kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জবি রঙ্গভূমির তৃতীয় বার্ষিক নাট্যোৎসব সম্পন্ন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা   

২২ নভেম্বর, ২০২২ ২২:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জবি রঙ্গভূমির তৃতীয় বার্ষিক নাট্যোৎসব সম্পন্ন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্য সংগঠন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রঙ্গভূমি আয়োজিত তৃতীয় বার্ষিক নাট্যোৎসব ও নাট্য সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার নাট্য সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুইদিনব্যাপী আয়োজিত এ উৎসব।  

জবি রঙ্গভূমির সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান খানের সঞ্চালনায় নাট্যোৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ইমদাদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ ড. কামালউদ্দীন আহমদ, রঙ্গভূমির উপদেষ্টা ও নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. কামালউদ্দিন খান কবির এবং চারুকলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. বজলুর রশিদ খান।

বিজ্ঞাপন

আরো উপস্থিত ছিলেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, নাট্যকলা বিভাগের প্রভাষক ও সংগঠনের মডারেটর রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা।

নাট্যোৎসবের শেষদিনে একুশে পদকে ভূষিত প্রখ্যাত নাট্যকার, অভিনেতা ও পরিচালক মামুনুর রশীদকে নাট্য সম্মাননা দেওয়া হয়।  

মামুনুর রশীদ বলেন, মানুষের জীবনের যেকোনো সংকটকালে সে কী করবে, মানুষকে এ বোধ এনে দেয় তার সাংস্কৃতিক চেতনা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নাট্যকলা বিভাগ আছে। কিন্তু সেখান থেকে ছাত্রছাত্রীরা মেইনস্ট্রিমে এসে কাজ করছে না, তাহলে এসব বিভাগ থেকে আমাদের কী লাভ হবে?

মামুনুর রশীদ আরো বলেন, পাশের দেশের কলকাতায় সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য সরকারের তরফ থেকে ভাতার ব্যবস্থা করা হয়। সেরকম আমাদের দেশেও যদি ভাতা বা প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হবে। আর যারা পেশাগত নাট্যকর্মী আছে তাদেরও বাঁচিয়ে রাখা যেত।

উপাচার্য মো. ইমদাদুল হক বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট্ট এ পরিসরেও শিক্ষা, গবেষণার পাশাপাশি আমরা চাই সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও যেন এগিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীরা সারা বছর লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকবে। কারণ এ ধরনের কার্যক্রম তাদেরকে সব অস্থিরতা, মাদকাসক্তি এসব থেকে দূরে রাখবে। এক্ষেত্রে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে কার্পণ্য করব না এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহায়তা আমরা করব।  

এর আগে গত রবিবার এ নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. কামালউদ্দীন আহম্মদ। উদ্বোধনী দিন প্রদর্শিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদ প্রযোজিত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছোটগল্প অবলম্বে নির্মিত নাটক "বিলাসী" এবং সেলিম আল দীন রচিত "কিত্তনখোলার কিচ্ছা"। আর সোমবার প্রদর্শিত হয় বাতিঘর প্রযোজিত "রেডক্লিফ লাইন" এবং বিপ্লবী কমান্ডার চে গুয়েভারার জীবনকে ঘিরে নির্মিত নাটক "সাইকেল"।  

আয়োজিত নাট্যোৎসব নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রঙ্গভূমির সভাপতি মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, আমরা সবসময়ই চাই আমাদের কাজের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুনাম অর্জন করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে শক্তিশালী করতে। এই ধারাবাহিকতায় আমরা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব আয়োজন করতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি। তবে মহড়া কক্ষ ও দপ্তর না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের কার্যক্রম চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। আশা করি প্রশাসন এ বিষয়গুলোতে আমাদের সহযোগিতা করলে আগামীতে আরো ভালো আয়োজন করা সম্ভব হবে।



সাতদিনের সেরা