশ রয়েছে এবং তা করতে হবে। যারা উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতির পিতাকে হেয় করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। টেলিফোন ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

❏  সঠিক সময়ে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কোটার ব্যাপারে এটি সরকারের রেড সিগন্যাল। কোটা আন্দোলনকারীদের সান্ত্বনা দিতে এ পদক্ষেপ। এ সিদ্ধান্ত সরকারের বিচক্ষণতা প্রমাণ করে। সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাদ দিয়ে মেধাকে বেশি গুরুত্ব দিলে দেশ অল্প সময়ের মথ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে। আমার বিশ্বাস, সরকার যথাসময়ে সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাদ দেবে।

এস এম ছাইফুল্লাহ খালেদ

কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

 

❏  সরকারি চাকরিতে কোটা রাখা ও না রাখার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এটাকে আমি স্বাগত জানাই। নতুনদের দেশ গড়ার দায়িত্ব আছে। এ জন্য মেধাবী ছেলে-মেয়ে দরকার। তাই কোটার দরকার নেই। প্রয়োজন হলে অন্যভাবে কোটা প্রার্থী বিশেষ ব্যক্তিদের পুরস্কৃত বা সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, মেধাবী তরুণদের নানাভাবে কাজে লাগাতে হবে। কোটা করে তাদের চাকরি দিতে হবে—এমনটা খুব জরুরি বিষয় নয়।

আবদুর রাজ্জাক ভূঁইয়া

শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।

 

❏  আমরা কোটা পদ্ধতির সংস্কার চেয়েছিলাম, বিলুপ্তি নয়। মেয়েরা একসময় পিছিয়ে ছিল। কয়েক বছরে দেখা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ছেলেদের চেয়ে মেয়ে পরীক্ষার্থী বেশি। সব ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। সুতরাং এখন নারীদের জন্য কোটা প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। যদি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি, নারীদের উপবৃত্তি আরো বৃদ্ধি করা হয়, তবু দেশের মানুষ কিছুই বলবে না; বরং সাধুবাদ জানাবে। কিন্তু আমাদের এই ছোট্ট জনবহুল উন্নয়নশীল দেশে ৫৬ শতাংশ কোটা রেখে মেধাবীদের বঞ্চিত করা বড্ড বেমানান ছিল। সুতরাং সুখী ও সমৃদ্ধিশালী সোনার বাংলা গড়তে মেধাকে মূল্যায়ন করে কোটা পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল করাকে আমি সাধুবাদ জানাতে পারলাম না। প্রায় ২৬ লাখ বেকারের এই দেশে মেধাবীদের হতাশ না করে কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কার করে, তাদের দেশ গড়ার কাজে সুযোগ দিলে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা উপহার পাব।

বিলকিছ আক্তার

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর।

 

❏  কোটা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। স্বাধীনতার এত বছর পরেও সরকারি চাকরিতে কোটা থাকার কোনো যুক্তি নেই। মেধার ভিত্তিতেই সরকারি চাকরি পাবে সবাই—এটাই আশা করি।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তটা খুব ভালো হয়নি। এতে অনেক মানুষ বঞ্চিত হবে। যারা দেশের জন্য কাজ করেছে, এবং করে চলেছে, তাদের জন্য কোটা রাখা দরকার বলে মনে করি। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকেও এগিয়ে নিতে হবে। সে জন্য কোটা থাকা দরকার।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

❏  জাতীয় ভারসাম্য ও মানবিক কারণে সরকারি চাকরিতে নানা ধরনের কোটা বিদ্যমান ছিল। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে ৩০ শতাংশ কোটা চালু করা হয়। পরে নানাভাবে তা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে কোটা না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে, এটা ভালো। কিন্তু আগামীতে যেন স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের সন্তানরা কোনোভাবে সরকারি চাকরি না পায়, সে বিষয়েও একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা দরকার।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

❏  বিগত কয়েক মাসের আন্দোলন কোটা আন্দোলনের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। সরকার ৩ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিল করে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন প্রকৃত মেধাবীরা সামনের দিকে চলে আসার একটি সুযোগ পেল। এত দিন অনেকে কোটার কারণে পরীক্ষায় বসতে পর্যন্ত অনীহা দেখাত, এখন এটি কমে আসবে। তা ছাড়া সমান সুযোগ থাকলে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এখন লড়াই হবে মগজে মগজে। সরকারকে সাধুবাদ জানাই কোটা বাতিল করার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।

মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম

ইলশা, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

 

❏  সাধারণ ছাত্ররা সব ধরনের কোটার সংস্কার চেয়েছে, বাতিল নয়। কিন্তু সংস্কার না করে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটা বাতিল কতটা যৌক্তিক, তা বিশেষজ্ঞরাই ভালো বলতে পারেন। তবে এটা সত্য যে কোটা বাতিল না করে সংস্কার করা হলে এখন হয়তো মুক্তিযোদ্ধা কোটার আরেকটা আন্দোলন দেখতে হতো না। বিষয়টা এখন এতটা বিতর্কিত হতো না। সার্বিকভাবে বিষয়টা দাঁড়াল—চাইলাম ঘি, পাইলাম কী?

