kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

২৭ কৃষিযন্ত্র বানিয়েছে আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৭ কৃষিযন্ত্র বানিয়েছে আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বিসিক শিল্পনগরীতে তৈরি আলীম ইন্ডাস্ট্রিজের কৃষিযন্ত্র। ছবি : কালের কণ্ঠ

কৃষিকাজে শ্রমিকসংকট বাড়ছে। ফলে চাহিদা বাড়ছে কৃষিযন্ত্রের। এ জন্য কয়েক বছর ধরেই কয়েক হাজার কোটি টাকার কৃষিযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

সম্প্রতি দেশের কৃষিযন্ত্রের চাহিদা মেটাতে বেশ সফল হয়েছে আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

বিজ্ঞাপন

প্রতিষ্ঠানটি কৃষি খাতের ২৭ ধরনের যন্ত্রপাতি উৎপাদন করছে। রপ্তানিও শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এম এ আলীম চৌধুরী মূলত জেমস ফিনলে চা-বাগানের চিফ মেকানিক ছিলেন। ১৯৬৫ সালে চাকরি ছেড়ে প্রথমে আসলম ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ১৯৭৬ সালে নিউ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। অটোমোবাইলসের কাজ, রাইস মিলের হলার তৈরি, চা-বাগানের প্যাকেজিং—সব কাজ করত তাঁর প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৬ সালে প্রথমবার দেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা হলে সেখানে প্রথম হয় তাঁর প্রতিষ্ঠান। বিসিক শিল্পনগরে ১৯৯০ সালে নিজের নামে আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন এম এ আলীম চৌধুরী।

উত্তর-পূর্ব জনপদে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি এখন কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে তিমুরলিস্ট, মেক্সিকো, ভারত ও নাইজেরিয়ায় রপ্তানি করা হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানের পণ্য। কৃষি খাতের ২৭ ধরনের যন্ত্রপাতি উৎপাদন করে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে পাওয়ার টিলার, পাওয়ার থ্রেসার, মেইজ শেলার, রিপার, পাওয়ার টিলার অপারেটেড উইডারসহ সাতটি যন্ত্রের মেধাস্বত্ব তাদের। বাকি কৃষিযন্ত্রগুলো বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বারি) এবং বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (বিরি) নকশা করা। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমওইউয়ের মাধ্যমে এগুলোও উৎপাদন করছে তারা।

পাশাপাশি বেশ কিছু কৃষিযন্ত্র আমদানি করে বাজারজাত করে তারা। সম্প্রতি বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যৌথভাবে কম্বাইন্ড হারভেস্টর স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের চুক্তি হয়েছে তাদের। আমদানি করা কৃষিযন্ত্রটি এখন দেশেই তৈরি করা হবে।

২০০৪ সালে আলীম ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা এম এ আলীম চৌধুরী মারা যান। তবে মৃত্যুর অনেক আগেই তাঁর দুই ছেলেকে এ কার্যক্রমে যুক্ত করেছিলেন আলীম। ফলে বাবার মৃত্যুর পর কম্পানির হাল ধরতে তাঁদের বেশি বেগ পেতে হয়নি। আলীমুস সাদাত বর্তমানে কম্পানির চেয়ারম্যান এবং আলীমুল এহছান চৌধুরী ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পারিবারিক ব্যবসায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এখন বিসিকে ছয়টি প্লটে বিস্তৃত তাদের কার্যক্রম। সিলেট ছাড়াও হবিগঞ্জ, কুমিল্লা ও রংপুরে আলীম ইন্ডাস্ট্রির বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। দেশের যেকোনো স্থানে আট ঘণ্টার মধ্যে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ছোট-বড় ১৫০ ডিলার। এ জন্য ৫০ জনের প্রশিক্ষিত একটি দল রয়েছে।

ভালো কাজের স্বীকৃতিও মিলেছে তাদের। ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প পদক, এআইপি (অ্যাগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্ট পারসন) স্বীকৃতিও পেয়েছে আইএসও সনদপ্রাপ্ত এ প্রতিষ্ঠান। মানসম্পন্ন পণ্য তৈরির জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় প্রদত্ত কোয়ালিটি অ্যান্ড প্রডাক্টিভিটি এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড (২০১৭) পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আলীম ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলীমুল এহছান চৌধুরী বলেন, ‘শুরুতে বাবাকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগোতে হয়েছে। জমি ছিল না। ভাড়া জায়গায় কাজ করতেন। পরে যখন জমি মিলল তখন ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য পর্যাপ্ত পুঁজি নেই। সে সময় ব্যাংকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে। অর্থ পেলেও তা ছিল অনেক ব্যয়বহুল। ’

এখনো সংকট কাটেনি জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষ জনবলের অভাব এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একটা মেশিন বিক্রি করেই শেষ হয় না। কৃষক তো চালাতে পারেন না। তাঁকে হাতে-কলমে শিখিয়ে দিতে হয়। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক টেকনিক্যাল বিষয়েও কৃষককে প্রশিক্ষণ দিতে হয়।



সাতদিনের সেরা