kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ঢাকার বাসে ফিরল টিকিট; যাত্রী-শ্রমিক উভয় পক্ষই খুশি

সত্যজিৎ কাঞ্জিলাল   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৫:৫৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঢাকার বাসে ফিরল টিকিট; যাত্রী-শ্রমিক উভয় পক্ষই খুশি

ছবি : কালের কণ্ঠ

মিরপুর-১২ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন যাত্রীরা। সেখানে বেশ কয়েকটি বাস কম্পানির লোগো সংবলিত জার্সি পরে কিছু যুবক টিকিট বিক্রি করছেন। অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারছিলেন না। তাই  চিড়িয়াখানা থেকে আসা নূর-এ-মক্কা বাসটি থামতেই বরাবরের মতো হুড়মুড় করে সবাই উঠতে যায়।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু চালকের সহকারী বলেন, ‘টিকিট কেটে বাসে ওঠেন। টিকিট ছাড়া ওঠা যাবে না। ’ অতঃপর সবার নজর যায় ই-টিকেটিং মেশিন হাতে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকদের দিকে।

টিকিট কাটতে গিয়েও বেশ চমক অপেক্ষা করছিল যাত্রীদের জন্য। এত দিন যাচ্ছেতাইভাবে ভাড়া তোলা হতো যাত্রীদের থেকে। যেমন : মিরপুর-১ নম্বর থেকে কেউ যমুনা ফিউচার পার্ক এলে তার ভাড়া দিতে হতো ৩০ টাকা। আবার মিরপুর-১২ নম্বর থেকে ইসিবি চত্বর নামলেও সেই ৩০ টাকা রাখা হতো! এটা নিয়ে নিত্যদিন ঝগড়া চলত বাসের কন্ডাক্টর আর যাত্রীদের মাঝে। প্রায়ই সেটা হাতাহাতিতে গড়াত। যাত্রাপথে বাস থামিয়ে যাত্রী গোনা হতো। অর্ধেক পথ গেলেও দিতে হতো পুরো পথের ভাড়া। এই অবৈধ কর্মটির পোশাকি নাম ছিল ‘ওয়েবিল’।

এখন ই-টিকেটিং চালু হওয়ায় এই ওয়েবিল প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে। যতটুকু দূরত্ব, ততটুকু ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে ই-টিকেটিং মেশিনের মাধ্যমে। নির্দিষ্ট স্টপেজে বাস দাঁড়াচ্ছে।  এতে যাত্রী এবং পরিবহন শ্রমিক―উভয় পক্ষই খুশি। মিরপুর-১২ থেকে বসুন্ধরা রুটের নিয়মিত যাত্রী আব্দুল হামিদ বলেন, ‘এত দিন ৩০ টাকা রাখা হতো জোর করে। এখন ই-টিকেটিংয়ে সেই ভাড়া কমে হয়েছে ২০ টাকা। যতটুকু দূরত্বে যাচ্ছি, ততটুকুই ভাড়া দিচ্ছি। ’ আরেক যাত্রী নাজমুন নাহার বলেন, ‘টিকিট সিস্টেম করায় এখন আর কোনো পক্ষেরই ঠকার সুযোগ নেই। এই সিস্টেম যেন বন্ধ না হয়। ’

অন্যদিকে ই-টিকেটিং চালু হওয়ায় বাস শ্রমিকরাও খুশি। চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে ঝগড়া করতে হইত। গালি খাইতে হইত। আমরা তো চাকরি করি; যেভাবে ভাড়া তুলতে বলা হতো সেভাবেই তুলতাম। এখন টিকিট আসায় কোনো ঝগড়া করতে হচ্ছে না। ’ যাত্রী এবং শ্রমিক উভয় পক্ষেরই দাবি, এই ই-টিকেটিং যেন বন্ধ না হয়। সেই সঙ্গে টিকিট কাউন্টার বসিয়ে সিস্টেমটাকে আরো সুশৃঙ্খল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।



সাতদিনের সেরা