kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কলসিন্দুর থেকে সারা দেশ মাটির রত্নকারদের কথা

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৯:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কলসিন্দুর থেকে সারা দেশ মাটির রত্নকারদের কথা

কলসিন্দুর এখন কবেল একটি গ্রামের নাম নয়। পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের তীর্থ স্থানে। ময়মনিসংহ জেলার প্রত্যন্ত সেই গ্রাম নাম আজ  দেশের সীমানা পেড়িয়ে গেছে।

সাফ শিরোপা জয়ী দলের আটজনই ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের একটি গ্রামের সন্তান।

বিজ্ঞাপন

দেশের নারী ফুটবল এগিয়ে যাবে। এগিয়ে যাওয়ার আলোকিত সড়ক তৈরি হয়েছে। যতই এগিয়ে যাবে বারবার উঠে আসবে কলসিন্দুর নাম।

এই কলসিন্দুর মেয়েদের এগিয়ে যাওয়ার গল্পটা এতো সহজ ছিলো না। সেই কঠিন গল্পের অন্যতম কারিগর কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক মফিজ উদ্দিন। তিনিই নিজের ছাত্রীদের মাধ্যমে সারা দেশে এবং পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় জাদু দেখিয়েছেন। ঠিক একইভাবে সাতক্ষীরায় ছিলেন একজন স্থানীয় কোচ আকবর আলীর। স্থানীয় কোচ যার সাধনায় আজকের সাবিনা ও মাসুরা। রংপুরের মিলন খান, হারুন রশীদ তুলে এনেছেন সদ্যপুষ্করিণী গ্রামে সিরাত জাহান স্বপ্নাকে।

পাহাড়ের মেয়ে শিরোপাজয়ী ও দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোলকিপার রূপনা চাকমা, আনাই মগিনি, আনুচিং মগিনি ঋতুপর্ণা চাকমা ও মনিকাসহ এই পাঁচজনও এই পর্যায়ে উঠে আসার পেছনে শিক্ষক শান্তিমণি চাকমা ও বীরসেন চাকমার মতো কিছু মানুষ রয়েছে। তারা পাহারের পাথরে ফুল ফুটিয়েছেন যার সুভাস ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সীমানার বাহিরে।

একইভাবে এবারের শিরোপা জয়ের অন্যতম কারিগর টাঙ্গাইলের গোপালপুরের কৃষ্ণা রানী সরকার দরজি বাবার সন্তান। স্কুলের ক্রীড়াশিক্ষক গোলাম রায়হান এ কৃষ্ণার মধ্যে আলোর বিচ্ছুরণ দেখতে পেয়ে ছিলেন। সত্যি সে আলোকিত করে দিয়েছে পুরো দেশ। এসব প্রশক্ষিকরে নাম উঠে এসেছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে।

এই যে স্কুল শিক্ষক মফিজ উদ্দিন, ক্রীড়াশিক্ষক গোলাম রায়হান, আকবর আলী, মিলন খান, হারুন রশীদ, শান্তিমণি ও বীরসেনরা কখনো কিছু পাবে এ আসায় এই মেয়েদের ফুটবল খেলা শিখানোর জন্য কাজ করেননি। তারা  নিছক কিছু লুকায়িত স্বপ্নকে উছকে দিয়েছেন। একটু এগিয়ে যাওয়ার পথটা দেখিয়ে দিয়েছেন।

অজ পাড়াগাঁয়ে পরে থাকা মেয়েদের ভিতরের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষাকে জাগিয়ে দিয়েছেন। অন্ধকার পাড়া গ্রামে পরে থাকা রত্ন খুঁজে বের করা এই মানুষেরই প্রকৃত রত্নকার। যাকে জহুরী বলে। সত্যিকার জহুরীরাই রত্ন চেনেন। কিন্তু এই জহুরীদের আমরা কি মূল্যায়ন করি? বা অতীতে কখনোও করেছি। সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে নিজেরা অর্থ ব্যয় করে কোচ ও শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মতো তিল তিল করে যাদের গড়ে তুলেছেন সেই মেয়েরা আজ সারা দেশের রত্ন, অহংকার। তারা সেরা পুরো দক্ষিণ এশিয়ায়।

মাটি থেকে কষ্টকরে তুলে আনা মেয়েদের সেই সকল প্রশিক্ষক শিক্ষকদের কী আমরা সম্মান জানাতে পারি না? তাদের কষ্ট ও ত্যাগের ফসল আজ সারা দেশের। মাটি নিসৃত এসব কোচ বা প্রশিক্ষক ও শিক্ষক যাদের কল্যাণে নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশীয়ার শ্রেষ্টত্বের বীজ রোপিত হয়েছিলো তাদেরও আমাদের সম্মান জানানো উচিত। তাহলে এমন অনেকেই এগিয়ে আসবেন, এগিয়ে যাবে আমাদের ক্রীড়াঙ্গন।



সাতদিনের সেরা