হোসাইন শাহাদাত

নোয়াখালী।

 

❏  এ দেশ স্বাধীন হওয়ার ক্ষেত্রে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ও অবদান রয়েছে। ফলে এই রায়ে আমরা সন্তষ্ট নই। এটা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

মোহনলাল দাস

কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।

 

❏  বাংলাদেশের বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রী কোটার বিপক্ষে, মেধার ভিত্তিতে চাকরি হোক এটা সবাই প্রত্যাশা করে। যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি হলে কারো মধ্যে কোনো হতাশা দেখা যায় না। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কোটা বাতিল ভালো একটা সিদ্ধান্ত হবে বলে মনে করি। মেধাই সবার মধ্যে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করুক সেই আশা করি। ফলে আমাদের দেশের সব ছাত্র-ছাত্রীর আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে যাবে। অকালে কারো জীবন ধসে যাবে না, বুক ভরা আশা নিয়ে বিসিএস পরীক্ষা দেবে। সবাইকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে। সে জন্য কোটা বাতিল ভালো একটা সিদ্ধান্ত হবে। মেধার জয় হোক সবার, এই আশা করি সব সময়।

মো. সোহেল মোল্যা

রামকান্তপুর, সালথা, ফরিদপুর।

 

❏  সরকারি চাকরিজীবীদের কোটা নিয়ে আন্দোলন অনেক দিন আগে থেকে শুরু হয়েছে। এতে সরকারের চেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে আন্দোলনকারীদের। সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চাকরিতে নিয়োগের মধ্যে এত দিন ৫৬ শতাংশ বরাদ্দ ছিল বিভিন্ন কোটার জন্য। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, জেলা পর্যায়ে ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ। এটাই আসলে যথাযথ ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানে সরকারের সিদ্ধান্ত মতে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কোটা বাতিল। তবে বহাল থাকবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কোটা। বেশি বুঝেছিল আন্দোলনকারীরা, তাই আম-ছালা সবই হারাল। এখন আন্দোলনকারীরা বলছে, তারা কোটা বাতিল নয়, সংস্কার চেয়েছে। কিন্তু এতে তাদের কী লাভ হলো? আন্দোলনকারীরা এখন বলছে, তারা বাতিল চায়নি; আন্দোলনে নামার আগে তাদের ভাবা উচিত ছিল সরকারের শেষ সময়ে এ আন্দোলন কতটা যুক্তিসংগত। সরকার যদি মনে করে, সিদ্ধান্তে বহাল থাকবে, তবে ঝুলিয়ে না রেখে এমনভাবে বণ্টন করা উচিত কেউ যেন বঞ্চিত না হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত সঠিক কি না তা-ও তো আলোচনায় আছে, এতে করে যদি কেউ বঞ্চিত হয়, তাহলে আন্দোলন আরো ঘনীভূত হবে। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সঠিক ও যৌক্তিক বলে মনে করি। দরকার হলে বঞ্চিত ও অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেবে, এ ভরসা সরকারের প্রতি সাধারণ জনগণের মতো আমারও আছে।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

❏  আন্দোলনকারীরা কোটা সংস্কার চেয়েছিল, বাতিল নয়। কোটা সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিল। তাদের দাবি ছিল কোটা যৌক্তিক পর্যায়ে সংস্কার করা হোক। কিন্তু সংস্কারের পরিবর্তে কোটা বাতিল করায় তা এখন জটিলতায় রূপ নিয়েছে। আগের নির্ধারিত সংখ্যা থেকে কিছু কমিয়ে কোটা ব্যবস্থার যদি সংস্কার করা হতো, তা হতো বাস্তবমুখী। দেশে এখনো অনেক অনগ্রসর জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের জন্য কিছু কোটা ব্যবস্থা দরকার। আবার যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন তাঁদের বংশধরদের জন্য কিছু কোটা তো প্রাপ্যই। সরকার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সব কোটা উঠিয়ে তার পরিপত্র জারি করতে যাচ্ছে, এটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরো জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। এরই মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটার জন্য সড়কে অবরোধ ও আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকার। তাই পুরো বিষয়টি আরো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একটি সুন্দর ও সময়োপযোগী কোটা সংস্কারই দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

মো. তাওহীদ সরদার নাঈম

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

 

