kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০২২ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইকিপালিন : প্রিয়জন মারা গেলেই আঙুল কাটতে হয় নারীদের!

অনলাইন ডেস্ক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৫:০১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইকিপালিন : প্রিয়জন মারা গেলেই আঙুল কাটতে হয় নারীদের!

শোক বা মন খারাপ এগুলো মানসিক ব্যথা। কান্না করে অনেকে প্রকাশ করে। এই ব্যথা দেখানো যায় না। তবে দানি নামের এক উপজাতি নারীদের জন্য মনের ব্যথার সঙ্গে শারীরিক ব্যথাও জড়িত।

বিজ্ঞাপন

আজও পৃথিবীর নানা প্রান্তে প্রচলিত রয়েছে নানা আজব সংস্কৃতি। এগুলো আধুনিক যুগে আস্তে আস্তে কমে এলেও এখনো কিছু রয়ে গেছে। তেমনই এক আজব সংস্কৃতি আঙুল কাটার সংস্কৃতি।  

ইন্দোনেশিয়ার এই দানি উপজাতির নারী সদস্যদের মৃত আত্মা থেকে রক্ষা করার জন্য তাদের আঙুলের ওপরের অর্ধেক কেটে ফেলা হয়। তারা বিশ্বাস করে যে কাটা আঙুল মৃত ব্যক্তির আত্মাকে শান্তি দেয় এবং সেই সঙ্গে এটি শোকযন্ত্রণার প্রতীক। আরো অবাক করা বিষয় হলো, মায়েরা তাদের সন্তানদের আঙুলও কামড়ে দেয় মৃত ব্যক্তির আত্নার শান্তির জন্য। সেই কারণেই শতাব্দীর পর শতাব্দী এই রীতি চলে আসছে।   

আঙুল কেটে ফেলার এই অদ্ভুত রীতিকে বলা হয় ইকিপালিন। কয়েক বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার সরকার নিষিদ্ধ করেছিল এই প্রথাকে। কিন্তু এই উপজাতির অনেক বয়স্ক নারী সদস্যের হাত দেখে বোঝা যায়, তারা এখনো এই প্রথায়  বিশ্বাসী। এবং গোপনেই তারা এই কাজ করছে।  

এই আঙুল কাটার রীতি শহরে নেই, গ্রামে। বিশেষ একটি জাতিকেন্দ্রিক। তবে বিস্ময়ের কথা হলো, শুধু মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য এই প্রথা। অর্থাৎ যদি বাড়ির কেউ মারা যান তাহলে নারীদের আঙুল কেটে ফেলতে হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে এমন কোনো রেওয়াজ নেই। এই নিয়ম মেনে পরিবারের যতজন মারা যাবেন সেই অনুসারে নারীদের একটি করে আঙুল কাটা হবে। তারা মনে করে আঙুল কেটে ফেলার পর নরীরা যে ব্যথা পায়, সেটিই শোক প্রকাশের ধরন। আর সেই যন্ত্রণাই মৃত ব্যক্তির আত্মাকে শান্তি দেয়।   

আঙুল কাটার আগে দড়ি বেঁধে দেওয়া হয়। তাতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ব্যথার বোধও কিছুটা কমে। তারপর পাথরের ফলা দিয়ে কেটে ফেলা হয় আঙুল। আরো নানা রকম পদ্ধতিও চলে আঙুল কাটার ক্ষেত্রে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আগের পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়।

সূত্র : নিউজ ডটকম ডট এ ইউ।



সাতদিনের সেরা