kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাফ নারী ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন

সংবর্ধনা পাচ্ছেন সেই বীর সেন ও শান্তি মণি চাকমা

পিন্টু রঞ্জন অর্ক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৫:৩৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সংবর্ধনা পাচ্ছেন সেই বীর সেন ও শান্তি মণি চাকমা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বীর সেনের সঙ্গে ঋতুপর্ণা চাকমা।

সাফ গেমসে বিজয়ীদলের অন্তর্ভূক্ত পাহাড়ের পাঁচ খেলোয়াড় এবং তাঁদের গড়ে তুলতে নিভৃতে কাজ করা শিক্ষক বীর সেন চাকমা ও কোচ শান্তি মণি চাকমাকে সংবর্ধনা দেবে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা প্রশাসন এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাঙামাটি জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে জাকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠান। সেখানে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে পাঁচ ফুটবলারকে দুই লাখ করে মোট ১০ লাখ টাকা এবং বীর সেন চাকমা ও শান্তি মণি চাকমাকে মোট এক লাখ টাকা দেওয়া হবে।

কোচ শান্তি মণি চাকমা

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

কালের কণ্ঠকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাফজয়ী পাঁচ খেলোয়াড়কে মোট ১০ লাখ টাকা আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি যাদের মাধ্যমে এই খেলোয়াড়রা এতদূর গেছে, সেই বীর সেন চাকমা এবং শান্তিমণি চাকমাকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। কাউখালীর ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে তাঁদের রাঙামাটি শহরে নিয়ে আসব আমরা। ’

আরো পড়ুন : রূপনাদের জন্য ছিলেন বীর সেন   

রূপনা, ঋতুপর্ণা, মনিকা, আনাই, আনুচিং মোগিনিসহ জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ের উঠে আসার নেপথ্য কারিগর ছিলেন বীর সেন চাকমা। নারী ফুটবলারদের গড়ে তোলার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। মঘাছড়ি স্কুলের মাঠ নেই। প্রতিদিন বিকেলে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে যেতেন। অনুশীলনের পর আবার নিয়ে আসতেন। একা কুলিয়ে উঠতে না পেরে একসময় অর্থের জন্য অনেকের কাছে হাত পেতেছেন। উপায় না পেয়ে খেলোয়াড়দের থাকা-খাওয়া এবং সরঞ্জামেরর খরচ মেটানোর জন্য নিজের বেতন থেকে তিলে তিলে জমানো প্রভিডেন্ট ফান্ডও ভেঙেছেন। টিমটা যেন সুসংগঠিত থাকে সেজন্য পিইসির পর সবাইকে একই স্কুলে (ঘাগড়া) ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন। এসব করতে গিয়ে অনেকে কটু কথা শুনেছিলেন। মুখ বুজে সব সয়েছেন। বীর সেনের এই ভূমিকা নিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠের অবসরে পাতায় একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। শিরোনাম ‘রূপনাদের জন্য ছিলেন বীর সেন’। এখন তিনি উল্টাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আর কদিন পরেই অবসরে যাবেন। সংবর্ধনার খবরে খুশির সঙ্গে কিছুটা আফসোসও ঝরল বীর সেনের কণ্ঠে।

জাতীয় দলের এই পাঁচ ফুটবলার গড়ে উঠেছেন বীর সেন চাকমা ও শান্তি মণির নিবিড় তত্ত্বাবধানে।

বললেন, ‘২০১১ সালে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় টুর্নামেন্টের প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম আমরা। সে সময় যদি এমন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো তাহলে আরো অনেক মেয়েও খুব উত্সাহ পেত। এতদিন পরে হলেও এমন আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ। ’

তিন দশক ধরে পাহাড়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন শান্তি মণি চাকমা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী নারী ফুটবল দলের পাঁচ খেলোয়াড় মনিকা, আনুচিং, আনাই, রূপনা, ঋতুপর্ণা তাঁর হাতেই তৈরি। বীর সেনের অনুরোধে প্রথমে মঘাছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পরে ঘাগড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কোচ হয়েছিলেন তিনি। ‘পাহাড়ে ফুল ফোটান তিনি’ শিরোনামে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর শান্তি মণি চাকমাকে নিয়েও একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল কালের কণ্ঠের অবসরে পাতায়।

আরো পড়ুন : পাহাড়ে ফুল ফোটান তিনি   

তিনি বলেন, ‘ফুটবলারদের জন্য রাঙামাটিতে এত বড় আয়োজন সম্ভবত এই প্রথম। এত বছর পর হলেও জেলা পরিষদ যে উদ্যোগ নিয়েছে তাকে সাধুবাদ জানাই। আমরা আগেই মতোই নিভৃতে কাজ চালিয়ে যাব। ’ 



সাতদিনের সেরা