kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিএনপির গণতন্ত্রের নমুনা

জিয়ার কারফিউ গণতন্ত্র থেকে খালেদা-তারেকের লাঠি-রডতন্ত্র

ড. সেলিম মাহমুদ

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৮:১৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জিয়ার কারফিউ গণতন্ত্র থেকে খালেদা-তারেকের লাঠি-রডতন্ত্র

কালের কণ্ঠ ফাইল ছবি

গত কয়েক বছর শান্তি, মানবতা ও গণতন্ত্রের জন্য কূটনীতিকদের কাছে নানা অভিনয় আর মায়াকান্না করলেও বিএনপি যে একটি নিম্নস্তরের ও মধ্যযুগীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, লাঠি-রড নিয়ে তাদের তাণ্ডব আর আস্ফালনে সেটি গত কয়েক দিনে গোটা জাতি দেখল l বিশেষ করে কয়েক মাস ধরে বিএনপি দেশে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এবং এ লক্ষ্যে তাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার জন্য বিদেশি রাষ্ট্র এবং কূটনীতিকদের কাছে ধরনা দিয়ে আসছে l বিএনপি নিজেদের মাদার তেরেসা হিসেবে উপস্থাপন করতে কূটনীতিকদের কাছে কতই না মায়াকান্না করেছে l কূটনীতিক মহলসহ অনেকের চোখ ছানাবড়া করে দিয়ে সেই বিএনপি গত কয়েক দিনে তার আসল চেহেরা উন্মোচন করেছে l

গত কয়েক দিন ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে বিএনপির বিভিন্ন সমাবেশ/জনসভায় বিএনপি পূর্বপরিকল্পিতভাবে ট্রাক এবং বিভিন্ন যানবাহনে করে লাঠি সরবরাহ করছে l এই লাঠিগুলোতে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে তাদের সন্ত্রাসী/কর্মীদের হাতে দিচ্ছে l এই লাঠি নিয়ে তারা বিভিন্ন জায়গায় তাণ্ডব চালানোর চেষ্টা করছে l গত ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার বাড্ডা হাই  স্কুলের সামনে বিএনপির সমাবেশস্থলে এই দৃশ্য দেখা গেছে l গতকাল ২৬ সেপ্টেম্বর হাজারীবাগে শিকদার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সংলগ্ন সড়কে বিএনপির সমাবেশে আসা সন্ত্রাসী/কর্মীদের হাতে এই রকম লাঠি দেখা যায় l তাদের কারো কারো কাছে রড ও আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা যায় l তারা এই লাঠি ও রডের জোরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ওপর হামলা করছে এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় অংশ নিচ্ছে l এই লাঠি আর রডের কারণেই তারা নিজেদের শক্তিশালী মনে করছে আর তাণ্ডব চালাচ্ছে l 

বিএনপি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করে জাতীয় পতাকার অবমাননা করছে l এটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের মধ্যে পড়ে l জাতীয় পতাকা নিয়ে বিএনপির এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নতুন প্রজন্মের কাছে কী বার্তা দিচ্ছে? 

কয়েক মাস আগে মধ্যযুগীয় কায়দায় লাঠিসোঁটা বিএনপির নিয়ে কয়েক শ সন্ত্রাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দখল করতে গিয়েছিল l তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়েছিল l গত কয়েক দিনের বিএনপির মধ্যযুগীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখলেই বোঝা যায়, তারা আগামী নির্বাচনে কী করতে চায় l তাদের কয়েক দিনের লাঠি-রডতন্ত্র প্রমাণ করেছে, তারা চর দখলের মতো লাঠি, রড, অস্ত্র নিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসতে চায় l কেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতি-ভোট জালিয়াতি বন্ধ করার জন্য আমরা যে ইভিএমের দাবি করে আসছি, বিএনপির সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আমাদের দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে l শেখ হাসিনার সরকার প্রবর্তিত ই-টেন্ডারিংয়ের কারণে যেমন এ দেশে টেন্ডারবাজি-টেন্ডার ছিনতাইসহ টেন্ডারসংক্রান্ত সকল দুর্নীতি বন্ধ হয়েছে, ইভিএম এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে কেন্দ্র দখল-ভোট ডাকাতিসহ সকল নির্বাচনী অপরাধ বন্ধ হবে l 