❏  সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক ও সঠিক। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ সাহসিকতার পরিচয় বটে। প্রয়োজন দেখা দিলে সরকার যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি মনে করি, কোটা সংস্কার নয়, বাতিলই সঠিক। কোটা থাকলে স্বজনপ্রীতি থাকবে, দুর্নীতি থাকবে এবং জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব কমে যাবে। কোটা পর্যালোচনা কমিটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি। কোটা সংস্কার করে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের যে পরিমাণ সুযোগ দেওয়া হবে তাতে তাঁদের কোনো লাভ হবে না। এ নিয়ে আবার আন্দোলন হবে, বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে, সরকারের সুনাম নষ্ট হবে—তার চেয়ে ভালো কোটা বাতিল করা।

বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারবেন না বলেই এর বিরোধিতা করছেন। দেশের মঙ্গল, জনগণের মঙ্গল তাঁদের বিবেচনায় নেই। তাঁদের প্রয়োজন ক্ষমতা। তাঁদের চরিত্র কখনো বদলাবে না। যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে না তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখনই সময়। তারা যেন কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা না পেতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। রাজাকারদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হবে। রাজাকারদের যারা সমর্থন করবে, তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ তারা সুযোগ পেলেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করবে। যাই হোক, সরকার এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও প্রয়োজনে বঞ্চিত ও অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য সুবিধার ব্যবস্থা করবে বলে আশা করি।

আবদুল খালেক

দাসপাড়া, নরসিংদী সদর।

 

❏  সরকারি চাকরি পাওয়া মানে সোনার হরিণ পাওয়া। লাখ লাখ শিক্ষিত তরুণ-যুবক বেকার। তাদের কর্মসংস্থান দরকার। কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তের সুবিধা-অসুবিধা দুটিই আছে। বাতিল করার সিদ্ধান্তই ভালো বলে মনে হয়।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

❏  মুক্তিযোদ্ধা কোটার যথাযথ ব্যবহার হয় না দেখে শিক্ষার্থীরা কোটা বিষয়ক আন্দোলনে নামে। তারা রাষ্ট্রের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মামলার শিকার হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালকদের সুচিন্তার অভাবে এমন অনেক ঘটনার জন্ম হয়েছে দেশে। পরে আবার সমাধান হয়েছে। কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত যুগান্তকারী। কোটা না থাকাই ভালো। তবে যাঁরা দেশ স্বাধীন করেছেন, দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাঁদের ছোট করার কোনো অবকাশ নেই। তাঁদের জন্য, তাঁদের পরিবারের জন্য অন্য উপায়ে হলেও মর্যাদাপূর্ণ ব্যবস্থা করতে হবে।

সহিদুল মোড়ল

নলিয়ান, দাকোপ, খুলনা।

 

❏  সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের চাকরিপ্রত্যাশী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’-এর পরিপ্রেক্ষিতে। ছাত্রসমাজের দাবি ছিল, কোটা সংস্কার করে ১০ শতাংশ করা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্তে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হয়। এখন অনেকে মনে করছে, এর ফলে প্রতিবন্ধী উপজাতি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সুযোগ কম পাবে। আর এ পরিপ্রেক্ষিতে যদি তাদের জন্য আলাদা নিয়োগব্যবস্থা চালু করা হয়, তাহলে কোটা পদ্ধতি বাতিল না করে এর সংস্কারই সর্বাপেক্ষা সঠিক সিদ্ধান্ত হতো বলে মনে করি।

মুহাম্মদ আবু তালহা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

 

❏  বেশ কিছুদিন ধরেই একটি বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে যে কোটা বহাল থাকায় মেধাবীরা চাকরি পায় না, কম মেধাবীরা পায়। অথচ কোটার সুযোগে যারা চাকরি পেয়েছেন তারাও নিয়োগ পরীক্ষার সব ধাপে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-সন্ততিরাও অন্যদের সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ধাপে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। তাঁদের জন্য পৃথক কোনো নিয়োগপ্রক্রিয়া নেই। কাজেই কোটায় যারা চাকরি পায় তারা অবশ্যই কম মেধাবী নয়। প্রায় ৫৬ শতাংশ কোটায় নিয়োগ দেওয়ার বিধান থাকলেও নিয়োগ পরীক্ষার সব ধাপ অতিক্রম করার পর কোটা অনুযায়ী উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যায় না বলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অর্থাৎ প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতেও নারীরা ১০ শতাংশের কম। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের জন্য যে কোটা রয়েছে, তা অনেক দেশেই নেই। কারণ পৃথিবীর অনেক দেশেই মুক্তিযুদ্ধ হয়নি বা মুক্তিযোদ্ধা নেই। যেহেতু বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের দেশ, কাজেই আমাদের দেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবেই। দেশের জন্য যাঁরা ত্যাগ স্বীকার করেন, জীবন দেন বা আহত হন তাঁদের সম্মান দেখানো ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চাকরি ক্ষেত্রে সুযোগ দেওয়ার রীতি সারা বিশ্বে রয়েছে। যত বিরোধিতাই আসুক, শহীদ, আহত, পঙ্গু ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবশ্যই সহানভূতি অব্যাহত রাখতে হবে। সংবিধানেও নারী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কাজেই কোটা পদ্ধতি বাতিল করে পিছিয়ে থাকা জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে সরকারি চাকরি পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে সংবিধানকেই অবমাননা করা হবে। সুষম উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হবে। তবে চাকরির ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। কোটা একেবারে বাতিল না করে সংস্কার করা উচিত। সরকারি, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু মেধাই নয়, প্রার্থীকে অবশ্যই সৎ, মেধাবী, কর্মঠ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক হতে হবে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত হয়ে নিয়োগ দিতে হবে। 

