kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ছোটখাটো এক বুড়ি ‘বাবা অনুজকা’, ছিলেন কুখ্যাত এক সিরিয়াল কিলার

অনলাইন ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৫:১২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ছোটখাটো এক বুড়ি ‘বাবা অনুজকা’, ছিলেন কুখ্যাত এক সিরিয়াল কিলার

আনা ডি পিসটোনজা যিনি ‘বাবা অনুজকা’ আবার ‘বানাট ডাইনি’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি একজন রসায়নবিদ ছিলেন। ১৯ শতকের শেষের দিকে এবং ২০ শতকের প্রথম দিকে ১৫০ জনের মতো মানুষকে হত্যা করেন তিনি। রসায়নবিদ হওয়ার দক্ষতা কাজে লাগিয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি।

বিজ্ঞাপন

বাবা অনুজকা রহস্যে ঘেরা। কিছু উৎসের দাবি, ১৮৩৮ সালে আধুনিক রোমানিয়ার বানাত অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। তবে তার জীবন বর্তমান যুগোস্লাভিয়ার সার্বিয়ার ভয়েভোডিনা প্রদেশের ভ্লাদিমিরোভাক গ্রামে কেটেছিল। একজন ধনী গবাদি পশু পালনকারীরর কন্যা হিসেবে তার ছিল আরামদায়ক শৈশব। ভালো শিক্ষা নিতেও পেরেছিলেন বলে কথিত আছে। তিনি রসায়ন নিয়ে পড়েছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে রোগ নিরাময়কারী এবং জাদুকরী হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। কিন্তু মানুষের প্রতি তার ঘৃণা জন্মায় যখন একজন অস্ট্রিয়ান অফিসারের প্রতি ভালোবাসা জন্মে। কিন্তু বিশের দশকের প্রথম দিকে সেই অস্ট্রিয়ান অফিসার তার হৃদয় ভেঙে দেন এবং সিফিলিস রোগে সংক্রমণ করে তাকে ছেড়ে চলে যান।  

এই ঘটনার পর কয়েক বছর নিজেকে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার পর, আনা ডি পিস্টনজা নামের একজন জমির মালিককে বিয়ে করেছিলেন। যার সাথে তার পাঁচটি সন্তান ছিল। দুর্ভাগ্যবশত সন্তানদের মধ্যে শুধু একজন বড় হতে পেরেছিল, বাকিরা মারা যায়। তার স্বামী তার চেয়ে বয়সে অনেক বড় ছিলেন এবং তাদের বিয়ের ২০ বছর পরে তার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পরেই তিনি ‘বানাত ডাইনি’ নামে পরিচিত হয়েছিলেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর অনুজকা তাদের বাড়ির একটি অংশকে রসায়ন গবেষণাগারে পরিণত করেছিলেন। যেখানে তিনি বিভিন্ন মিশ্রণ নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন। অতি দ্রুতই একজন ভেষজবিদ এবং সমস্যা সমাধানকারী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। যারা তার কাছে যেত তাদেরকে বিভিন্ন ওষুধ দিতেন।

তিনি কিছু বিতর্কিত ওষুধের সাথে জড়িত ছিলেন। যেমন সামরিক চাকরি থেকে বের হয়ে আসার জন্য তিনি সৈন্যদের বিষাক্ত ওষুধের মাধ্যমে  অসুস্থ বানিয়ে দিতেন। আবার স্ত্রীরা একধরনের ‘জাদুর পানি’ ব্যবহার করে স্বামীদের কাছ থেকে নিজেদের মুক্ত করতেন। উইকিপিডিয়া অনুসারে, যুগোস্লাভিয়ার এই  অপেশাদার রসায়নবিদের কাছে যারা আসত তারা যদি বলত বিবাহিত জীবনে সমস্যা। তখন অনুজকা তার মক্কেলদের জিজ্ঞেস করতেন, সমস্যা কতটা ভারী? যার অর্থ হলো ভুক্তভোগীর শরীরের ওজন কত? তারপর তিনি সমস্যা দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্সেনিকের ডোজ গণনা শুরু করতেন। কেউ বুঝতেই পারবে না যে তাদের বিষ দেওয়া হয়েছে। বাবা অনুজকা যাদের ‘জাদুর পানি’ দিতেন তাদের বেশির ভাগই মহিলা ছিলেন। স্বামীদের জন্য তারা এই জাদুর পানি নিতেন। জাদুর পানির কারণে আট দিনের মধ্যেই মানুষটি মারা যেত। এই বৃদ্ধ মহিলা ৫০ থেকে ১৫০ জন মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়।

১৯২০ সাল নাগাদ ‘বানাট ডাইন’ জাদুর পানির ব্যবসা এতটাই লাভজনক হয়ে উঠেছিল যে তার একজন ‘সেলস এজেন্ট’ নিয়োগ করতে হয়েছিল। যার একমাত্র কাজ ছিল সম্ভাব্য মক্কেলদের খুঁজে বের করা এবং তাদের এই রসায়নবিদের কাছে নিয়ে আসা। খুব কম মানুষই তার জাদুর পানির বৈজ্ঞানিক কারণ বুঝতে পেরেছিল। তাই বেশির ভাগ মানুষ বিশ্বাস করেছিল তার অতিপ্রাকৃত কোনো শক্তি আছে। এভাবে বাবা অনুজকা প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন। ফলে তার লোভও বেড়ে গিয়েছিল দ্বিগুণ।  

১৯২৪ সালে বাবা অনুজকার নিয়মিত একজন মক্কেল স্ট্যানা মোমিরভ তার স্বামী লাজার লুডোস্কিকে হত্যা করার জন্য জাদুর পানি ব্যবহার করেছিলেন। পরে যখন তার দ্বিতীয় স্বামীর একজন চাচা একইভাবে মারা যান, তখন কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। এর পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এরপর ১৯২৬ সালের ডিসেম্বরে বাবা অনুজকা সিমা মোমিরভ এবং তার স্ত্রী সোফিজার কাছে জাদুর পানি বিক্রি করেছিলেন। যেটা সিমার ৭০ বছর বয়সী বাবা নিকোলাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল। তারা সফলও হয়েছিলেন; কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বাবা অনুজকাকে হত্যাকাণ্ডে সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

স্ট্যান এবং সিমা মোমিরভের কাছে জাদুর পানি বিক্রি করার কথা অস্বীকার করেন বাবা অনুজকা। কিন্তু মৃতদেহ পরীক্ষা করে আর্সেনিকের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল।  পরে বাবা অনুজকার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপরই এই জনপ্রিয় ভেষজবিদকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সাজা হওয়ার সময় তার বয়স ছিল ৯০ বছর।   কিন্তু তার বয়স বেশি হওয়ার কারণে মুক্তি পাওয়ার আগেই তিনি জেল থেকে বের হয়ে যান।

বাবা অনুজকা তার জীবনের শেষ দুই বছর ভ্লাদিমিরোভাকে গ্রামের বাড়িতে কাটিয়েছিলেন। তিনি ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৮ সালে ১০০ বছর বয়সে মারা যান। কিন্তু মানব ইতিহাসের অন্যতম সেরা সিরিয়াল কিলার হিসেবে তার খ্যাতি কিংবদন্তি হয়ে ওঠে।

সূত্র : অডিটি সেন্ট্রাল।



সাতদিনের সেরা