kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০২২ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মায়ের মতো ম্যানেজার...আলোর মশাল জ্বালিয়েছেন প্রশিক্ষক

নিয়ামুল কবীর সজল   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৫:৪৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মায়ের মতো ম্যানেজার...আলোর মশাল জ্বালিয়েছেন প্রশিক্ষক

আক্ষরিক অর্থেই দেশে নারী ফুটবলের বিপ্লব শুরু হয়েছিল ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার কলসিন্দুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এই বিদ্যালয়ের তৎকালীন শিক্ষক মফিজ উদ্দিন কলসিন্দুরে মেয়েদের ফুটবলে আলোর মশাল জ্বালিয়েছিলেন। তিনি প্রশিক্ষণও দিয়েছেন। আর এদের অভিভাবকের ভূমিকায় ছিলেন কলসিন্দুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও কলসিন্দুর নারী ফুটবল দলের ম্যানেজার মালা রানী সরকার।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যেক মেয়েকে সন্তানের মতো পরম মমতায় আগলে রেখেছেন এই দুজন। শুধু খেলাধুলাই নয়, সুখে-অসুখে মেয়েদের ভরসার নাম মালা রানী সরকার। তাঁর কারণে অভিভাবকরাও এখন নিশ্চিন্ত থাকেন মেয়েদের নিয়ে। মালা রানী সরকারের সঙ্গে কলসিন্দুরের ফুটবলকন্যাদের সম্পর্ক মায়ের মতো, একজন বন্ধুর মতো।  

মালা রানী  বললেন, ‘মেয়েরা খেলাধুলায় এগিয়ে এলে বন্ধ হবে বাল্যবিবাহ, ইভ টিজিংসহ নানা সামাজিক অনাচার। অভিভাবকদের বুঝিয়েছি, ফুটবল খেললে মেয়েরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে। সমাজে ওদের অধিকার ও সম্মান বাড়বে। শুরুতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকলেও এখন তাঁরাও মেয়েদের নিয়ে নির্ভার থাকেন। এটাই বোধ হয় বড় পাওয়া। ’ 

মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘সানজিদা আক্তার, মারিয়া মান্ডা, শিউলি আজিম, তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার সিনিয়র, শামসুন্নাহার জুনিয়র, সাজেদা খাতুন ও মার্জিয়া আক্তারের মতো ফুটবলার তৈরি করতে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। অজপাড়াগাঁয়ের এই মেয়েদের ফুটবল খেলাকে অনেকে ভালো চোখে দেখেনি। পরিবার থেকেও তেমন একটা সহায়তা পাওয়া যায়নি। ’ তাঁর কথার সুর ধরে মালা রানী সরকার বলেন, ‘প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিকে যখন তারা ভর্তি হয়, তখন ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বাধা আসে। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের মধ্যে শারীরিক নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। এ সময় তাদের ফুটবল খেলা পরিবার ও স্থানীয় লোকজন ভালোভাবে নেয়নি। ’ এখন সেই মেয়েদের সাফল্যে দারুণ খুশি মালা রানী। বললেন, ‘এরাই একদিন বিশ্ব জয় করবে। ’ কর্মসূত্রে মফিজ উদ্দিন এখন রণসিংহপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক। জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলারের সঙ্গে এখনো নিয়মিত যোগাযোগ হয় তাঁর। বললেন, ‘মেয়েদের জন্য এখন অনেকেই এগিয়ে আসছে দেখে ভালো লাগছে। ’



সাতদিনের সেরা