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর।

 

❏  শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস টার্মিনাল, ঝিনাইদহ।

 

❏  সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করি। প্রথমত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে চাকরি করতে হলে চাই মেধা, বিচক্ষণতা, বুদ্ধি, নানা বিষয়ে জ্ঞান আর শিক্ষা। না হলে এ দুই শ্রেণির পদে কাজ করা কঠিনতর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে ৪৭ বছর আগে। এখন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-সন্ততিদের কোটা না রাখাই যুক্তিসংগত। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ যে করেছি এই তালিকায় নাম ওঠানোর চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকার কারণে দেশ স্বাধীনের পর লেখাপড়া নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েও আমি মুক্তিযোদ্ধা নই। কারণ মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আমার নামটি নেই। এভাবে বহু লোক মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ পড়ে আছেন। যাঁরা তালিকায় নাম লিপিবদ্ধ করেছিলেন তাঁদের উত্তর-প্রজন্মই মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা পেয়ে আসছেন। এটা আমার মতো বহু মুক্তিযোদ্ধার জন্য অসম্মান ও  দুঃখজনক ব্যাপার ছিল। সরকার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি কোটা বাতিল যথাসময়ে করেছে। ন্যায়সংগতও হয়েছে বলা যায়। এবার মেধাসম্পন্নরা সরকারের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে চাকরি পাবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ক্ষোভ ছিল তার অবসানও হলো।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা।

 

❏  প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কারসাজি, কৌশল, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ অনেক ফাঁকফোকর কাজ করে, যেসব উের গরিবের মেধাবী সন্তানরা চাকরি নামক সোনার হরিণের নাগাল আর কখনো পাবে না। এসব অপকৌশল সরকার আজ পর্যন্ত বন্ধ করতে পারেনি এবং কখনো পারবে না। প্রভাবশালী ও সুবিধাভোগীরা প্রভাব খাটিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শতভাগ চাকরি মেধার মুলা দেখিয়ে তাদের নেশাখোর বা মেধাহীন সন্তানদের জন্য বাগিয়ে নেবে—তার পাকা ব্যবস্থা করে দিল সরকার বাহাদুর। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, গরিব ও প্রতিপত্তিহীন মানুষের ধীসম্পন্ন সন্তানদের সরকার এত দিন তাদের মেধার বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে আসছিল; এখন বাকিটুকুও গেল। প্রচার করা হবে মেধার অভাবে তাদের চাকরি হয়নি। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রামগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেমন ভর্তি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, চাকরি ক্ষেত্রেও তেমন হবে সন্দেহ নেই। দেশের সর্বত্র সবার জন্য যত দিন সরকার সমশিক্ষার নিশ্চয়তা না দিতে পারবে তত দিন সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কোটা ব্যবস্থা রাখতেই হবে। এটা (কোটা) তাদের অধিকার। যারা মাথার ঘাম ঝরিয়ে  শহরের বিজ্ঞদের রসদ জোগান দেয়, তাদের সন্তানরা মেধা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, এ জন্যই কি দেশ স্বাধীন করা হয়েছে? কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, অন্যায় সিদ্ধান্ত। গরিব অবহেলিত মানুষের মেধাবী সন্তানদের গলায় ছুরি চালানোর সিদ্ধান্ত। সুবিধাভোগীদের বংশানুক্রমে সুবিধা ভোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমতার নীতির পরিপন্থী সিদ্ধান্ত হিসেবে এটাকে বিবেচনা করি। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যেকোনো চালবাজির উপযুক্ত জবাব তাদের সন্তানরা দেবে—এ আত্মবিশ্বাস আমার আছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের জোর প্রতিবাদ করছি। এক সাগর রক্তে লিখিত সংবিধানের আলোকে কোটা সংরক্ষণের নিশ্চয়তা আশা করছি।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

❏  বীর মুক্তিযোদ্ধা, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ও নারীদের জন্য কোটা রাখা সময়ের দাবি। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটা রাখা তাঁদের অধিকার। কোটা বাতিলের এই সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

মন্তব্য