kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

এবার তিন পাতিহাঁসের ধূসর ডিম!

ভোলা প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৯:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার তিন পাতিহাঁসের ধূসর ডিম!

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় পাতিহাঁসের কালো ডিম নিয়ে চাঞ্চল্যের রেশ না কাটতেই এবার দেখা মিলছে পাতিহাঁসের ধূসর রঙের ডিমের। আজ শনিবার সকালে চরফ্যাশনের তিনটি বাড়ি থেকে তিন হাঁসের এ ডিম পাড়ার খবর আসে। তবে দেশি পাতিহাঁসের এমন রঙের ডিম হয় না বলে দাবি করছেন স্থানীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা।

শনিবার সকালে চরফ্যাশন পৌরসভা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকতারুল আলম সামুর বাড়িতে জুলেখা নামের এক গৃহবধূর পালন করা একটি দেশি পাতিহাঁস গত দুই দিন ধরে ধূসর রঙের ডিম দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

একই ওয়ার্ডের মালতিয়া বাড়ির রাফিজ মালতিয়াও জানিয়েছেন তাদের বাড়িতে একটি হাঁসে এ রঙের ডিম দিয়েছে।  

অপর দিকে চরফ্যাশন পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবু বেপারী বাড়ির বাসিন্দা মো. দুলাল জানান, তার পালন করা একটি পাতিহাঁস গত সাতদিনে সাতটি ধূসর রঙের ডিম দিয়েছে। তবে বিষয়টি তিনি স্বাভাবিক মনে করে কাউকে জানাননি। এখন ফেসবুকে এটি নিয়ে লেখালেখি দেখে তিনিও বিষয়টি সবাইকে জানিয়েছেন।  

এদিকে, প্রথমে কালো ডিম দেওয়া আব্দুল মতিনের হাঁসটি দুইটি ডিম দেওয়ার পর গত দুই দিনে আর কোনো ডিম দেয়নি বলে জানা গেছে। আব্দুল মতিন জানান, তার হাঁসটি অত্যাধিক মানুষের সমাগমের কারণে অনেকটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

হাঁসের এমন ডিম পাড়া নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটি উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বা হাঁসের নতুন কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে। অনেকে আবার বলছেন, অন্য প্রজাতির পাখির সঙ্গে প্রজননের কারণেও এমনটা ঘটতে পারে।

চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকতারুল আলম সামু জানান, গত দুই দিন ধরে তাদের বাড়ির পালিত একটি হাঁস ধূসর রঙের ডিম দিয়ে আসছে। এর আগে এমন রঙের ডিম কখনও দেয়নি। এমন ডিম খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে কি না- তা নিয়ে তারা খুবই চিন্তিত।

হাঁসের মালিক গৃহবধূ জুলেখা আক্তার জানান, তিনি তিনটি হাঁস লালন-পালন করে আসছেন। সব কয়টির বয়স ৯ মাসের ওপরে। গত শুক্র ও শনিবার একটি হাঁস দুইটি ডিম দেয়। সেগুলো স্বাভাবিক ডিমের মতো সাদা নয়, অস্বাভাবিক ও ধূসর রঙের।

হাঁসের অস্বাভাবিক রঙের ডিম পাড়ার খবর পেয়ে জুলেখা আক্তারের বাড়িতে ছুটে যান উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা। চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শংকর কৃষ্ণ দাস জানান, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পেয়েছেন। তবে এসকল ঘটনা আশ্চর্যজনক মনে হচ্ছে। কারণ এ ধরনের ঘটনা এর আগে বাংলাদেশে ঘটেনি। এ ডিমগুলো পুরোপুরি কালো না হলেও ধূসর কালো বর্ণের। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন তিনি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মন্ডল জানান, প্রথমে গত ২১ সেপ্টেম্বর আব্দুল মতিন নামের একজনের বাড়িতে হাঁসের কালো ডিম দেওয়ার খবর পেয়েছেন তারা। এ খবরটি জানার পর বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তবে আজকে (শনিবার) চরফ্যাশনের আরো তিনটি স্থান থেকে এ রকম খবর আসার পর বিষয়টি অনেকটা পরিষ্কার মনে হচ্ছে যে, কোনোভাবে অন্য কোনো জাতের পাখির সঙ্গে পূর্বের কোনো হাঁসের প্রজনন হয়েছে।  

তিনি বলেন, ‘আমেরিকার নিউ ইয়র্কের স্থানীয় কয়োগা প্রাজাতির হাঁস এ ধরনের ডিম দেয় বলে জানা গেছে। তবে ওই প্রজাতির হাঁস বাংলাদেশে আসে নাই। শীতকালে কয়েকটি প্রজাতির হাঁস (অতিথি পাখি) আমাদের উপকূলীয় এলাকায় আসে। সে সময় কোনোভাবে দেশি জাতের হাঁসের সঙ্গে প্রজনন হতে পারে। তারপরও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানা যাবে। ’



সাতদিনের সেরা