একেবারে গোল্ডফিশ না হলেও অনেকটা ভুলোমনা বাঙালি জাতি অসাংবিধানিক ও অবৈধ শক্তির পকেটে জন্ম নেওয়া ‘illegitimate child’ কিংস পার্টি বিএনপির ইতিহাস ভুলে গেছে l দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক সংবিধান লঙ্ঘনকারী ও অসাংবিধানিক শাসক (usurper) হিসেবে ঘোষিত জিয়ার কারফিউ গণতন্ত্রের কথা আমরা ভুলে গেলেও ইতিহাসে সঠিকভাবেই লিপিবদ্ধ আছে l একদিকে সংবিধানকে পদদলিত করে গণতান্ত্রিক শাসন রুদ্ধ করেছিল, অন্যদিকে বিদ্রোহ দমনের নামে মধ্যযুগীয় কায়দায় হাজার হাজার সেনা সদস্যকে নির্বিচারে হত্যা করেছিল জিয়া l সাবেক প্রধান বিচারপতি সায়েমের কাছ থেকে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে নিজেই রাষ্ট্রপতির পদ দখলকারী জিয়ার তথাকথিত গণতন্ত্র সম্পর্কে বিচারপতি সায়েম তার লেখা বইয়ে কী লিখেছিলেন সেটি আমরা জানি l জিয়ার ক্ষমতা গ্রহণকে সায়েম ‘রক্ষক যখন ভক্ষক’ আখ্যা দিয়েছিলেন l জিয়ার নির্বাচনী কারচুপিতে দেশি-বিদেশি মহল যে ছিঃ ছিঃ করেছিল, সেটি জাস্টিস সায়েমের বইয়ে উঠে এসেছে l জাতির পিতার হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জিয়া সশরীরে পিতার হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া খুনিদের বিদেশে কূটনীতিকের চাকরি দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল l জাতির পিতার হত্যার বিচার বন্ধ রাখতে জিয়া-এরশাদ-খালেদা ইনডেমনিটি আইন বহাল রেখেছিল l 

সাম্প্রতিক সময়ে গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করা বিএনপির ইতিহাস এত কুৎসিত, যা স্বল্প সময়ে বর্ণনা করা যায় না l তারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চেয়েছিল। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল l ১৫ ফেব্রুয়ারির একদলীয় ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল l তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল l মা-ছেলের নির্দেশে গ্রেনেড হামলা করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ গোটা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে হত্যা করে দেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল l ক্ষমতায় থাকতে তারা  আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল l এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদেশে লবিস্টের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি খরচ করে  দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে l এই টাকা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় পাচার হওয়া দুর্নীতির টাকা l 

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির কর্মকাণ্ড এবং তাদের নেতাদের বক্তব্য শুনলেই বোঝা যায়, তারা কোন ধরনের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় l নির্বাচনে তারা কিভাবে অংশ নিতে চায় l তাদের পুরনো চরিত্র আর মানসিকতার যে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি, গত কয়েক দিনে সেটিই তারা প্রমাণ করল l তাদের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে, এখনো তারা আশির দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরু-বাবলুর সন্ত্রাসী রাজনীতির দর্শনে মজে আছে l রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে আজ বিশ্বে নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, বাংলাদেশ যে একুশ শতকে এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তথ্য-প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়ার অপেক্ষায় আছে, সেই তথ্য কি অর্ধশিক্ষিত আমানউল্লাহ আমানের বাহিনী জানে? এরা এখনো  মধ্যযুগীয় মানসিকতা নিয়ে বসে আছে l এই মধ্যযুগীয় শক্তিকে আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে l সেটা এখনই l

বিজ্ঞাপন



সাতদিনের সেরা